ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

পরী-পিয়াসার মোবাইল-ম্যাসেঞ্জারে স্ক্যান্ডালের চাঞ্চল্যকর তথ্য

কাজী ফয়সাল

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২১, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম
পরী ও পিয়াসা।। ফাইল ছবি

চাঞ্চল্যকর স্ক্যান্ডাল বেরিয়ে আসছে চিত্রনায়িকা পরীমণি, বিতর্কিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, মৌ, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্যদের ডিজিটাল মাধ্যম থেকে। তাদের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট যাচাই বাছাই করছে সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ)। তাদের ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে সিআইডি। জব্দকৃত মোবাইল ফোন থেকে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে অডিও রেকর্ড এবং গোপন ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার হয়েছে। যেসব ভিডিও ফুটেজ ও অডিও রেকর্ড দিয়ে পরীমণি ও পিয়াসা-মৌরা প্রভাবশালীদের ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন।

সিআইডি’র সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার (০৭ আগস্ট) দিনগত রাতে পরীমণি, পিয়াসা, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের বাড়িতে সিআইডি অভিযান চালিয়েছে। বনানীতে পিয়াসার বাসায় অভিযান চালিয়ে তার ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, চিত্রনায়িকা পরীমণি, মডেল পিয়াসা-মৌ ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর ইস্যুতে দায়ের হওয়া মামলাগুলো সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নাম এলেও তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িত সবার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সিআইডি। ইতোমধ্যে চিত্রনায়িকা পরীমণি, ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর, প্রযোজক রাজ, মডেল পিয়াসা ও মৌ’য়ের ৭টি মামলা আমাদের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর হয়েছে। আসামিদের আমরা হেফাজতে পেয়েছি। ইতোমধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আইনের মধ্যে থেকেই মামলা তদন্ত করবে সিআইডি। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত কাজ সম্পন্ন হবে। যারা সত্যিকারভাবে দোষী সিআইডি তাদের খুঁজে বের করবে।

সিআইডিতে পৃথক কক্ষে তারা

মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে পরীমণি, পিয়াসা ও হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ প্রত্যেককেই পৃথক কক্ষে রাখা হয়েছে। গতকাল থেকে তাদেরকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে সিআইডি। আজ সকাল থেকেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তালিকায় থাকা কয়েকজন প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ী

পরী-পিয়াসা ও মৌয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা ২১ প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীর বিশেষ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে বিতর্কিত মডেল পিয়াসার সঙ্গে ‘ইউ’ আধ্যক্ষরের একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) মোবাইল ফোনের কথোপথনের অডিও রেকর্ড উদ্ধার হয়েছে। একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানীর চেয়ারম্যানের সঙ্গে মডেল মরিয়ম আক্তার মৌ’র গোপন ভিডিও রয়েছে। পিয়াসার সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের এক অলঙ্কার ব্যবসায়ীর বেশ কয়েকটি অডিও রেকর্ড পেয়েছে সিআইডি।

একটি অডিও রেকর্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, পিয়াসাকে ‘ডায়মন্ডের’ অলঙ্কার উপহার দেওয়ার কথা বলেছেন ওই অলঙ্কার ব্যবসায়ী। এছাড়া ‘সি’ আধ্যাক্ষরের একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে পরীমণিকে একটি গাড়ি উপহার দেওয়ার কথোপকথন অডিও রেকর্ড রয়েছে। একইসঙ্গে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও পরীমণির গভীর সখ্যতার কথোপকথন রয়েছে।

