
দীর্ঘ ১৭ মাস পর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরলো বাংলাদেশ। আর লাল-সবুজের দেশের এই ফেরাটা খারাপ হয়নি। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও লাওসের বিপক্ষে দারুণ এক ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় লাওস আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতা নিয়ে খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ভুটানের বিপক্ষে হারের পর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসনে ছিল বাংলাদেশ।
লাওসের বিপক্ষে বাংলাদেশের র্যাংকিংয়ের ব্যবধান খুব বেশি যে তা নয়। দুই দেশই ফুটবলে পিছিয়ে থাকা দেশ। বাংলাদেশের র্যাংকিং ১৯৭, লাওসের অবস্থান সেখানে ১৮৩। দুই দলের সর্বশেষ লড়াই হয়েছিল সেই ১৫ বছর আগে ২০০৩ সালের ২৭ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে। যে ম্যাচে ১-২ গোলে হার মানে বাংলাদেশ।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়ে ২০ বছর নিষিদ্ধ
--------------------------------------------------------
তবে এর কোনো কিছুই আসলে আলোচনায় ছিল না। মূল আলোচনা ছিল বাংলাদেশের মাঠে ফেরা। আর সেই ফেরার ম্যাচে বাংলাদেশ কেমন করে সেটিই ছিল দেখার। প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ায় বাংলাদেশের দর্শকদের মনে অবশ্য দুশ্চিন্তাই বাসা বেঁধেছিল। কিন্তু অ্যান্ড্রু ওর্ডের দল খেলায় ফিরে এসেছে দারুণভাবে। শেষ ২০ মিনিটে বাংলাদেশ গোল দুটি পরিশোধ করে। যার একটি যোগ করা সময়ে। অভিষিক্ত আবু সুফিয়ান সুফিল করেছেন বাংলাদেশের পক্ষে গোল দু'টি।
প্রথমার্ধের ২৮ মিনিটে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের হাস্যকর ভুলে প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ। মধ্য মাঠ থেকে বল নিয়ে আক্রমণে ঢুকে লাওস। বাঁ প্রান্তে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার মামুন মিয়া বিপদ মুক্ত করতে পারেননি। নিজের পা থেকে যেন লাওস খেলোয়াড়ের পায়ে বল তুলে দিলেন। গোল আদায় করে স্বাগতিক দলকে এগিয়ে দেন কংমাথিলাথ। বিরতির ঠিক আগে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ২-০ করেন কংমাথিলাথ।
বিরতির পর ম্যাচের ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। অবশেষে সে আশা ফুরায় ম্যাচের ৮২ মিনিটে সুফিলের গোলে। সেই গোলের পর যেন আত্মবিশ্বাস ফেরে বাংলাদেশ দলে। বাংলাদেশ রক্ষণাত্মক খেলা খেললেও সেখানকার দুর্বলতা ফুটে উঠেছে ভালো ভাবেই। তবে প্রতি আক্রমণে উঠে ৯২ মিনিটে স্কোর লাইন ২-২ করে ফেলে বাংলাদেশ। প্রথম গোলের পর কোনো উদযাপন না করলেও দ্বিতীয় গোলের পর পুরো দল আনন্দে মাতে।
সেই আনন্দ অবশ্য মাটি হচ্ছিল প্রায়ই। লাওস খেলার শেষ দিকে আদায় করে নেয় ফ্রি কিক। সেই ফ্রি কিক থেকে গোলও পেয়ে যায় তারা। কিন্তু অফ সাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। ফলে নাটকীয় এক ড্র পান জামাল ভূইয়ারা।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ সর্বশেষ ম্যাচ জিতেছিল ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১০ সালের পর দক্ষিণ এশিয়া বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। নতুন কোচ ওর্ডের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে এটা ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
আরও পড়ুন:
এএ




