logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বললেন ভিসি, উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল প্রতিনিধি
|  ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৭:৫৭ | আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৮:১৮
‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেয়ার প্রতিবাদে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে ভিসির ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা। 

গতকাল মঙ্গলবার থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়। তার ধারাবাহিকতায় ভিসির ওই উক্তি প্রত্যাহারের দাবিতে আজ বুধবার সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বক্তব্য প্রত্যাহারসহ ৫ দফা দাবি পেশ করেছেন আন্দোলনরতরা।  

জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইমামুল হক স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও ফুল দেয়া ছাড়া আর কোনও অনুষ্ঠানে (মধ্যাহ্নভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান) শিক্ষার্থীদের রাখা হয়নি। এর প্রতিবাদ করা হলে ২৬ মার্চ দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (বিইউডিএস) একটি প্রোগ্রামে ভিসি আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেন।  

পাঁচ দফা হচ্ছে- ছাত্র সংসদ চালু, পরীক্ষা বর্জন করলে ফের পরীক্ষা নেয়ার জন্য কোনও জরিমানা না করা, এক মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড হস্তান্তর করা, বিশ্ববিদ্যালয় বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ওভার ব্রিজ তৈরি করা। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. ইমামুল হক জানান, বছরজুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা অনুষ্ঠানমালা রয়েছে।  এমনকি স্বাধীনতা দিবসেও তাদের আলাদা কর্মসূচি রয়েছে। বছরে শুধুমাত্র বিশেষ এসব দিনেই ভাইস চ্যান্সেলরের পক্ষ থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা, বরিশালের বিশিষ্টজন এবং সাংবাদিকদের চা-চক্রের আমন্ত্রণ দেয়া হয়ে থাকে। এখানে ছাত্রদের কখনই রাখা হয় না। হঠাৎই এ বছর এমন করছে তারা। তাদের না রাখা হলে অনুষ্ঠান করতে দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছে তারা।

তিনি বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (বিইউডিএস) অনুষ্ঠানে আমি বলেছি, যারা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চায় না, যারা এভাবে কথা বলে তাদের আমি কি বলে আখ্যায়িত করবো? তাদের স্বাধীনতার পক্ষে বলে তো মনে হয় না। তাদের ব্যবহার রাজাকারের মতোই। 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আমি কীভাবে রাজাকারের বাচ্চা বলি, বিশ্ববিদ্যালয়ে তো মুক্তিযোদ্ধারও অনেক সন্তান রয়েছে। আমার কথা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: 

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়