• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

পঞ্চগড়ে চাষ হচ্ছে চীনা-জাপানি ফুল

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
|  ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৪০ | আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:০১
দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ফুলের চাহিদা। বিপুল পরিমাণ এই ফুলের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে বিদেশ থেকে ফুল আমদানি করে।  

বাংলাদেশের এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় শীত ও গ্রীষ্মসহ সারা বছরই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করে আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এই লক্ষকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফুল চাষাবাদ শুরু করেছে একটি বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার নগর চেংঠীহাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের কাওয়াপুকুর এলাকায় মেটাল এগ্রো লিমিটেড নামে একটি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৪০ একর জমিতে দেশি ফুলের পাশাপাশি প্রায় ১২০ প্রজাতির বিদেশি ফুল চাষাবাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ওই প্রকল্পের ৫০ শতক জমিতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফুল। সেখান থেকেই আগামী শীত মৌসুমে পঞ্চগড়সহ বাংলাদেশের ১০টি জেলায় ফুল চাষিদের মাঝে বীজ ও চারা সরবরাহ এবং পঞ্চগড়ে উৎপাদিত ফুল বাজারজাতকরণ শুরু হবে। 

বাংলাদেশের সর্বত্র বিদেশি ফুল উৎপাদন শুরু হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে জানান ওই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। বিদেশি এই ফুল চাষে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ স্থানীয় ফুলচাষি ও শ্রমিকরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। 

বর্তমানে ওই এলাকায় জাপানের টাকি সিড থেকে বীজ এনে ৫০ শতক জমিতে পরীক্ষামুলকভাবে ডাইয়েনতাস, এস্টার, মেথিউলা, এন্টিরিনাম, কেবেজকাট ফ্লাওয়ার, স্যালভিয়া, ভিইওলাসহ ১২০ প্রজাতির বিদেশি ফুল চাষ করা হয়েছে। আর ওই ফুল বাগানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন স্থানীয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন বেকার নারী-পুরুষ। 

কাওয়াপুকুর এলাকার নারী শ্রমিক চায়না বেগম বলেন, আমাদের এই এলাকায় তেমন কোনো কাজ নাই। এখানে এই প্রতিষ্ঠানটি ফুল চাষ শুরুর পর থেকে আমরা অনেক মহিলা এখানে কাজের সুযোগ পেয়েছি। এই আয় দিয়ে আমরাও এখন সংসারে সহযোগিতা করতে পারি।

চীনে ২২ বছর ধরে ফুল চাষের ওপর কাজ করা মেটাল এগ্রো লিমিটেডের কনসালটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ড. হেইদি ওয়ারনেট আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমি ইউএসআইডির হয়ে মেটাল এগ্রো লিমিটেডের কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছি। বাংলাদেশের এ অঞ্চলটি ফুল চাষে বেশ উপযোগী। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ফুল চাষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। চীনে যেখানে ফুল চাষে সময় লেগেছে ২০ বছর কিন্তু বাংলাদেশে ফুল চাষ পাঁচ বছরেই সাড়া ফেলবে।

মেটাল এগ্রো লিমিটেডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আফজাল হুসাইন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশের ফুলের সম্ভাবনাময় একটি বাজার রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে ফুলের বেশী একটা জাত নেই। বাজারে গেলে আমরা গোলাপ, জবা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ মাত্র কয়েক প্রকারের ফুল দেখতে পাই। অথচ বিশ্ব বাজারে অনেক ফুল আছে। নন্দিনী, সিলভিয়াসহ বিশ্বে অনেক প্রকার ফুল আছে। আমরা এ সকল ফুল বাংলাদেশে আনতে চাই। আমরা ইতোমধ্যে জাপান থেকে অনেক ফুলের বীজ এনেছি। এখানে প্রায় ১২০ প্রজাতির ফুল প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই ফুলের চাষ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চাই।

মেটাল এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিদ জামিল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা মূলত শাকসবজি ও ধান বীজের পর ফুল বীজের ব্যবসা করে থাকি। বাংলাদেশে ফুলের বিশাল মার্কেট রয়েছে। বাংলাদেশ চায়না ও মালয়েশিয়া থেকে ফুল আমদানি করে থাকে। এখন আমাদের দেশে শুধুমাত্র শীতকালে ফুলের চাষ হয়। আমরা চেষ্টা করছি গ্রীষ্মকালেও যেন ফুল চাষ করা যায়। তাহলে কৃষকরা সারা বছর ফুলের আবাদ করে অনেক লাভবান হতে পারবে। আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত ফুল নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ব বাজার জয় করবে।

আরও পড়ুন:

 

এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়