logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কুড়িগ্রাম-১

আসন ধরে রাখতে মরিয়া জাপা, শক্ত অবস্থানে বিএনপি, হতাশায় আওয়ামী লীগ

আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চল, কুড়িগ্রাম
|  ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:৩৬ | আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০৪
কুড়িগ্রামের চারটি জাতীয় সংসদ আসনের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ কুড়িগ্রাম-১ আসন। এ আসনটি ৩৫ বছর থেকে জাতীয় পার্টি দখলে রেখেছে। এবার ভাগ বসাতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে মহাজোট হলে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই এই হতাশায় রয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং ভোটারা। অন্যদিকে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজয়ের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে ময়দানে এখন সরব। দলীয় নেতাকর্মীরা শুরু করেছে গণসংযোগ। প্রার্থীরাও বসে নেই। ঢাকা থেকে ছুটে আসছেন এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন। মনোয়ন পেতেও চলছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। জেলার গুরুত্বপূর্ণ কুড়িগ্রাম-১ আসনটি নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ২৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৬২ হাজার একশ’ ২২জন। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা দুই লাখ ২৮ হাজার ৬৪৫ জন। মহিলা ভোটার সংখ্যা ২ লাখ তিন হাজার ৪৭৭ জন। বিশাল সংখ্যার ভোটারের এই আসনটিতে অধিকাংশ এলাকা চরাঞ্চল। এসব চরাঞ্চলের যোগযোগ কঠিন হলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন সবখানেই। নেতাকর্মীরা শুরু করেছেন গণসংযোগ। যোগ দিচ্ছেন স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে। বিলবোর্ড পোস্টার শোভা পাচ্ছে হাট-বাজার, শহরের অলিগলিতে। ৩৫ বছর থেকে জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে আসনটি। মহাজোটের কারণে আওয়ামী লীগকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয় বারবার। তবে এবার আসনটি দখলে নিতে চায় আওয়ামী লীগ। আসনটি নিজেদের কব্জায় নিতে ঢাকায়  জোর লবিং অব্যাহত রেখেছে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছয় নেতা। তাদের দাবি সাধারণ ভোটাররা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দেখে নৌকা প্রতীক চান এই আসনটিতে। তবে জোটের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারেও জাপাকে আসনটি ছেড়ে দেয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ এবং হতাশা রয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে।

এদিকে সংগঠনের দৃঢ় মনোবল, নেতাকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং একক প্রার্থিতার কারণে ভোটের মাঠে চাঙ্গা রয়েছে বিএনপি। ভোটের রণকৌশল নির্ধারণে শহর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে ঘন ঘন বৈঠকে করছেন প্রার্থী এবং নেতাকর্মীরা। জাতীয় পার্টির দূর্গে এবার হানা দিতে চান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা। তিনি মনে করেন এ আসনে মহাজোটের প্রার্থীর জনসম্পৃক্ততা না থাকা এবং আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় বিএনপির প্রার্থীর জয় নিশ্চিত।

নানা কারণে জাতীয় পার্টির দূর্গ হিসেবে পরিচিতি আসনটি। এ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য আ.খ.ম শহিদুল ইসলাম বাচ্চুর পর তার ভাগ্নে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এ.কে.এম মোস্তাফিজুর রহমান চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনকে নিজেদের দখলে রেখেছেন। এবারও এ আসন ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি ও তার দলের নেতাকর্মীরা। দুই উপজেলার শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুতায়নসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছে জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবারও তাকেই নির্বাচিত করবেন জনগণ এমন প্রত্যাশা সংসদ সদস্য এ.কে.এম মোস্তাফিজুর রহমানের।

তবে সাধারণ ভোটারদের দাবি, ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি তাদের। দিনে দিনে বাড়ছে গরিবের সংখ্যা। তাই নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নে যোগ্য নেতাকে বেছে নিবেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
 

আরও পড়ুন  :

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • রাজনীতি এর সর্বশেষ
  • রাজনীতি এর পাঠক প্রিয়