close
ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ | ০৫ কার্তিক ১৪২৪

মুজিবনগর দিবস : স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য দিন

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৬ এপ্রিল ২০১৭, ২৩:৫৮ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৫৫
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তনী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে।

বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ ভাষণে যার যা আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা অনুসরণ করে বাঙালি প্রতিরোধ গড়ে তোলে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। ৯ মাস চলে এ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

এ বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশকে ঘোষণা করা হয়। গঠিত হয় অস্থায়ী সরকার।

এ অস্থায়ী সরকারের নেতেৃত্বেই ৯ মাস চলে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম। এ দিন ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করে।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়াও তাজউদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

অপরদিকে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চীফ অব স্টাফ নিযুক্ত করা হয়।

১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর উদ্দেশে বেতার ভাষণ দেন। তাজউদ্দিনের ভাষণের মধ্যদিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারেন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে। তার এ ভাষণ আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচারিত হয়।

১৭ এপ্রিল সকালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এটি অনন্য দিন।

বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা বা আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হিসেবে এই দিনটির তাৎপর্য অনেক।

মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটি পালনে মেহেরপুরের মুজিবনগর ও রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সোমবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টায় মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে পুস্পস্তবক অর্পণ এবং কুচকাওয়াজ ও গার্ড অব অনার প্রদর্শন।

সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিবনগর শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়াও একই স্থানে বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে বিকেলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যথাযোগ্য মর্যাদায় মুজিবনগর দিবস পালন করবে।

সোমবার ভোর ৬ টায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু ভবন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এবং দেশের সকল জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় ধানন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ।

 

জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়