• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীদের কয়েকজনের ছবি

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১২ মার্চ ২০১৮, ২৩:০২ | আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৮, ২৩:২৯
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ৭১ জন যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট, ক্রু ও দুই শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন।

আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজটি ছেড়ে যায়। নেপালে পৌঁছানোর পর এটি বিধ্বস্ত হয়।

ত্রিভুবন বিমানবন্দর ও নেপালের সরকারি সূত্র মতে উড়োজাহাজের ৫০ জন আরোহী মারা গেছেন, ৯ জন নিখোঁজ ও বাকি কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

উড়োজাহাজটিতে পূর্ণ বয়স্ক ৬৫, পুরুষ ৩৭, নারী ২৮ এবং দুইজন শিশু ছিলেন। যাত্রীরা হলেন- তানিরা তানভীন শশী, পিয়াস, শেখ রাশেদ, কৃষ্ণ কুমার, উম্মে সালমা, আশনা সাকিয়া, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, সারুনা শ্রেষ্ঠ, সৈয়দা কামরুন নাহার, হরিপ্রসাদ, দয়ারাম তহরাখার, বালকৃষ্ণ থাপা, শ্বেতা থাপা, কিশোর ত্রিপতি, আবাদেশ কুমার যাদব, অনিরুদ্ধ জামান, মো. নুরুজ্জামান, মো. রফিক জামান, রিয়ানা আব্দুল্লাহ, পয়বাল আহমেদ, সামরিন আহমেদ, জাকদ আলী, আলিফুজ্জামান, আলমুন নাহার, বিলকিস আরা, শিলা বাজগাইন, বেগম নুরুন্নাহার বিলকিস, আলজিনা বড়াল, চারু বড়াল, আকজারা বেগম, শাহীন বেপারী, শুভিন্দ্র সিং, বসঞ্জিত বহরা, সামিরা বায়ানজানকর, প্রবীণ চিত্রকর, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, সাজানা দেবখোজা, প্রিন্সি ধামি, গায়নি কুমারি গুরুং, রেজকানুল হক, মো. রকিবুল হাসান, মেহেদী হাসান, এমরানা কবির হাসি, কবির হোসাইন, দীনেশ হুমাগাইন, সানজিদা হক, হাসানন ইমাম, মো. নজরুল ইসলাম, শ্রেয়া জিলা, পূর্ণিমা লুনানি, মিলি মেহেরজান, নিগা মেহেরজান, সঞ্জয়া মেহেরজান, জেংমিং, আঁখি মনি, মেহনাজ বিন নাসির, কেসাব পান্ডে, প্রসন্না পান্ডে, বিনোদ পাউডাল, হরিশংকর পাউডাল, সঞ্জয় পাউডাল, এফএইচ প্রিয়ক, থামারা প্রিয় নৈইয়ি, মতিউর রহমান, এসএম মাহবুবুর রহমান, আশিষ রঞ্জিত।

উড়োজাহাজে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের দুই কর্মকর্তা উম্মে সালমা ও নাজিয়া আফরিন চৌধুরী একটি কর্মশালায় অংশ নিতে কাঠমান্ডু যাচ্ছিলেন। উম্মে সালমা সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অনুবিভাগে সিনিয়র সহকারি প্রধান এবং নাজিয়া আফরিন চৌধুরী আর্ন্তজাতিক অর্থনীতি অনুবিভাগে সিনিয়র সহকারি প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

উড়োজাহাজে ছিলেন সিলেটের বেসরকারি রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ নেপালি শিক্ষার্থীও। গত রোববার এমবিবিএস ১৯তম ব্যাচের ফাইনাল প্রুফ পরীক্ষা দিয়ে দুইমাসের ছুটিতে তারা সবাই এই উড়োজাহাজে নেপালে নিজের পরিবারের কাছে ফিরছিলেন। ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ জন মেয়ে ও দুইজন ছেলে বলে জানা গেছে।

রাগীব-রাবেয়া মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানে যাত্রী হিসেবে ছিলেন- সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্নিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি।

এই ফ্লাইটেই যাত্রী ছিলেন সানজিদা হক বিপাসা, রফিক জামান রিমু ও তাদের ছয় বছর বয়সী ছেলে অনিরুদ্ধ। বিপাশা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন।

রাজশাহীর রুয়েটের সিএসই বিভাগের প্রভাষক ইমরানা কবির হাসিও ছিলেন এই ফ্লাইটে। স্বামী রকিবুল হাসানও ছিলেন তার সঙ্গে। হাসির বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি যাত্রা শুরুর আগে ফেইসবুকে লিখেছেন- ‘ভ্যাকেশন স্টার্টস নাউ’।

গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পিয়াস রায়ও এই ফ্লাইটে ছিলেন। যাত্রা শুরুর একটি ছবি পোস্ট করে ফেইসবুকে তিনি লেখেন, ‘টাটা মাই কান্ট্রি, ফর ফাইভ ডেজ। হেইলিং টু দ্য ল্যান্ড অফ দ্য এভারেস্ট’।

দীর্ঘদিনের ভালোবাসার মানুষ মিনহাজ বিন নাসিরেরর সঙ্গে মহাধুমধাম করে পারিবারিক আয়োজনে গাঁটছাড়া বেঁধেছিলেন আখি মনি জেসি ফারিয়া। স্বামীর সঙ্গে হানিমুনের জন্য ইউএস বাংলার ওই ফ্লাইটে ছিলেন তারাও।

নেপালে বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স উড়োজাহাজের যাত্রীদের মধ্যে গাজীপুরের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য ছিলেন। তারা সবাই জেলার নগরহাওলা গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন, উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে ফারুক আহমেদ প্রিয়ক (৩২), তার স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি (২৫), তাদের একমাত্র সন্তান তামাররা প্রিয়ক (৩), নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান মাসুম (৩৩) ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার (২৫)।

আরও পড়ুন:

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়