ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফুটবলে মাসকটদের আদ্যোপান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ০২:০৯ পিএম

১৯৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথা চালু হলেও মাসকট প্রথা চালু হয় ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকে। মাসকট হলো এমন একটি ডিজাইন বা প্রতীক যার মাধ্যমে আয়োজনকারী দেশের বৈশিষ্ট্য, পরিচ্ছদ, উদ্ভিদকুল, প্রাণিকুল ইত্যাদি তুলে ধরা হয়। ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটি বিশ্বকাপে মাসকট প্রকাশ শুরু হয়। বিশ্বকাপ উইলি হলো ১৯৬৬ সালের প্রতিযোগিতার মাসকট।

মাসকট! বলতেই সবার সামনে ভেসে উঠে প্রাণোচ্ছল, উদ্দীপ্ত প্রাণী যা পুরো অনুষ্ঠান বা প্রতিযোগিতা জুড়েই মাতিয়ে রাখবে পুরো বিশ্ববাসীকে, স্বাগতিক দেশের প্রতিবিম্বকে তুলে ধরবে নিজের শাশ্বত ও স্বতন্ত্র পন্থায়। যেকোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা আকর্ষণ এই মাসকট। মাসকট হতে পারে কোনো প্রাণী বা কোনো ব্যক্তি বা এমন কিছু যা স্বাগতিকদের জন্য সৌভাগ্যদায়ক। এটি হতে পারে কোনো কাল্পনিক চরিত্র বা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য যা সকলের দৃষ্টি কেড়ে নেবে। অনেক না বলা প্রতিবাদ বা আখ্যাপন তুলে ধরবে মাসকট।

রঙবেরঙয়ের অনেক পরিচ্ছদ ও যেকোনো তাৎপর্যপূর্ণ নাম মাসকটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রায় সবধরনের প্রতিযোগিতায় মাসকটের উপস্থিতি দেখা যায়। ফুটবলেও মাসকটের সরব উপস্থিতি প্রতি বিশ্বকাপেই দেখা যায়। কিন্তু ১৯৬৬ সালের আগ পর্যন্ত কোনো মাসকট ব্যবহার করা হয়নি। এরপর থেকে দর্শক ও ভক্ত-সমর্থকদের আনন্দ দিয়ে আসছে মাসকট। আসুন জেনে নিই মাসকটের রং-রূপ কেমন ছিল।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিসির হট সিটে শশাঙ্ক মনোহর
--------------------------------------------------------

১৯৬৬ বিশ্বকাপ মাসকট উইলি
ইউনিয়ন জ্যাক জার্সি পরিহিত সিংহের যে মাসকটটি ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের অফিসিয়াল মাসকট ছিল তা অদ্যাবধি তৈরিকৃত মাসকটগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা বলে গণ্য করা হয়। সিংহ হলো ইংল্যান্ডের প্রতীক এবং সেই মাসকটের পরিহিত জার্সিতে world cup শব্দটি লেখা ছিল। World Cup Willie নামক এই মাসকটটির ডিজাইনার ছিলেন প্রখ্যাত ফ্রিল্যান্স শিশুতোষ বইয়ের চিত্রশিল্পী Reg Hoye।

১৯৭০ বিশ্বকাপ মাসকট জুয়ানিতো
১৯৭০’র মেক্সিকো বিশ্বকাপের অফিসিয়াল লোগোটির নাম ছিল 'Juanito'। এটি একটি মেক্সিকান ঐতিহ্যবাহী সবুজ জামা পরিহিত বালক যে মাথায় পড়েছিল মেক্সিকান 'sombrero' নামক টুপি যেখানে লেখা ছিল 'MEXICO 70'। এটা ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম রঙিন মাসকট।

১৯৭৪ বিশ্বকাপ মাসকট টিপ এন্ড টেপ
১৯৭৪’র পশ্চিম জার্মান বিশ্বকাপের মাসকটে ছিল নতুনত্ব। একের বদলে এখানে ছিল দুইটি বালক। উভয় বালক পরিহিত ছিল পশ্চিম জার্মানের জার্সি, যার একটাতে লেখা ছিল 'ডগ (Weltmeisterschaft শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ যার অর্থ World Cup)' এবং অন্যটিতে লেখা ছিল বিশ্বকাপের সাল '৭৪'। এই মাসকটটির নাম ছিল 'Tip and Tap'।

