• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

সোহাগী জাহান তনু হত্যার দুই বছর

‘আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই’

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২০ মার্চ ২০১৮, ১১:১০ | আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৮, ১১:১৫
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে আজ মঙ্গলবার। তবে তনুর খুনিরা আজও শনাক্ত হয়নি এবং মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতিও নেই। খুনি চিহ্নিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তনুর পরিবার, স্বজন ও বিশিষ্টজনরা।

তনুর পরিবার ঘাতকদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহত তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, গত ৮ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার এএসপি জালাল উদ্দীন আহমেদ দেখা করে গেছেন। তিনি এসে বললেন, আমরা বিষয়টা দেখতাছি। পুলিশ আসামিদের কেন ধরছে না, জানি না। আমার মেয়ে তো অ্যাকসিডেন্টে মারা যায়নি, মেরে ফেলেছে। তনুর বাবা তিন মাস ধরে অসুস্থ। বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। কেউ এখন আর আমাদের খোঁজ নেয় না। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: স্বামী-সন্তানের মরদেহ দেখে অচেতন হয়ে যান এ্যানি
--------------------------------------------------------

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফিরেননি তনু। পরে তার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পায় স্বজনরা। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা।

তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুষ্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রানু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও সিআইডি জানায়। তবে তাদের নাম জানানো হয়নি।

এদিকে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকা সিআইডি কার্যালয়ে বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, চাচাতো বোন লাইজু ও চাচাতো ভাই মিনহাজকে দিনভর পুরনো বিষয়গুলো জিজ্ঞাসা করেন ঢাকা সিআইডির কর্মকর্তারা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি-কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছি এবং ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন হবে।

আরও পড়ুন: 

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়