• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

আলেম সমাজ কখনই ইংরেজি শিক্ষার বিরোধিতা করেনি

হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দিন
|  ২২ মার্চ ২০১৮, ২১:২৪
বৃটিশ শাসন বিরোধী আন্দোলনসহ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে উপমহাদেশের আলেম সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে।  

মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আলেম সমাজ সব সময় সোচ্চার ছিল। সেই দখলদার বৃটিশ শাসন থেকে পরবর্তী প্রতিটি শাসকের অবৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেছে আলেম সমাজ।

এই অঞ্চলে সুশিক্ষা প্রতিষ্ঠার বিষেয়ে সব সময়ই আলেম সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কারণ পবিত্র কুরআনের সুরা মায়েদার ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্য দেয়ার ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোনো সম্প্রদায়ের শক্রতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে খুবই অবগত।  

ইসলামি ভাষা আরবি, কিন্তু অন্য কোনো ভাষা ইসলাম কখনও  বর্জন করেনি। ভাষা একটি বাহন বা মাধ্যম। এজন্য শুধু ভাষা হিসেবে ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষার বিরোধিতা আলেমগণ করবেন, তা যুক্তিসংঙ্গত নয়। যদিও একশ্রেণির মানুষ এই মিথ্যা প্রচারণা করেছে যে, উপমহাদেশের আলেমগণ ইংরেজি ভাষাকে হারাম বলেছেন। কিন্তু তা বাস্তবতাহীন একটি প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তৎকালীন যুগের আলেমগণের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শুনলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। 

আলেম সমাজের মাথার মুকুট হজরত মাওলানা কাসিম নানুতরি (রহ.)। তিনি ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করে একে দাওয়াতের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার আকাঙ্খা প্রকাশ করেছিলেন।

(দারুল উলুম দেওবন্দ সংখ্যা, পৃঃ ১৬৪)।

হজরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহ.) এক প্রশ্নের উত্তরে লেখেন ইংরেজি ভাষা শেখা জায়েজ।(তাওয়া রশীদিয়াহ সংখ্যা, পৃঃ ৫৭৪)।

শায়খুল হিন্দ হজরত মাওলানা মাহমুদুল তাসান দেওবন্দী (রহ.) বলেন, ওলামায়ে কেরাম কখনো ইংরেজি ভাষা ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে নিষেধ করেননি। (দারুল উলুম দেওবন্দ সংখ্যা, পৃঃ ৬৬০)

কখনও ইংরেজি ভাষা শিখতে আলেম সমাজ নিষেধ বা হারাম বলেন নাই। তাহলে কিভাবে একথা আসল যে, তৎকালীন আলেমগণ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে হারাম বলেছেন।

এবিষয়ে বর্তমান সময়ের আলেমগণ মনে করেন, ইংরেজরা  যখন উপমহাদেশ শাসন শুরু করে। মুসলমানদের যখন তারা কোনভাবেই তাদের আয়ত্বে নিতে পারছিল না, তখন তারা  ধর্মীয় শিক্ষার ওপর এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর আঘাত হানতে থাকে।

তখন আলেম সমাজ ইংরেজি শিক্ষাকে বর্জন কর আর ধর্মীয় শিক্ষাকে আকড়িয়ে ধরার ডাক দেয়। এর দ্বারা ইংরেজি শিক্ষা হারাম বা নাজায়েজ ঘোষণা করা হয়েছিল তা বলার কোন সুযোগ নেই। এ ধরনের উদ্দেশ্য কোনো আলেমরই ছিল না।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়