• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

বিমানের ৭২০ কোটি টাকার হরিলুটে নেই তদন্ত (ভিডিও)

জুলহাস কবীর
|  ২২ জুলাই ২০১৮, ১৭:৪৪ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ১৯:৩৩
বিমানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৭শ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেলেও বিষয়টি তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনও উদ্যোগই নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডেলিং এর কাজটি করে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যা বিমানের আয়ের অন্যতম উৎস।

বিমানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় দেখা গেছে, কেবল নন-শিডিউলড ফ্রেইটারের কার্গো হ্যান্ডলিং থেকে ২০১৬ ও ১৭ সালে অর্জিত ৭৬ কোটি টাকা কোষাগারে জমা হয়নি। অডিটে ধরা পড়ার পর গত ফেব্রুয়ারি থেকে নন-শিডিউলড ফ্রেইটারের কার্গো হ্যান্ডলিং বাবদ অর্জিত অর্থ বিমানের অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করে। সে হিসাবে ২০০৮ সাল থেকে ৯ বছরে আদায়যোগ্য প্রায় ৭০০ কোটির বেশি অর্থ বিমানের অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি।

এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি ওই সময়কার কার্গোর মহাব্যবস্থাপক আলী আহসান বাবু। বিমানে নিরীক্ষা প্রতিবেদনকেই ভুল বলে দাবি করেন তিনি।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা
--------------------------------------------------------

এদিকে ঘটনাটি বিমানে ব্যাপক আলোচিত হলেও এ নিয়ে কোনও তদন্ত কমিটি গঠন করেনি কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে কথা হয় ২০০৮ সালে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর দায়িত্বে থাকা ড. এম এম মোমেনের সঙ্গে।

বিমানের নিজস্ব প্রতিবেদনে এমন দুর্নীতির চিত্র উঠে আসার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সমালোচনা করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা উচিত। লুট হওয়া টাকা যেভাবেই হোক আদায় করতে হবে। দেশের সম্পদ লুটে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একমাত্র সংস্থা বিমানকে দুর্নীতি মুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালনা পর্ষদ সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম। তিনি বলেন, যারা দোষী তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। এ ধরনের অডিট আগেই করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, সংস্থাটির এতো বড় অনিয়মের খবর জানেন না বিমান পরিচালনা পর্ষদের বেশিরভাগ সদস্য। আরটিভি’র কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি বলেন, দুর্নীতির খবরটি আমার জানা ছিল না। আরটিভির কাছ থেকেই এ ধরনের তথ্য পেয়েছি। আমি বিষয়টি আগামী পর্ষদ সভায় তুলবো। কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়- সে ব্যাপারে আলোচনা হবে। তবে দুর্নীতি হলে অপরাধীরা কেউ ছাড় পাবেন না। 

বিমানের দুর্নীতির যে কোন অভিযোগ তদন্ত করে ভবিষ্যতে সংস্থাটিকে দুর্নীতি মুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি। 

 

আরও পড়ুন : 

এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়