• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫

ভারত থেকে গরু আনতে হবে কেন?

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৮:৩১ | আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৯:৪১
আসছে কুরবানির ঈদ। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সামর্থবান মুসলমানরা তার নামে পশু জবাই করে থাকে। তাই এসময় কুরবানি যোগ্য পশুর চাহিদা সব থেকে বেশি থাকে। এখন ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন জেলার খামার মালিক ও কৃষকেরা। গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত তারা।

অনেক পশু ক্রেতা মনে করেন ঈদের সময় ভারত থেকে গরু না আসলে দেশে পশুর দাম হয়তো বাড়তি থাকে। তবে এসব কথার কোনও ভিত্তি নেই বলে জানান একটি অত্যাধুনিক পশু খামার ’সাদেক এগ্রোর’মালিক মো. এমরান হোসেইন।

---------------------------------------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন  : যানবাহনের ফিটনেস যাচাইয়ে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের
---------------------------------------------------------------------------------------------------

তিনি বলেন, চাহিদা মিটানোর জন্য যথেষ্ট গরু আছে। দেশি গরু দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব। ভারত থেকে গরু আনতে হবে না। গত বছরও ভারত থেকে গরু আসে নাই বললেই চলে। সেসময় কুরবানির জন্য গরুর কমতি ছিল না। গরুর দামও আয়ত্বের মধ্যে ছিল। ভারতে বর্ডার বন্ধ থাকায় আমাদের দেশের খামারিরা বেশ খুশিতেই ছিল। নিজেদের গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। তাই কোনও গুজবে কান না দেয়াই ভালো। দেশের খামারিদের উপর আস্তা রাখা উচিত। 

সাদেক এগ্রোতে সারা বছর পশু পালন করা হয়। এমরান এই খামার শুরু করছিল নয় বছর আগে দুটি গরু দিয়ে। এখন তার প্রায় ১২০০ গরু আছে। যার মধ্যে ১০০০ গরু কুরবানি যোগ্য বাকিগুলো গাভী।

মো. এমরান বলেন, আমার মত অনেক খামারিরা আছেন যারা খুব পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এটা একটি শিল্প হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। পাশাপাশি বেকারত্বও দূর হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আগে ভারত থেকে গরু আনা হতো। বর্তমানে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি গরুর চাহিদা অনেক বেড়েছে। অনেক যুবকরা পশুর খামার করছে। এ বিষয়ে অনেকে আমাদের কাছে পরামর্শ নিতে আসে। আমাদের দেশীয় আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, সূর্যালোক ইত্যাদি গরু পালনের জন্য খুবই উপযোগী।

এদিকে গেলো বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে নৌপরিবহন এবং মৎস্ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, কোরবানি ঈদের জন্য এবার প্রয়োজন থেকেও বেশি পশু আছে, ফলে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, গেলো কুরবানির ঈদে ১ কোটি ৪ লাখ পশু বেচাকেনা হয়েছে। এবার কুরবানিতে গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল মিলে ১ কোটি ১৬ লাখ মজুদ আছে। এগুলো কোরবানির ঈদে বেচাকেনার জন্য প্রস্তুত। এছাড়াও নিজেরাই পালন করে কোরবানি দেবে এমন পশুর সংখ্যা তিন লাখ।

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘গতবারের মতো এবারও বর্ডার এলাকায় গরু চোরাচালান যেন না হয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। এবারও ভারত থেকে গরু আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে কিছু গরু ট্যাক্স দিয়ে আসে। সেগুলো সংখ্যায় খুব কম। সেটা হিসাবের মধ্যে পড়ে না।’

আমাদের দেশে ১ কোটি ১৬ লাখ কুরবানির চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা দেশীয় পশু মেটাতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৬ কোটি মানুষ। আর কোরবানির চাহিদা ১ কোটি ১৬ লাখ। আমাদের দেশীয় পশু দিয়ে আমাদের কোরবানি চাহিদা পূরণ সম্ভব।’

অন্যদিকে কুরবানি ঈদকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা খামারিদের। পরম মমতায় সারাবছর গরু পালন করে খামারি ও প্রান্তিক চাষিরা। পশু হাটে ভালো দাম পাওয়ার আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কোরবানি উপযুক্ত পশু মালিকরা। তবে অনেক খামারিরা এই সময় শঙ্কায় থাকতে দেখা যায়। তাদের মতে, ভারত থেকে গুরু আসলে দেশীয় গরুর ভালো দাম পাওয়া যায়। অনেক সময় গরুর পেছনে যে খরচ করা হয় তাও উঠে না। তারা বলেন, দেশী গরুই পর্যাপ্ত আছে। ভারত বা মিয়ানমার থেকে গরু যেন দেশে না আসতে পারে।

মেহেরপুরের মালসাদহ গ্রামের খামারি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের গরুর খামারিরা দেশের মাংসের চাহিদা মেটানোর জন্য অনেক পরিশ্রম করছে। প্রত্যেক জেলায় খামারের সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে গরুর খাবারের দাম এবং শ্রমিকদের মজুরি অনেক বেশি। তার মধ্যে প্রত্যেক বছরই ঈদ আসলে আতঙ্কে থাকতে হয় যে ভারত থেকে গরু আসতে পারে। যদি আসে তাহলে আমরা ব্যবসায়ীরা ধ্বংস হয়ে যাব। আমাদের সরকারের কাছে আবেদন যেন ভারতে গরু কখনোই না আসতে পারে। যেহেতু আমাদেরই যথেষ্ট গরু আছে।

একই গ্রামের খামার ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, আমরা অনেক খোজ রাখি। আমাদের জানা মতে দেশে গরু পর্যাপ্ত আছে। গত বছর ভারত থেকে তেমন গরু আসেনি। এবার যেন একেবারে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ করে সরকার।

এসএস/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়