• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫

হুইপের পদ থেকে আতিকের অপসারণের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার, শেরপুর
|  ২১ মে ২০১৮, ১১:১৭ | আপডেট : ২১ মে ২০১৮, ১১:২৯
শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিকের দলীয় জেলা সভাপতির পদ ও জাতীয় সংসদের হুইপের পদ থেকে অপসারণের দাবীতে শহরে ঝাড়ু মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা আওয়ামী লীগের একাংশ। 

গেলো শনিবার (১৯ মে) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিকের সভাপতিত্বে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর জেলা থেকে প্রত্যাহার ও শেরপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য এ. কে. এম ফজলুল হকসহ ৫ জনকে বহিষ্কার এবং নালিতাবাড়ী উপজেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিবাদে এ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়। 

রোববার বিকেলে শহরের খরমপুরস্থ জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, হুইপ আতিক বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশ কাটিয়ে রাজাকার সন্তানদের নিয়ে একটি পকেট কমিটি করেছে। যার প্রতিকারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি রিভিউ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে। যা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে রয়েছে। 

পরে হুইপ আতিকের অপসারণের দাবীতে শহরে ঝাড়ু মিছিল করা হয় এবং হুইপের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

গেলো শনিবার শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 

সেইদিন রাতে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সভার এসব সিদ্ধান্তসমূহ সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়। 

শহরের চকবাজার জেলা আ. লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫২ জন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল, জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. খোরশেদুজ্জামান চেয়ারম্যান, সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মিনাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপল বক্তব্য রাখেন। 

ওইদিন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপল জানান, সভায় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সেগুলো হলো- ১. মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর জেলা থেকে প্রত্যাহার। ২. শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক চাঁন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুন্নাহার কামাল, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল হক ও নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহকে শেরপুর জেলা আ. লীগের কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৩. দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নালিতাবাড়ী উপজেলা আ. লীগের কমিটির কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। ৪. দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় নকলা উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার স্থলে ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. বুরহানকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৫. প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শেরপুর জেলা আ. লীগের নেতাদের সাক্ষাতের সময় আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়