১৯৭৮ বিশ্বকাপ মাসকট গাউছিতো
১৯৭৮’র আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের মাসকটের নাম ছিল 'Gauchito'। পরপর তিনবারের মত মনুষ্য বালক মাসকট হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। আর্জেন্টিনা দলের জার্সি পরিহিত একটি বালক যার জার্সিতে লেখা ছিল 'ARGENTINA 78'। এই বালকের গলায় বাঁধা ছিল একটা রুমাল আর হাতে ছিল একটা 'whip'; আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী একধরনের চাবুক। একটি ফুটবলের উপর পা দিয়ে দাঁড়ানো বালকের এই মাসকটটি মানুষের মনে স্থান করে নেয়।

১৯৮২ বিশ্বকাপ মাসকট নারানজিতো
স্পেনের প্রচলিত ফল কমলা, এই কমলার গায়ে স্পেন জাতীয় দলের জার্সি পরিহিত মাসকটটি ছিল ১৯৮২-এর বিশ্বকাপ মাসকট। এর নাম ছিল 'Naranjito'। এই নামটি এসেছে 'naranja' থেকে যার ইংরেজি অর্থ কমলা।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ মাসকট পিকে
১৯৮৬’র মেক্সিকো বিশ্বকাপের মাসকটটির নাম ছিল 'Pique' যা এসেছিল একটি দৈত্যাকৃতির মরিচকে কেন্দ্র করে যা মেক্সিকোতে খুবই জনপ্রিয়। এর নামটি নেয়া হয়েছিল স্প্যানিশ শব্দ 'picante' হতে 'Pique' নামটির উৎপত্তি যার অর্থ খুব ঝাল এক ধরনের মরিচ।

১৯৯০ বিশ্বকাপ মাসকট সিয়াও
ইতালিতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের মাসকটটি তৈরি হয় কতগুল লাঠি খণ্ডকে মানুষের অবয়ব দিয়ে। প্রতিটি লাঠিখণ্ড ইতালির পতাকার রঙয়ে রঞ্জিত ছিল। মানব আকৃতির এই ফুটবল খেলোয়াড়ের মাথা হিসেবে ব্যবহার করা হয় একটি ফুটবল। এই মাসকটটির নাম ছিল 'Ciao' যা ইতালীয় ভাষায় এক ধরনের বিশেষ সম্ভাষণ।

১৯৯৪ বিশ্বকাপ মাসকট স্ট্রিকার
১৯৯৪-এর আমেরিকা বিশ্বকাপের লোগো ছিল একটি পোষা প্রাণী, কুকুর। লাল, সাদা এবং নীল রঙের জার্সি পরিহিত এই মাসকটের জামায় লেখা ছিল 'USA 94'। এর নাম ছিল 'Striker, the World Cup Pup'।

১৯৯৮ বিশ্বকাপ মাসকট ফটিক্স
১৯৯৮-এর ফুটবল বিশ্বকাপের মাসকট ছিল 'Footix'। ফ্রান্সের প্রচলিত Gallic rooster. এর আদলে তৈরি এই মাসকটটি ছিল এ যাবতকালের সবচাইতে কালারফুল মাসকট। নীল রঙের শরীর বিশিষ্ট এই মাসকটের লাল রঙের মাথায় হলুদ ঠোঁট একে বিশেষত্ব দান করে। এর বুকে গাঢ় নীল রঙের একটি ব্যানারে সাদা রঙে লেখা ছিল 'FRANCE 98'।

২০০২ বিশ্বকাপ মাসকট স্পেরিক্স
কমলা, বেগুনী এবং নীল রঙের তিনটি কম্পিউটার গ্রাফিক্সের দ্বারা তৈরি ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী সদৃশ আকৃতি নিয়ে তৈরি হয় এই বিশ্বকাপের মাসকট The Spheriks। যা এ যাবতকালের সবচেয়ে নিম্নমানের মাসকট হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০০৬ বিশ্বকাপ মাসকট গোলেও ভি
'Goleo VI & Pille' নামক জার্মান বিশ্বকাপের এই মাসকট গত পাঁচটি বিশ্বকাপের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয়েছে ফিফার অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে প্রদত্ত ভোটে। সিংহের গায়ে জার্মান দলের জার্সি পরিহিত এই মাসকট ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