অপরদিকে, রাজধানীর গুলশানে ভারতীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে পিয়াসার একটি ক্লাবে সময় কাটানোর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। গুলশানে একটি দামী ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির শোরুমের মালিকের সঙ্গে পরীমণি ও পিয়াসার বহুবার কথোপকথন হয়েছে মোবাইল ফোনে। মদ বিক্রির দোকানের মালিক (যার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ) সঙ্গে পিয়াসার লং ড্রাইভে যাওয়ার কথোপকথন রয়েছে। বাংলাদেশে গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) শির্ষ পর্যায়ের সাবেক নেতার সঙ্গে পিয়াসার হোয়াটসঅ্যাপে বেশ কয়েকবার কথপোকথন হয়েছে। তার মালিকানাধীন গুলশানের গাড়ির শোরুমে চোরাই গাড়ি বিক্রি হয় এমন অভিযোগও পেয়েছে সিআইডি ও র‌্যাব। মডেল পিয়াসা ওই চোরাই গাড়ি সিন্ডিকেটের সদস্য। ওই শোরুম থেকে পিয়াসার সহযোগী মিশুর চুরি করা একটি গাড়িও উদ্ধার করে র‌্যাব।

সিআইডি’র এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোন ও ফেসবুক আইডি তল্লাশি করে ২১ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে পিয়াসা, পরীমণি ও মৌ’য়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকার তথ্য মিলেছে। এর বাইরে পিয়াসার মোবাইল ফোনের কল লিস্টে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। ওইসব ব্যবসায়ীকে পিয়াসা বিভিন্ন সময় ফোন করে ব্ল্যাকমেইলিং করতেন।

কথিত মডেল মৌয়ের ১১ বিয়ে, অঢেল অর্থ-সম্পদের উৎস কি?

সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর কথিত মডেল মরিয়ম আক্তার মৌ-এর সঙ্গে ভিআইপিদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে সিআইডি। একই সঙ্গে তার অঢেল সম্পদের উৎস খুঁজে দেখছেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে তার বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে বেশি কিছু আলামত।

মৌকে গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মৌ ১১টি বিয়ে করেছেন। তার সর্বশেষ স্বামী একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। ধনাঢ্যদের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা ছিল মৌ-এর পেশা। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পর আরেকজনের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতেন। সাবেক স্বামীরা মৌ-এর অপকর্ম সম্পর্কে সবই জানতেন। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক সময় নিজেরাই তাকে তালাক দিতেন।

গত ০১ আগস্ট রাতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৌ-কে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদপুরে পাঁচতলা আলিশান বাড়ি রয়েছে তার। নেক্সাস, পাজেরো ও টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩টি দামি গাড়ি চালাতেন মৌ। অথচ তার দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। মৌ মডেলিং পেশার আড়ালে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের ব্ল্যাকমেইলিং করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ পেয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। মাদক ও অনৈতিক ব্যবসায় তার সংশ্লিষ্টতার কিছু প্রমাণ ইতিমধ্যে গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর অনেক ভুক্তভোগীই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

মৌয়ের নিয়ন্ত্রণে অর্ধশত লাস্যময়ী তরুণী

তদন্তকারীদের কাছে তথ্য রয়েছে, মৌয়ের নিয়ন্ত্রণে অর্ধশত লাস্যময়ী তরুণী রয়েছেন। এসব তরুণীকে দিয়ে তিনি অর্থশালীদের টার্গেট করতেন। কৌশলে তাদের বাসায় নিয়ে আসতেন। মদ খাইয়ে অচেতন করে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি কিংবা ভিডিও ধারণ করতেন। পরে ওই ব্যক্তি যদি কথামতো কাজ না করতেন, তাহলে ভয় দেখানোর পাশাপাশি ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এভাবে অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের সুন্দরী তরুণী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রীরা মৌয়ের প্রতারণা চক্রের সদস্য। তারা দিনের বেলা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে রাতে সক্রিয় হতেন। তার বাসায় গভীর রাত পর্যন্ত মাদক সেবনের পাশাপাশি চলত অসামাজিক কার্যকলাপ।

মৌয়ে মামলার পূর্বের তদন্তকারী সংস্থা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের এক কর্মকর্তা জানান, ৩ দিনের রিমান্ডে গতকাল মৌকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার এত সম্পদের উৎস কোথা থেকে, কী কারণে তার আগের সব সংসার ভেঙে গেছে এবং সব বিয়েতেই মোটা অঙ্কের কাবিন ছিল কেন। বিয়ের ফাঁদ পেতে প্রতারণা করতেন কি না- এমন নানা বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কত দিন ধরে এবং এ পর্যন্ত কতজনকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন? এমন সব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি মৌ।

