
আর ৪৪ দিন পর রাশিয়ার ১২টি ভেন্যুতে শুরু হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলের ২১তম আসর। চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। শহরগুলো সাজছে বর্ণিলভাবে। আয়োজক রাশিয়া ফুটবল ফেডারেশন ও ফিফা সাজিয়ে নিচ্ছে সব কিছু। কারা ম্যাচ অফিসিয়াল থাকবেন, কে কোন ম্যাচে বাঁশি বাজাবেন, পতাকা হাতে দাঁড়াবেন কারা- সবই ঠিকঠাক। এই তো সোমবার ঘোষণা করেছে বিশ্বকাপের জন্য বাছাই করা ১৩ জন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) নামও।
কিন্তু এই আয়োজনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অফিসিয়ালদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ম্যাচ চলাকালীন মাঠে শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চোখ রাখেন তারা। এ জন্য বিশ্বের নানা দেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়ে থাকে আয়োজকরা। রাশিয়া বিশ্বকাপে ভেন্যু, টিম হোটেল, প্র্যাকটিস ভেন্যু থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব স্থানে নিয়োজিত রাখার জন্য প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সোমবার স্বেচ্ছাসেবকদের ইউনিফর্ম উন্মোচন করেছে রাশিয়া। লাল রঙের দৃষ্টিনন্দন এ ইউনিফর্ম উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য মার্সেল দেশাই।
তো কেমন হবে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের ইউনিফর্ম? স্বেচ্ছাসেবকদের ইউনিফর্ম প্রস্তুতের দায়িত্ব পেয়েছে ফিফার দীর্ঘদিনের সহযোগী ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। কোম্পানিটি ১৯৭০ সাল থেকে ফিফার সাথে কাজ করছে। সোমবার রাশিয়ার এখতেরিনবার্গের ফুটবল পার্কে স্বেচ্ছাসেবকদের ইউনিফর্ম উন্মোচন করা হয়েছে। স্থানীয় অনেক স্বেচ্ছাসেবক তাদের ইউনিফর্ম পরিধান করে টুইট করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টও করেছেন।
-----------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: র্যাংকিং ধরে রাখা সহজ নয়: মুশফিক
-----------------------------------------------------------
রাশিয়া বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটি তাদের টুইটার পেজে স্বেচ্ছাসেবকদের ইউনিফর্ম পোস্ট করেছে। এবারের ইউনিফর্ম থাকছে লালের আধিক্য। লাল রঙের জ্যাকেটের সামনের বাম দিকে আছে রাশিয়া বিশ্বকাপের লোগো এবং ডান দিকে বড় করে সোনালী হরফে লেখা (volunteer)। জ্যাকেটের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের থাকবে একটি টি-শার্ট, জ্যাকেট, নীল রঙের প্যান্ট, লাল রঙ্গের টুপি, বেসবল ক্যাপ, জুতার ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক ও রেইনকোট। প্রত্যেকটির সঙ্গেই থাকছে বিশ্বকাপের লোগো।
ইউনিফর্ম উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেশাই বলেছেন, স্বেচ্ছাসেবক ছাড়া ফিফা বিশ্বকাপ চিন্তাই করা যায় না। প্রায় ২০ হাজারের মতো মানুষ আয়োজক ও সমর্থকদের সহযোগিতা করবে। এখন আমরা সহজেই তাদের শনাক্ত করতে পারবো। ইউনিফর্মটি শুধুমাত্র আরামদায়ক আর স্টাইলিস্টই নয়, দৃষ্টিনন্দনও। আমি আজ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের সাথে কথা বলেছি। তারা খুবই ইতিবাচক চিন্তার মানুষ। বিশ্বকাপ চলাকালীন তারা যেকোন সময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এদিকে রাশিয়ার স্থানীয় আয়োজক সংস্থার প্রধান অ্যালেক্সি সরোকিন বলেছেন, আমরা খুবই আনন্দিত যে, আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা সহজে শনাক্ত করার মতো আরামদায়ক একটি ইউনিফর্ম পেয়েছে। এর ফলে ভিড়ের মধ্যেও অতিথিরা সহজেই তাদের চিনে নিতে পারবে।
আরও পড়ুন:
এএ