২০১০ বিশ্বকাপ মাসকট জাকুমি
দক্ষিণ আফ্রিকার এই বিশ্বকাপের মাসকট ছিল 'Zakumi'। এই নামে Za রিপ্রেজেন্ট করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আর kumi দ্বারা আফ্রিকার অনেক আঞ্চলিক ভাষায় দশ (১০) বুঝায়। এর সবুজ এবং সোনালি রং দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ফুটবল দলের জার্সির রঙকে রিপ্রেজেন্ট করে।

২০১৪ বিশ্বকাপ মাসকট ফুলেকো দ্য আরমাদিল্লো
'armadillo' নামক এক প্রকার ট্র্যাডিশনাল প্রাণীকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের মাসকট যার নাম 'Fuleco the Armadillo'। এই মাসকট এর দ্বারা ব্রাজিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যার কারণে বিশ্বকাপ হবে পরিবেশ বান্ধব এমনটাই ব্রাজিলবাসীদের বিশ্বাস।

২০১৮ বিশ্বকাপ মাসকট জাভিভাকা
২০১৮ বিশ্বকাপের মাসকট হিসেবে নেকড়ে ‘Zabivaka’কে বেছে নেয় আয়োজক দেশ রাশিয়া। রাশিয়ান ভাষায় Zabivaka শব্দের অর্থ— ‘যে গোল করে’। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ওয়েবসাইটে এ মাসকটকে আকর্ষণীয়, আত্মবিশ্বাসী ও সামাজিক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যে কিনা একজন তারকা ফুটবলার হয়ে উঠতে চায়।

আরও পড়ুন :

এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুসংবাদ শুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে স্ত্রীর পাশে রোহিত
মেয়ে সন্তানের বাবা হয়েছেন ভারতের ক্রিকেটার রোহিত শর্মা। সুখবর পেয়েই অস্ট্রেলিয়া থেকে স্ত্রী রীতিকার কাছে চলে গেছেন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং লাইনের অন্যতম ভরসা। গেল ২১ ডিসেম্বর ছিল রোহিতের স্ত্রীয়ের জন্মদিন। অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকায় বিশেষ দিনটি পাশে না পারার জন্য রীতিকার কাছে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান রোহিত। তবে বাবা হবার খবর পেয়েই ভারত ছুটে গেলেন রোহিত।  দেশে ফেরার কারণে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ও শেষ টেস্টে মাঠে নামা হচ্ছে না হিট ম্যান খ্যাত এই তারকার।   আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ম্যাচটি। চার ম্যাচের সিরিজের ফল এখন ২ -১। এগিয়ে থাকা ভারত এই সিরিজটি নিজেদের করে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। অন্যদিকে সিরিজ বাঁচাতে জেতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই অস্ট্রেলিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে থাকা হচ্ছে না রোহিতের। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোহিত ভারতীয় টিমের সঙ্গে  যোগ দেবেন নতুন বছরের ৮ জানুয়ারি।  টেস্ট সিরিজ শেষে তখন ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নেবে বিরাট বাহিনী। দুই দলের মধ্যে ১২, ১৫ এবং ১৮ তারিখ তিনটি একদিনের ম্যাচ রয়েছে।  সেই সময় উপস্থিত থাকবেন অভিজ্ঞ রোহিত। চলতি সিরিজে প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন রোহিত। চোটের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে দলের বাইরে ছিলেন ডান-হাতি এই ব্যাটসম্যান। ওয়াই
সুসংবাদ শুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে স্ত্রীর পাশে রোহিত
বিরাটের অধিনায়কত্বে বর্ষসেরা টেস্ট দলে তাইজুল
বছরের শেষ টেস্টটিও খেলা হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া-ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার টেস্টগুলো একই দিনে (২৬ ডিসেম্বর) শুরু হওয়ায় এই তিনটি টেস্টই ২০১৮ সালের শেষ টেস্ট। এবার পালা বছরের সেরাদের সামনে নিয়ে আসার। বছরজুড়ে কারা কারা ক্রিকেট বিশ্বে ছড়ি ঘুরিয়েছে তাদের নিয়ে একাদশ তৈরি করছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বর্ষসেরা টেস্ট একাদশ করল ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্পোর্টসকিড়া’। জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটের সেরা টেস্ট একাদশে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম। পুরো বছরেই বারবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তাইজুল। চলতি বছরে ৪৩ উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ রফিকের সর্বোচ্চ ৩৩ উইকেটের রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬ উইকেটের পাশাপাশি ৪ বার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছেন এই বামহাতি এই অর্থোডক্স।   বছরজুড়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলারদের মধ্যে তিনি রয়েছে ৮ নম্বরে এবং স্পিনারদের মধ্যে যা তৃতীয়। আর বামহাতি স্পিনারদের মধ্যে রয়েছে প্রথমে।  তাই বর্ষসেরা টেস্ট দলে স্পিনার কোটায় তাইজুলকে বাছাই করতে দ্বিধায় ভুগতে হয়নি স্পোর্টসকিড়ার। ১৭ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে অবদান রাখায় সেরাদের দলে জায়গা তাইজুলের জায়গা হয়েছে বলে উল্লেখ করে ওয়েবসাইটটি। এই দলের অধিনায়ক করা হয়েছে বর্তমান বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান ও ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। এই দলে রয়েছেন জো রুট, কেন উইলিয়ামসন, ও জেসন হোল্ডারের মতো আরও তিন জাতীয় দলের অধিনায়ক।  ওপেনারের দায়িত্ব পালন করবেন দুই শ্রীলঙ্কান দিমুথ কারুনারত্নে ও কুশল মেন্ডিস। তিন নম্বর পজিশনের জন্য দলে নেয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুটকে। কোহলি ও নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে রাখা হয়েছে মিডল অর্ডার সামলানোর জন্য।  উইকেটের পিছনে রাখায় হয়েছে বছরজুড়ে ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক জস বাটলারকে। বোলিং অলরাউন্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে।  তাইজুলের সঙ্গে স্পিন বিভাগ সামলাবেন অস্ট্রেলিয়ান নাথান লায়ন। পেস বোলিংটা দেখবেন দক্ষিণ আফ্রিকান কাগিসো রাবাদা ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস।  স্পোর্টসকিড়ার বছরের সেরা টেস্ট একাদশ দিমুথ কারুনারত্নে (শ্রীলঙ্কা), কুশল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা), জো রুট (ইংল্যান্ড), বিরাট কোহলি (অধিনায়ক, ভারত), কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড), জস বাটলার (ইংল্যান্ড), জেসন হোল্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), নাথান লায়ন (অস্ট্রেলিয়া), তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ), কাগিসো রাবাদা (দক্ষিণ আফ্রিকা), মোহাম্মদ আব্বাস (পাকিস্তান)। এস/ওয়াই
বিরাটের অধিনায়কত্বে বর্ষসেরা টেস্ট দলে তাইজুল
মোরিনহোর বিদায়ে স্বরূপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
দীর্ঘদিন ধরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ ও দলের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে হোসে মোরিনহোর বিরোধের খবর চাউর ছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারের পর ছাটাই হতে হয় মোরিনহোকে। পর্তুগালের হেভিওয়েট এই কোচের বদলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ওলে গানার সোলসকায়েরকে নিয়োগ দেয়া হয়। দলটির সাবেক এই ফুটবলার দায়িত্বগ্রহণের পরপরই চিত্র পাল্টে যায়। নরওয়ের জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডের অধীনে রোববার রাতের ম্যাচে বড় জয় নিয়ে বছরটা শেষ করল রেড ডেভিলসরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ৪-১ এ জয় পেয়েছে ইউনাইটেড। বড় এই জয়ের পর ম্যানচেস্টার ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা এক প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে, ‘ওলে গানার সোলসকায়ের অধীনে স্বরূপে ফিরছে আসল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড’। ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত মোরিনহোকে বিদায় জানানোর পর প্রিমিয়ার লিগের শেষ তিন ম্যাচে ১২টি গোল করেছে ম্যানচেস্টারের ঐতিহ্যবাহী দলটি। ২২ ডিসেম্বর কার্ডিফকে ৫-১ গোলের উড়িয়ে দেয় ম্যানইউ। পরের ম্যাচে হাডার্সফিল্ড টাউনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পায় সোলসকায়েরের শিষ্যরা।  ওলে গানার সোলসকায়েরের সঙ্গে পল পগবা। দলের সঙ্গে গেল দুই ম্যাচে উজ্জ্বল পল পগবাও। হাডার্সফিল্ডের বিপক্ষে গেল বুধবার দুটি গোল করার পর বছরের শেষ ম্যাচেও বোর্নমাউথের জালে দুই বার বল জড়িয়েছেন ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী এই মিডফিল্ডার। এই নিয়ে চলতি মৌসুমে ১৭ ম্যাচে সাতটি গোল করলেন ২৫ বছর বয়সী পগবা। লিগ টেবিলে ২০ ম্যাচে ১০ জয় নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পাঁচ ড্র ও পাঁচ হারে বর্তমান পয়েন্ট ৩৫। সমান সংখ্যক ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে রয়েছে লিভারপুল। এস/ওয়াই 
মোরিনহোর বিদায়ে স্বরূপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
আইসিসির সেরা একাদশে বাংলাদেশের রুমানা
বছরজুড়ে যেমন দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দল তেমনি সমান তালে সাফল্য অর্জন করেছে নারী ক্রিকেট দলও। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাফল্যটাও এসেছে নারীদের হাত ধরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ট্রফি ঘরে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফি এনে দিয়েছে এবছরে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে।  ছয় বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ফাইনালে ৩ উইকেটে হারিয়েছে সালমা-রুমানারা। এবার সেই সাফল্যের রেশ ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সেরা একাদশে জায়গা করে নিলেন টাইগ্রেস ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ।  লাল-সবুজদের হয়ে অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করলেও লেগ স্পিনার হিসেবে সুযোগ মিলেছে সেরাদের এই দলে।  সোমবার আইসিসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বর্ষসেরা নারী টি-টোয়েন্টি একাদশ।  ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউরকে করা হয়েছে এই দলের অধিনায়ক। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আরও দুই ক্রিকেটার। তবে সবচেয়ে বেশি চার নারী অজি ক্রিকেটার রয়েছে এই দলে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুজন ও ইংল্যান্ডের হয়ে একজন রয়েছেন বর্ষসেরার এই টি-টোয়েন্টি একাদশে।   বাংলাদেশের হয়ে মোট ৫৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৬৬৩ রানের পাশাপাশি ৫২ উইকেট নিয়েছেন রুমানা। আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি একাদশ স্মৃতি মানদানা (ভারত), অ্যালিসা হেইলি (অস্ট্রেলিয়া), সুজি বেটস (নিউজিল্যান্ড), হারমানপ্রীত কাউর (ভারত), নাটালি স্কাইভার (ইংল্যান্ড), এলিসা পেরি (অস্ট্রেলিয়া), অ্যাশলেগ গ্রাডনার (অস্ট্রেলিয়া), লেইগ ক্যাসপেরেক (নিউজিল্যান্ড), মেগান স্কুট (অস্ট্রেলিয়া), রুমানা আহামেদ (বাংলাদেশ), পুনম পান্ডে (ভারত)।    এস/ওয়াই
