logo
  • ঢাকা রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭

রাজধানীতে তরুণী ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ: যা ঘটেছিল সেদিন

Allegations,rape,murder, student, capital, day
রাজধানীতে তরুণী ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ: যা ঘটেছিল সেদিন

রাজধানীতে রোববার রাতে (৩১ জানুয়ারি) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে মদপানের পর ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও একজন বান্ধবী নেহাকে খুঁজছে পুলিশ।

ওই ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া গ্রেপ্তার মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ও নুহাত আলম তাফসিরকে জিজ্ঞাসাবাদে একটি প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, নিহত তরুণী ও রায়হান প্রেমিক-প্রেমিকা। তারা দুজনের দেখা করার বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। সেদিন বিকেলে তারা হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজার সামনে একত্রীত হন। সেখানে তাদের সঙ্গে দেখা হয় তাদের বন্ধু আরাফাতের। আরাফাত তাদেরকে গুলশানে একটি রেস্টুরেন্টে দাওয়াত আছে বলে নিমন্ত্রণ দেন। সেই দাওয়াতে যাওয়ার জন্য তারা প্রথমে আরাফাতের বাসায় যান। সেখান থেকে একযোগে উবার নেন। শেষ মুহূর্তে আরাফাত তাদের জানিয়েছিলেন, রেস্টুরেন্টের লোকেশন (ঠিকানা) একটু বদল হয়েছে, উত্তরায় যাচ্ছি আমরা। তখন তারা উবার নিয়ে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ‘ব্যাম্বু শুট’ রেস্টুরেন্টে যান। রেস্টুরেন্টে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন- নিহত তরুণীর বান্ধবী নেহা ও তার আরেক ছেলে বন্ধু। রেস্টুরেন্টে তারা পাঁচ জন (মোতালেব প্লাজার দিক থেকে আসা তরুণী-আরাফাত-রায়হান, এছাড়া রেস্টুরেন্টে থাকা নেহা ও তার ছেলে বন্ধু) একত্রীত হয়ে মদপান শুরু করেন। মদ সরবরাহ করেন নেহার ছেলে বন্ধু।

আরও পড়ুন : লাখ লাখ যৌন উত্তেজনা ট্যাবলেট কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছিল

সন্ধ্যার পরপরই তারা একসঙ্গে মদপান করেন। এক পর্যায়ে নেহা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রেস্টুরেন্টের টয়লেটে গিয়ে বমি করেন। তখন নেহা ও তার ছেলে বন্ধু চলে যায়। তরুণীর অবস্থা ‘বেগতিক’ দেখে রায়হান ও আরাফাত তরুণীকে নিয়ে একসঙ্গে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে একটি উবার নেন। ওই তরুণী ও রায়হানকে গুলশান-২ এ নামিয়ে দেন আরাফাত। তখন ওই তরুণী তার বাসায় যাবেন না, তাকে তার বান্ধবী তাফসিরের বাসায় নিয়ে যেতে বলেন। তখন তারা দুজন মিলে (ওই তরুণী ও রায়হান) মোহাম্মদপুর হোমস লিমিটেডের ৯ নম্বর বিল্ডিংয়ের বাসায় যান। সেই বাসায় তাফসির তার মায়ের সঙ্গে থাকেন। তবে সেদিন একা ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে তারা তাফসিরের বাসায় ঢোকেন। এর পরপরই ওই তরুণী বমি করেন। সেই বমি পরিষ্কার করেন তাফসির ও রায়হান। এরপর রায়হান ও তরুণীকে এক রুমে রেখে অন্য রুমে চলে যান তাফসির।

রাতে রায়হানের সঙ্গে একাধিকবার ওই তরুণীর ‘শারীরিক সম্পর্ক’ হয়। এরপর ২৯ তারিখ ভোরেই ওই তরুণীকে তাফসিরের বাসায় রেখে নিজের বাসায় চলে যান রায়হান। সকাল থেকে দুর্বল বোধ করছিলেন ওই তরুণী। দুপুরে তাফসিরের বাসায় এসে আবার খোঁজখবর নিয়ে যান রায়হান। শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) মধ্যরাতে রায়হান তার বন্ধু কোকোকে (এ ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে) ফোন দিয়ে ওই তরুণীর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। তখন কোকো এসে তাকে প্রথমে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধা না থাকায় ৪০ মিনিট পর তাকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে রাখা হয়। তখন রায়হান ওই তরুণীর বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। চট্টগ্রাম থেকে পরদিন ঢাকায় আসেন ওই তরুণীর বাবা। তিনি শনিবার (৩০ জানুয়ারি) মধ্যরাতে থানায় এসে একটি মামলা করেন। পরদিন রোববার (৩১ জানুয়ারি) তার মেয়ের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন : রাত তিনটায় লেচুবাগানে গিয়ে স্কুলছাত্রী দেখলো প্রেমিক নয় লাবু দাঁড়িয়ে আছে

আজ সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) প্রাথমিক অবস্থায় ওই ছাত্রীর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া পায়নি। এছাড়াও দেহের সংবেদনশীল অংশগুলোতেও জোরপূর্বক সঙ্গমের আলামত পাওয়া যায়নি বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আ ম সেলিম রেজা।

তিনি বলেন, রোববার রাতে মেয়েটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও তার যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথ থেকে আলামত সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে পারছি না। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আরও পড়ুন : ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ছাদ থেকে কাপড় আনতে গিয়েছিলো

এ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের একজন আরাফাত। এই আরাফাতও মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে তার দাফনও সম্পন্ন করেছে পরিবার। তবে আরাফাতের মরদেহ কবর থেকে তোলার আবেদন করবে পুলিশ। আর মামলার দুই আসামি মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ও নুহাত আলম তাফসিরকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

মামলায় যা অভিযোগ করা হয়েছে

ওই ছাত্রীর মৃত্যুর পর গতকাল রাতেই মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ওই ছাত্রীর বাবা। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় মর্তুজা রায়হান ওই তরুণীকে নিয়ে মিরপুর থেকে আসামি আরাফাতের বাসায় যান। আরাফাতের বাসায় স্কুটার রেখে আরাফাত, ওই তরুণী ও রায়হান একসঙ্গে উবারে করে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ব্যাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে আগে থেকেই আরেক আসামি নেহা এবং একজন সহপাঠী (তরুণ) উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আসামিরা ওই তরুণীকে জোর করে ‘অধিক মাত্রায়’ মদপান করান। মদ্যপানের একপর্যায়ে তরুণী অসুস্থ বোধ করলে রায়হান তাকে মোহাম্মদপুরে তার এক বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুহাত নামে একজনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তরুণীকে একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন রায়হান। এ সময় রায়হানের বন্ধুরাও রুমে ছিলেন। তাদের চোখের সামনেই ধর্ষণ করা হয়।

আরও পড়ুন : ইউল্যাব শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যা: দুই বন্ধু রিমান্ডে

ধর্ষণের পর রাতে ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে বমি করলে রায়হান তার আরেক বন্ধু অসিম খান কোকোকে ফোন দেন। সেই বন্ধু পরদিন এসে ওই তরুণীকে প্রথমে ইবনে সিনা ও পরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুই দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর রোববার তরুণী মারা যান।

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS