smc
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭

রায়হান হত্যা: ‘নায়ক’ থেকে ‘বহুরূপীতে’ এসআই আকবর

|  ১৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:১২ | আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫৬
রায়হান হত্যা: ‘নায়ক’ থেকে ‘বহুরূপীতে’ এসআই আকবর
এসআই আকবর
পুলিশের চাকরি করলেও নাটকে অভিনয় করতেন সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া। দেখতে সুদর্শন পুলিশের এই এসআই ইউটিউব চ্যানেলে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত নাটকে অভিনয় করতেন। ইউটিউব চ্যানেলে সিলেটি ভাষায় নাটক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিনবাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বেশ কয়েকটি নাটকে তিনি পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন। ‘গেইমওভার’ ও ‘গরীবের দেব’ নামের নাটক দুটির কারণে বেশ পরিচিতিও হয়েছে তার। 

সংস্কৃতিমনা হয়েও পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় আকবরকে নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকের কাছে তিনি এখন একজন নিষ্ঠুর লোভী বহুরূপী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। রায়হান হত্যার ঘটনা এতদিনে অর্জিত সুনাম নিমিষেই ধুলায় মিশে গেছে। এ যেন অনেকটা উঁচু থেকে ধপাস করে নিচুতে পড়ে যাওয়ার মতই ঘটনা।

এসআই আকবর এখন ‘রায়হানের হত্যাকারী’ হিসেবে পরিচিত।   পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে তাকে। তার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। মানববন্ধন থেকে শুরু করে নানা প্রতিবাদী সভা সমাবেশ চলছে তাকে গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবিতে। আজ সোমবারও বিক্ষুব্ধ জনতা সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে সমাবেশ করেছে। এ সময় উত্তেজিত জনতা শ্লোগান দেয় “যে পুলিশ খুন করে-সে পুলিশ চাই না। এমনকি এক সময় যারা নাটকে তার সতীর্থ ছিল আজ তারাও তার শাস্তি দাবি করছে। 

এদিকে নাটক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিনবাংলাকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। তবে সমালোচনার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বেলাল আহমদ মুরাদ আরটিভি নিউজকে জানান, যেকোনো হত্যাকারীর শাস্তি দাবি করেন তারা। তাদের প্রতিষ্ঠানে দিনমজুর, সিএনজি চালক থেকে শুরু করে পুলিশ অফিসার, কলেজের প্রিন্সিপালসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন। এখন এদের কেউ যদি কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হন সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এজন্য গ্রিনবাংলা বা অন্য প্রতিষ্ঠান হলেও দায়ভার নিবে না। 

তিনি বলেন, এসআই আকবর হোসেনের নামে যে অভিযোগ এসেছে তা খুবই নিন্দনীয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত যে কেউ যদি এমন অন্যায় নিন্দনীয় কাজে নিজেকে যুক্ত রাখেন আমরা নিশ্চয়ই তার পাশে থাকতে পারি না। আমরা চাইবো সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দোষীকে শাস্তি দেয়া হোক।

আরও পড়ুন: 

ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, পুলিশ বলছে গণপিটুনি
গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ, ঘটনাস্থলে পুলিশের কর্মকর্তারা (ভিডিও)
বাবার ভয়ে ঘরে ফেরেনি দুই বোন, নানা পরিচয় দিয়ে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ
সরকারের ফাঁসির সিদ্ধান্তটা ভুল: জাফরুল্লাহ
ইজ্জতের হারানো ভয়ে আনোয়ারকে ঘরে ডাকে তরুণী!

এদিকে রায়হানের হত্যা ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন এসআই আকবর। এজন্য নগরীর কাস্টঘর এলাকায় ছিনতাইকালে রায়হান গণপিটুনির শিকার হয় বলে মিথ্যে তথ্য ছড়ান। কিন্তু তার এই তথ্য যে পুরোপুরি মিথ্যে তার পক্ষে প্রমাণ উঠে আসতে শুরু করেছে। বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও পাশের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের দুটি সিসিটিভির মাধ্যমেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

আকবর বলেছিলেন, রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আনাই হয়নি। অথচ সূত্র জানায়, পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি সিসিটিভিগুলো পরীক্ষা করে রায়হানকে ফাঁড়িতে নেয়ার দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। 

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দেয়া তথ্যমতে, তদন্ত কমিটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখেছেন ভোররাত ৩টার দিকে। দুটো সিএনজি অটোরিকশা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এসে থামে। সেখানে পুলিশের সঙ্গে রায়হানকেও পায়ে হেটে ফাঁড়িতে ঢুকতে দেখা যায়। আবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রায়হানকে দুজন কাঁধে করে বের হয়ে সিএনজিতে উঠায়। এরপর ৭টার দিকে রায়হান ওসমানী হাসপাতালে মারা যান।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা সাত পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আরেক দফা তদন্ত চলছে। এই তদন্তের পর এদের মধ্য থেকে রায়হান হত্যা মামলায় আসামি করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে পুলিশের কয়েকজন সদস্য। ফোনে পরিবারের সদস্যদের টাকা নিয়ে আসতে বলেন রায়হান। রোববার সকালে ৫ হাজার টাকা নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে শোনেন রায়হান মারা গেছেন।

রায়হানকে হত্যার অভিযোগে রোববার রাত আড়াইটায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় থানার এসআই আবদুল বাতেনকে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রায়হান হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআইকে) প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: 
‘আমার বাচ্চার বাপরে কিতা মারলা, এখন আমি কিতা করমু’

এসএস

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৯০২০৬ ৩০৫৫৯৯ ৫৬৮১
বিশ্ব ৪,০৩,৮২,৮৬২ ৩,০১,৬৯,০৫২ ১১,১৯,৭৪৮
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়