আইসিসির সেরা একাদশে বাংলাদেশের রুমানা
বছরের ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক ধোনি, ভারতের আধিপত্য
শেষ হলো ২০১৮ সালের সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ওয়ানডে যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্য দিয়ে বছরের ওয়ানডের সেই যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। এখন বিশ্বজুড়ে চলছে বছরের দলগত ও ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সের কাটছেরা। ক্রিকেট ভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে বছরের সেরা একাদশ গুলো। তবে কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটল ক্রিক ট্র্যাকার। এবার ক্রিকেট সংক্রান্ত জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইট প্রকাশ করল বছরের ‘ফ্লপ’ ওয়ানডে একাদশ। বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর যে এই একাদশে নেই কোনও টাইগার ক্রিকেটার। সেরা একাদশের মতো ফ্লপ একাদশেও আধিপত্য ছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। মহেন্দ্র সিং ধোনির নের্তৃত্বে এই দলে আরও রয়েছে আরও দুই ভারতীয় হার্দিক পান্ডিয়া ও ভুবেনশ্বর কুমার। ফ্লপ দলটির ওপেনিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো ও ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান এভিন লুইসকে। মুনরো বছরজুড়ে ১৩টি ওয়ানডে খেলে ১৯.৫৩ গড়ে করেছেন মোটে ২৫৪ রান। এদিকে অপর ওপেনার লুইস বেশিরভাগ সিরিজে ওয়ানডে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করলেও সারাবছরে ১০টি ম্যাচ খেলে ২৭.৪০ গড় নিয়ে করেছেন মাত্র ২৭৪ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক প্রতিনিধি হিসেবে তিন নাম্বার পজিশনে জায়গা পেয়েছেন মারলন সামুয়েলস। বছরের শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষেও ফ্লপ ছিলেন এই জ্যামাইকান। ২০১৮ সালে ১৫টি ওয়ানডে খেলে করেছেন ৩৬৫ রান। এরপরই জায়গা হয়েছে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ধোনির। যার ২০ ওয়ানডেতে ২৫.০০ গড়ে সংগ্রহ ২৭৫ রান। তাই ‘আস্থা’ রেখেই এই দলের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। মিডল অর্ডার সামলাবেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানদের নেতৃত্ব দেয়া রোভম্যান পাওয়েল। চলতি বছরে ১৭টি ওয়ানডে খেলে ২৬.৬৪ গড়ে তার ঝুড়িতে রয়েছে ৩৭৩ রান। দলের অলরাউন্ডারের ভূমিকায় থাকবেন হার্দিক পান্ডিয়া। ইনজুরির কারণে বছরের সব ম্যাচ খেলতে না পারলেও ১০ ম্যাচে মাত্র ১৩.৬০ গড়ে ৬৮ রান তুলেছেন ভারতের এই উদীয়মান ক্রিকেটার। স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে থাকছেন মঈন আলী। ২৪ ওয়ানডে খেলে ১৭.৩১ গড়ে ২৭৭ রান সংগ্রহ করেছেন এই ইংলিশম্যান। চতুর্থ ক্যারিবিয়ান হিসেবে থাকছেন লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু। ১০ ম্যাচ খেলে যার উইকেট রয়েছে ৬টি। পেস বোলিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন ভুবেনশ্বর কুমার। ১৪ ম্যাচে ১১ উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে। দলের বাকি দুই পেস বোলার হচ্ছেন ইংল্যান্ডের মার্ক উড ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির। উড ১৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিতে পারলেও পাকিস্তানের বোলিংয়ের সেরা অস্ত্র আমির ১০ ম্যাচে নিয়েছেন মোটে ৩ উইকেট।   ক্রিক ট্র্যাকারের ২০১৮ সালের ফ্লপ একাদশ    কলিন মুনরো (নিউজিল্যান্ড), এভিন লুইস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মারলন সামুয়েলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), এমএস ধোনি (ভারত), রোভম্যান পাওয়েল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত), মঈন আলী (ইংল্যান্ড), দেবেন্দ্র বিশু (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ভুবেনশ্বর কুমার (ভারত), মার্ক উড (ইংল্যান্ড), মোহাম্মদ আমির (পাকিস্তান)।   এস/ওয়াই 
বছরের ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক ধোনি, ভারতের আধিপত্য
আরও পড়ুন
বাংলাদেশি হামজার সৌজন্যে টানা জয় পেলো লেস্টার
টিভিতে আজকের খেলার আয়োজন
ছোট পর্দায় আজকের খেলা
চ্যাম্পিয়নস লিগের নক-আউটে কে কার মুখোমুখি