• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

পাঠক প্রতিক্রিয়া

আপনাদের মা-বোন হলে কি চুপ থাকতে পারবেন?

শাহীনুর রহমান
|  ২৫ মার্চ ২০১৮, ১৯:০৩ | আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৮, ১৯:১৫
রাজধানীতে বাসে চালক-হেলপারদের হাতে নারী নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। চলতি মাসে কয়েকটি ঘটনা তা আবারও সামনে এনেছে। নিউ ভিশন বাসে ইডেনের শিক্ষার্থী হেনস্তা হবার পর গত শুক্রবার রাজধানীতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। মৌচাক-ধানমন্ডি রুটের রমজান বাসে উঠে হেলপারের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। যা আরটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।  

শুক্রবারের ওই ঘটনা নিয়ে গতকাল সংবাদ প্রকাশিত হয় হেলপার গেটে হাত দিয়ে বলে- ‘নামেন কেন, চলেন ঘুরে আসি’- এই শিরোনামে।  এর আগে গত ১৭ মার্চের ঘটনাও প্রকাশিত হয়-  ‘ড্রাইভার বললো `গেট লাগায় দে’ বাস থেকে লাফিয়ে বাঁচলেন ইডেনের ছাত্রী শিরোনামে।

এই দুই ঘটনা নিয়ে  প্রকাশিত সংবাদে পাঠকরা ফেসবুকে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, যানবাহনের স্টাফদের মতো যেসব স্টাফ এই রকম মানসিকতা নিয়ে চলে তাদের একটাই শাস্তি- মৃত্যুদণ্ড হওয়া  উচিত।

মো. ইমন খান নামে একজন লিখেছেন, এদের কঠিন বিচার চাই। যদি বিচার না হয় আজ, এরা অন্য দিন আপনাদের বোন/বৌ/মেয়েকে নির্যাতন করবে। তখন কি চুপ থাকতে পারবেন? হোক কঠিন বিচার।

সানাউল মোরশেদ লিখেছেন, ড্রাইভারের বাচ্চারা আর মানুষ হইলো না, তোদের কি মা-বোন নাই?

বাসের হেলপার-ড্রাইভার অপকর্ম করলেও প্রশাসন উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন শাকিল হাসান।

তিনি লিখেছেন- একের পর এক হেলপার ড্রাইভার অপকর্ম করে যাচ্ছে। কোনো  ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ওই দিন (১৭ মার্চ) তো আরেকটা মেয়েকে খামারবাড়ী পর্যন্ত নিয়ে গেছে। তারপর জান নিয়ে শেষপর্যন্ত বের হয়েছে (মেয়েটি)। এখনও পর্যন্ত কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে সেটা আমরা জানি না।

রিপন নামে একজন বলছেন, বিষয়টি খুব বাজে সংকেত দিচ্ছে আমাদের। আর একটু নিরাপদে চলাচল করতে হবে। পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

এ ঘটনায় তীব্র কথা বলেছেন অনেকে। শফিক ইসলাম নামের একজন লিখেছেন- বাসের মালিকসহ অভিযুক্তদের উল্টো করে ঝুলিয়ে প্যাঁদাতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে ভুল করেও এমন কিছু ভাববার সাহস না পায়।

মরিয়ম নিসা বলছেন, বাসেই মেয়েরা সবচেয়ে বেশি সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্টে পড়ে। দাঁড়িয়ে যেতে হয় প্রায় সময়। কারণ অনেক সময় টাইমলি পৌঁছানোর জন্যই বাসে উঠে যেতে হয় তখন বাবার বয়সি থেকে শুরু করে হাটুর বয়সী ছেলেগুলো পর্যন্ত মেয়েদের গুঁতোগুঁতি করে। প্রতিবাদ করলে বলে- কী লোকাল বাসে ঢং করতে উঠছি কেন!

সুমাইয়া মাসরুরা ঝুম ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এ ধরনের পদক্ষেপে ধন্যবাদ জানান। বলেন, ধন্যবাদ মেয়েটিকে যে লোকলজ্জার ভয়ে চুপ থাকেনি। বয়কট নিউভিশন।

সাদিয়া পায়েল লিখেছেন, নারীদের অধিকার নিয়ে এতো পদক্ষেপ কিন্তু নারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সেই তৎপরতা কোথায়?

রাজু আহমেদ লিখেছেন, চারিদিকে এতো চেঁচামেচি নারীর ক্ষমতায়ন উন্নয়ন নিয়ে! কিন্তু দেখতেছি দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে!

এসআর/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়