• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

বরিশালে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, আহত ২০

বরিশাল প্রতিনিধি
|  ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:০১ | আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৪৬
বরিশালে রিকশা শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের এসিসহ সাতজন কর্মকর্তা ও বেশ কয়েকজন রিকশা শ্রমিক আহত হয়েছেন। ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ বন্ধ করা ও লাইসেন্সের দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া শেষে রিকশা শ্রমিক ও বাসদের নেতাকর্মীরা বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় তাদের স্থান ত্যাগ করতে বললে পুলিশ ও রিকশা শ্রমিকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ রিকশা শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনায় পুলিশ বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ ছয়জনকে আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় আটক অন্যরা হলেন-বাসদ বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন, বরিশাল জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক নাসরিন আক্তার টুম্পা, জেলা শ্রমিক ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক মিঠুন চক্রবর্তী, সদস্য জাকির হোসেন ও নূর ইসলাম।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : মাদারীপুরে কোটি টাকা মূল্যের তক্ষক উদ্ধার
--------------------------------------------------------

বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ বন্ধ করা ও অবিলম্বে লাইসেন্স দেয়ার দাবিতে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থালা-বাসন নিয়ে মানববন্ধন করে ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক-মালিক সংগ্রাম কমিটি। এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের নেতাকর্মীরা। এরপরে থালা-বাসনসহ নগরীতে ভুখামিছিল বের করেন রিকশা শ্রমিকরা। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এরপরে নেতাকর্মীরা সিটি করপোরেশনে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপি দেয়া শেষে রিকশা শ্রমিক ও বাসদের নেতাকর্মীরা বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় তাদের স্থান ত্যাগ করতে বললে পুলিশ ও রিকশা শ্রমিকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ রিকশা শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আহতরা হলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহনাজ পারভীন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো. আওলাদ হোসেন, এসআই নজরুল ইসলাম, কনস্টেবল শারমিন, ইতি, সুরমা ও সাদিয়া। এছাড়াও রিকশা শ্রমিক ও বাসদের প্রায় ১৩ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এই বিষয়ে বরিশাল সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি সন্তু মিত্র আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রিকশা শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রউফ খান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রথমত এই কর্মসূচি করার জন্য তাদের কোনো অনুমতি ছিল না। কথা ছিল তারা সিটি করপোরেশনে গিয়েই তাদের কর্মসূচি শেষ করবে। কিন্তু তারা সেখান থেকে নগরীর ব্যস্ততম সড়ক জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে সরে যেতে বলা হলে তারা আমাদের পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তাই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে।

আরও পড়ুন : 

জেবি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়