এডিসি সাকলায়েনের সঙ্গে পরীর অনৈতিক সম্পের্কের অভিযোগ

আলোচিত ঢাকা বোট ক্লাব মামলার তদন্ত করতে গিয়ে চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গুলশান বিভাগের এডিসি গোলাম সাকলায়েন। বিপুল মাদকসহ পরীমণিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জানতে পেরেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পরীমণির গাড়িচালকও দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জিজ্ঞাসাবাদে পরীমণি জানিয়েছেন, নিয়মিত কথা বলতে বলতে গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় তার। এরপর তারা নিয়মিত গাড়ি নিয়ে ঘুরতে যেতেন। এমনকি সাকলায়েন তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সর্বশেষ গত ১ আগস্ট তার সরকারি বাসভবন রাজারবাগের মধুমতির ফ্ল্যাটে যান পরীমণি। সেখানে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন।

এরই মধ্যে পরীমণি-সাকলায়েনকে নিয়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসেছে। ফুটেজটি সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনের।

সেখানে দেখা গেছে, রাজাবাগ পুলিশ অফিসার্স কলোনীর মধুমতি ভবনের গেটের সামনে ১ আগস্ট সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে একটি সাদা গাড়ি এসে থামে। লাল রংয়ের টি-শার্ট পরিহিত একজন প্রথমে নামেন। এরপর কোলে একটি কুকুরসহ সাদা রংয়ের জামা পরে নামেন নায়িকা পরীমণি।

রিসিপশনে থাকা সদস্যদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে দু’জন লিফটে প্রবেশ করেন। পরে গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ট্রলি ব্যাগ। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে ওই ভবনের সামনে আবার আসে পরীমণির গাড়ি। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় পরীমণির পরনে ছিলো কালো রংয়ের পোশাক।

পরীমণির গাড়িচালক নাজির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, পরীমণির সাথে ছিলেন ডিবি কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন। তিনি বলেন, আমি ম্যাডামকে সকালে বাসা থেকে ওখানে দিয়ে আসি, আবার রাতে যেয়ে নিয়ে আসি। আমাকে ম্যাডাম রাতে ফোন করেন নিয়ে যাওয়া জন্য।

গাড়িচালক আরও জানিয়েছেন, হাতিরঝিল এলাকায় একই গাড়িতে তারা দু’জন সময় কাটিয়েছেন, ঘোরাঘুরি করেছেন। একসঙ্গে মদপানও করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শুক্রবার রাত ১১ টায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন সরাসরি পরীমণির সঙ্গে পরিচয় বা সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, পরীমনির দায়েরকৃত মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। এখন এ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।

ফলে পরীমণি কেনো- অন্য যে কারও সঙ্গে চলাফেরার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। এক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কেউ অপপ্রচারে লিপ্ত হলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।

আরেকটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, পরীমণির সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে তা প্রেমের সম্পর্ক নয় এবং বিয়েও করেননি। উল্টো পরীমণি তার বাসায় পরীমণি যাওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন। পরে তার বাসায় যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে জানালে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে চুপ থাকেন।

পরিস্থিতিতে সিআইডি যা বললো

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা হোক বা যে কেউ হোক। আমরা চাই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে, সত্য ঘটনা উদঘাটন করতে। তারা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন আইনের আওতায় আসতে হবেই। পরীমণির সঙ্গে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা তো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করব। সে কারণে মামলা সংক্রান্ত এবং আসামি সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যম ও গণমাধ্যমে যা প্রকাশ পাবে সে বিষয়গুলো তদন্তে আসামি ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

