• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

১০ সিন্ডিকেটের প্রভাব

শ্রমবাজার বার বার বন্ধ হওয়া দেশের জন্য লজ্জার

মোস্তফা ইমরান রাজু, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
|  ২৯ আগস্ট ২০১৮, ২৩:২৩ | আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১০:১৩
মালয়েশিয়ায় আসতে সবচেয়ে বেশি টাকা গুনতে হয় বাংলাদেশের শ্রমিকদের। অথচ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তান এমনকি মিয়ানমারের শ্রমিকরাও তুলনামুলক কম খরচে মালয়েশিয়ায় আসতে পারে। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনার ক্ষেত্রে খরচের নেই কোনও নির্দিষ্ট পরিসীমা। এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী যার কাছ থেকে যতো ইচ্ছে হাতিয়ে নিচ্ছে। বেশি অর্থ নিয়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক আনার অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ের মতো, এর আগেও বিধিনিষেধ জারি করে মালয়েশিয়া সরকার। মালয়েশিয়া প্রবাসীরা বলছেন কিছু দিন পর পর বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার উপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিব্রতকর ও লজ্জার।    

একই সঙ্গে, একই প্রতিষ্ঠানে, একই বেতনে কাজ করছেন চট্টগ্রামের ওহাব, মঞ্জুরসহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক শ্রমিক। তারা বলছেন একই বেতন একই কাজ করলেও মালয়েশিয়ায় আসতে তাদের খরচ হয়েছে অন্যদের থেকে বেশি।

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করেছে মালয়েশিয়া সরকার- সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের লেবার কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম মুকুল বলেন, এটা বিভ্রান্তিকর খবর। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়নি। দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুবই ভালো। নতুন সরকার আগের পদ্ধতি বাদ দিয়ে সকল সোর্স কান্ট্রি'র জন্য ইউনিফাইড পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া করছে।

খুব শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও আসবে। শ্রম বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য সম্প্রতি দশ সিন্ডিকেটে’র বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এনে এর মাধ্যমে কোনও শ্রমিক না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।

অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সরকারি খরচ ধরা হয়েছিলো মাত্র ৩৭ হাজার টাকা। তবে বাস্তব চিত্র ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। দশ সিন্ডিকেটের যাতাকলে পড়ে এই ব্যয় গিয়ে দাঁড়ায় সাড়ে তিন লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ পর্যন্ত।

ক্ষমতার পালাবদলে, দুর্নীতির সঙ্গে আপোষহীন মাহাথির সরকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পায়। গেলো ১৪ই আগস্ট এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তুন মাহাথির মোহাম্মদের এ সংবাদ সম্মেলনের পর সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিলো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডক্টর মাহাথির উল্লেখ করেন, নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে একই নীতিতে জনশক্তি রপ্তানি করা হবে এবং তা সকল বৈধ এজেন্ট এর মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাংলাদেশকে জানিয়ে দেয় মাহাথির প্রশাসন।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে বাংলাদেশির নেতৃত্বে ১০টি কোম্পানির সিন্ডিকেট এ অনিয়ম করেছে তার রয়েছে উভয় দেশে প্রভাব। আর শ্রমিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অতিরিক্ত টাকার একটি অংশ তিনি বিতরণ করেন উভয় দেশের রাজনীতিবিদ এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

তবে নতুন সরকারের এ ঘোষণার  ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি সিন্ডিকেট মুক্ত হলো। একই সঙ্গে কম খরচে মালয়েশিয়ায় আসার পথ সুগম হলো বলে মনে করছেন মালয়েশিয়া প্রবাসীরা। 

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী ব্যাবসায়ী রাশেদ বাদল মনে করেন, একটি দেশের শ্রম বাজার কোনও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করবে এটা কোনোভাবেই যুক্তি সংগত নয়। সরকারের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সঠিক প্রক্রিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করার এখনই সময় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়