• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

‘আমার এলাকার জনগণকে ভালো রাখবে সৃষ্টিকর্তা’

বরগুনা প্রতিনিধি
|  ০৯ জুন ২০১৮, ১২:৫৬ | আপডেট : ০৯ জুন ২০১৮, ১৩:১১
বরগুনার পাথরঘাটা কাকচিড়া ইউনিয়নের অজপাড়াগাঁয়ে ১৮৯ পরিবারের মাঝে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন করেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন। 

গেল সপ্তাহে এমপি রিমন ওমরাহ্ হজ পালন করতে যাওয়ার আগে বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে তিনি। 
সেসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নই তার মূল লক্ষ্য। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করণ চালু করেছে। কারণ হলো দারিদ্র মুক্ত করে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। বর্তমান সরকারের ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। আমাদের সামনের পরিকল্পনা ২৬ হাজার মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। 
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নেই: নৌমন্ত্রী
--------------------------------------------------------

তিনি বলেন, বামনায় শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে, পাথরঘাটা-বেতাগীতে ৮০% বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। আমি যখন এমপি হয়েছি তখন পাথরঘাটায় ৮৩৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ প্রয়োজন ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর কাছ থেকে ৪ শত কিলোমিটার বিদ্যুৎ বরাদ্দ আনি।  পাথরঘাটায় ৮৩৫ কিলোমিটার বিদ্যুতের টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। শুধু খুঁটির স্বল্পতার কারণে দেরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার যে কমিটমেন্ট তা জনগণ পাবে। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছেন। তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে আমরা অনেক এগিয়ে গিয়েছি। আগে আমরা স্যাটেলাইট ভাড়া নিতাম এখন আমরা স্যাটেলাইট ভাড়া দিবো। শিশুদের হাতে সময়মত বই পৌঁছে দিচ্ছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল সুবিধায় আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে খুব দ্রুত সময় যোগাযোগ করতে পারছি। এই শিংড়াবুনিয়ায় একসময় হেরিংবন ছিল, এখন পাকা রাস্তা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এক সময় ঘরের সামনে ভিক্ষুক দেখা যেত, আজ তেমন ভিক্ষুক দেখা যায় না। পাথরঘাটা থেকে আমুয়া ১৮ ফিট চেওড়া রাস্তা হবে। ১০৫ কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চেয়েছি তিনি দিয়েছেন এবং একনেকে পাস হয়েছে। ২/৩ মাসের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। আমি সংসদে বিষখালী নদীর উপর ব্রিজ চেয়েছি। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১০ কোটি টাকা দিয়েছেন বিষখালী নদীতে সমীক্ষার জন্য। আগামী ৪ বছরের মধ্যে বিষখালীর উপর ব্রিজ হবে। এ ব্রিজটি করতে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার দরকার হবে। 

আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, বিষখালীতে ব্রিজ হওয়ার পরে বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অর্থনৈতিকভাবে সকলের উন্নতি ঘটবে। পদ্মা সেতু হচ্ছে, পদ্মা সেতুর নিচ থেকে ট্রেন লাইন হচ্ছে। এক সময় এই এলাকার জনগণ ট্রেনে ঢাকা যাবে। ১৭শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হয়েছে পটুয়াখালী ও বরগুনা। সেখানে আমি ৫শ’ কোটি টাকা চেয়েছি। সচিব বদলি হওয়ায় এখন থেমে আছে। বামনা, পাথরঘাটা, বেতাগীর যেসকল রাস্তা এখনও কাচা আছে সেগুলি পাকা রাস্তায় রূপান্তরিত করা হবে। কোন রাস্তা কাঁচা থাকবে না। 

তিনি বলেন, সামনে ক্ষমতায় এলে যারা দুই নাম্বারি করে মানুষের হক ঠকিয়ে বড় বড় অট্টালিকা করেছেন তাদের রেহাই হবে না। মাদক এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আমাদের দেশের প্রশাসন। আজ বামবা, পাথরঘাটা ও বেতাগীর মানুষ ভালো আছে। তারা কোনো হয়রানীর মধ্যে নেই। আমি ভালো থাকার চেষ্টা করি, ভালো রাখার মালিক সৃষ্টিকর্তা। আমি যদি সততার সঙ্গে চলি সৃষ্টিকর্তার হুকুম মেনে চলি, তাহলে সৃষ্টিকর্তা খুশি হয়ে আমার এলাকার লোকজন ভালো রাখবেন।

আরও পড়ুন : 

এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়