কেএফ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০২১ সালে মারা গেছেন যেসব গুণিজন (ভিডিও)
বছরটি মহামারির, তাই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ। এ বছর দেশ হারিয়েছে অনেক গুণিজন। জাতী হারিয়েছে তার অকৃত্রিম অভিভাবকদের। বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেই করোনায় কাছে হার মেনেছেন। অল্প সময়ে এত বড় শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তথ্যমতে, চলতি বছরের শেষে ২৭ ডিসেম্বর মারা যান আওয়ামী লীগের আলোচিত-সমালোচিত সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী। একইমাসের ২৫ তারিখ করোনা পরবর্তী জটিলতায় প্রাণ হারান একুশে পদকপ্রাপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ।  গত ১৫ নভেম্বর নিউমোনিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুতোর ওপাড়ে চলে যান আগুনপাখির শ্রষ্টা, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ অক্টোবর ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন নাট্যজন ইনামুল হক।  ৪ জুলাই করোনা কেড়ে নেয় ‌‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানের গীতিকার ফজল-এ খোদাকে। একই মাসের ২৩ তারিখ করোনায় মারা যান গণসংগীতশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীর।  ২৫ মে মানুষ হতে চেয়ে করোনা আকাশের তারা হয়ে গেলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার করোনায় মারা যান ১০ এপ্রিল। একই মাসের ১১ তারিখ অকালে থেমে যায় রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী মিতা হকের কণ্ঠ।  সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী করোনায় অনন্ত লোকের পথ ধরেন ১৭ এপ্রিল।  ১৬ মার্চ জগতের মায়া ছেড়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শক্তিশালী অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক এ টি এম শামসুজ্জামান না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ২০ ফেব্রুয়ারি।  এ ছাড়া বছরের শুরুতে ৩ জানুয়ারি করোনা কেড়ে নেয় একুশে পদকজয়ী লেখিকা রাবেয়া খাতুনকে।  এত অল্প সময়ে তৈরি হওয়া এই বিশাল শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আরএ/টিআই
২০২১ সালে মারা গেছেন যেসব গুণিজন (ভিডিও)
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন (ভিডিও)
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেওয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে মাঝপথেই প্রশ্ন উঠেছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি না পেলেও বিএনপি নেতারা সংলাপে না যাওয়ার পক্ষে। আগের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আলোচনায় না বাসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিবি ও বাসদ। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করে সংলাপে যেয়েই সবার প্রস্তাব তুলে ধরা উচিত। কারণ এই আলোচনার ভিত্তিতেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হবে।   আইন না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে গত দুটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। এবারও কমিশন গঠনে নিবন্ধিত দলগুলোর সাথে সংলাপে বসছেন তিনি। ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯টি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সংলাপে অংশ নেয়নি। দাওয়াত পাওয়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি) না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রতন বলেন, কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেটা যেমন দেশবাসী দেখে নাই, আমাদের কাছেও পরিষ্কার হয় নাই। আমাদের দাবিটা কেন গ্রহণযোগ্য হলো না, সে বিষয় নিয়েও কিন্তু কোনও কথা আমরা শুনতে পাইনি। সেই কারণে আমরা এবার বলেছি, একই কথা বলার জন্য আমাদের যাওয়াটা আমরা ঠিক মনে করি না। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদেরকে তথাকথিত পরামর্শের জন্য না ডেকে তিনি যদি সংসদ বরাবর চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দিতেন যে, আগামী এক মাসের মধ্যে তোমরা আইন প্রণয়ন করে আমার কাছে পাঠাও সাক্ষর করার জন্য। তাহলে এক মাসের ভেতরে আইন হয়ে যেত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতারা জানান, তারা এখনও সংলাপের আমন্ত্রণ পাননি। তবে এই আলোচনায় না যাওয়ার পক্ষে বেশিরভাগ নেতা। বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যদি নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট করে বলা যায় যে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের চেয়ে ভালো কিছু হবে না। সেজন্য আমরা বলেছি- আমরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকব না। অর্থাৎ এই আলোচনায় বিএনপি যাবে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, আগের সংলাপের সঙ্গে এবারেরটা মেলানো ঠিক হবে না। কারণ আলোচনার টেবিলে যে কোনও সমস্যারই সমাধান হতে পারে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এখনতো রাষ্ট্রপতি ডেকেছেন আমাদের আগামী যে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে সেই বিষয়ে। এ ব্যাপারে তো এখনও ফয়সালা হয় নাই। সেটা তো আলোচনার মাধ্যমে হবে। তার জন্যই তো ডাকা। এর জন্য আট বছর আগে সুপারিশ কে দিয়েছিল, আমার মনে হয় এটা কোনও যৌক্তিক কথা না।    নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শেষে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন রাষ্ট্রপতি। যে নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  এনএইচ/এসএস
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন (ভিডিও)
কার্গো চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনছে ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কার্গো জাহাজ চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনতে হচ্ছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। দ্রুতই দেশটির সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তথ্যমতে, মালদ্বীপের চাহিদার শতভাগ পণ্যই আমদামি করে চলতে হয়। সে ক্ষেত্রে দেশটিতে বাংলাদেশের সবজি, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাহিদা রয়েছে। পাশিপাশি গার্মেন্ট ও বিভিন্ন শুকনো খাবারেরও চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু মালদ্বীপের সঙ্গে সরাসরি কার্গো জাহাজ না থাকায় খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না দেশটিতে ব্যবসা করা বাংলাদেশিরা।  তাই বাধ্য হয়ে ভারত ও শ্রীলংকার সমুদ্র বন্দর থেকে অধিকাংশ কার্গো জাহাজে করে আনতে হয় পণ্য। এতে কয়েকগুণ বেশি অর্থ গুনতে হয় আমদানিকারকদের। দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এম নাজমুল হাসান জানান, মালদ্বীপ সরকারের পতাকাবাহী জাহাজ মাত্র একটি। তাদের পক্ষে এই জাহাজ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভাব না। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকেই এগিয়ে আসতে হবে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যে খাদ্যদ্রব্য আবদানি করে তা পাশ্ববর্তি দেশের তুলনায় অনেক কম। তাই আমদানি বাড়াতে চাই তাহলে আমাদেরকে জাহাজ চালুর চেষ্টা করতে হবে।  এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কয়েকটি জাহাজ কোম্পানীর সঙ্গে কথা চলছে বলেও জানান তিনি। আরএ/টিআই
কার্গো চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনছে ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
ঢাকা নগর পরিবহন : প্রতিযোগিতায় একই রুটের অন্য বাস (ভিডিও)
বাস রুট রেশনালাইজেশনের ‘ঢাকা নগর পরিবহনের’ নতুন বাধা একই রুটে চলাচলকারী অন্য পরিবহনের বাসগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত একই রুটে যাত্রী পেতে মালঞ্চ ও প্রজাপতি পরিবহনের বাসগুলো আগের মতোই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। পরিবহন বিশেষজ্ঞের মতে, শক্তিশালী আলাদা মনিটরিং প্রতিষ্ঠান গড়ে না তুললে সুফল আসবে না।  রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বেশি যাত্রী পেতে ঢাকা নগর পরিবহনের বাসকে চাপ দিয়ে আগে চলে যায় মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাস।  ফাঁকা নগর পরিবহনের চালক-হেলপাররা জানান, বাসগুলোর আগে যাওয়ার এবং যাত্রীদের যেখানে-সেখানে নামানোর প্রবণতা নানা সমস্যার কারণ।  এমনই একজন বলেন, যাত্রীরা কাউন্টারে না নেমে স্টপেজেই নামতে চান। এখানেই তাদের নামতে হবে। এই সমস্যাটা আমাদের সবচেয়ে বেশি।  অপর একজন বলেন, রজনীগন্ধা সার্ভিস, মালঞ্চ সার্ভিস-এরকম লোকাল কিছু সার্ভিস আমাদের সমস্যা করছে। অভিযুক্ত বাসের কর্মীরা জানান, রুট পারমিট ঠিক করে তাদেরকেও ঢাকা পরিবহনে যুক্ত করলে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে। ঝামেলা ছাড়াই গন্তব্যে যেতে পারায় ঢাকা পরিবহনকে স্বাগত জানিয়েছে যাত্রীদের অনেকে।  এক যাত্রী বলেন, এই সিস্টেমটা আমার কাছে অবশ্যই ভালো মনে হয়। কাউন্টারে কাউন্টারে শুধু থামানো হয়। সবাই টিকিট কেটে ওঠে। বসার কোনো ঝামেলা নেই। অপর এক যাত্রী বলেন, দুই মেয়রকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা আমাদের এমন একটা সার্ভিস দিয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, উদ্যোগ ভালো, তবে টেকসই করতে আলাদা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এখানে আমি সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখি, এটাকে নিবিড়ভাবে মনিটরিং ও পরিচর্যা করার প্রতিষ্ঠান নেই। আরম্ভটা হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু টেকসইয়ের জন্য যথেষ্ট আয়োজন করতে হবে। রাজধানীর ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত নতুন এই ঢাকা নগর পরিবহন শুরু হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর থেকে। যাত্রী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধীরে ধীরে যদি অন্য পরিবহনগুলোকেও এর আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে গণপরিবহন ও রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরবে। এনএইচ/ এসএস
ঢাকা নগর পরিবহন : প্রতিযোগিতায় একই রুটের অন্য বাস (ভিডিও)
বছরজুড়ে সামাজিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অপতৎপরতা (ভিডিও)
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ব্যস্ত নাগরিক জীবনকে যেমনটা দিয়েছে গতি, তেমনি দিয়েছে স্বস্তিও। তবে স্বস্তির বাইরে অস্বস্তির ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা। হোক সেটি বড় বা ছোট কোনও ঘটনা, তাতেই অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে ঘর থেকে শুরু করে দেশ কিংবা দেশের বাইরেও। তৈরি হচ্ছে জাতি-ধর্ম আর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, নষ্ট হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। শেষ হতে যাওয়া চলতি বছরের আলোচিত এমন কিছু ঘটনাই তুলে ধরা হলো।  প্রযুক্তির আশীর্বাদে ব্যস্ত জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়! কর্মজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক মাধ্যমে সবকিছুই যেন দেখে ফেলা যায় এক নিমেষেই। তবে সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিগত যোগাযোগের এই মাধ্যম কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হুমকির কারণও হয়ে উঠছে বেশ। গেল অক্টোবরে শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় মন্দিরে হামলার ঘটনা বছরের শেষ দিকটাতে আলোচনার ঝড় ওঠে দেশ ও দেশের বাইরে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু মানুষ নানা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে মুহূর্তে সেটি ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য স্থানেও। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ধরা পড়ে ঘটনার মূলহোতা। এদিকে, চলতি বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে কিছু মহল। এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে সারাদেশে তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। বিভিন্নভাবে ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় কথিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে চলতি বছরের ৭ মার্চ আটক করে র‌্যাব। এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল থেকে, নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে আটক করে পুলিশ। মাদানির রেশ কাটতে না কাটতেই হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে নানা কাণ্ড। গেল ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের এক হোটেল থেকে নারীসহ আটক করা হয় মামনুনুলকে। পরে সেটি ভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হেফাজত কর্মীরা। ঘটনার প্রায় মাসখানেক পর ৩০ এপ্রিল মামুনুলের বিরুদ্ধে ওই নারী ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এভাবে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন নানা ফায়দা আদায় করে যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ। প্রশাসন এসব বিষয়ে কঠোর থাকার কথা জানালেও সাধারণ মানুষের দাবি স্থায়ী কোনও সমাধানের। এনএইচ/এসএস 
বছরজুড়ে সামাজিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অপতৎপরতা (ভিডিও)
আরও পড়ুন
চলন্ত বাসে সন্তান প্রসব, আজীবন ভাড়া ফ্রি
লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড : মৃত্যুর মিছিল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল র‌্যাব (ভিডিও)
দু-এক দিনের মধ্যেই শৈত্যপ্রবাহ
এবার শীতের মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে