• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

কবিতার মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে এক করার স্বপ্ন দেখি: নির্মলেন্দু গুণ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৪ জুলাই ২০১৮, ২১:১৭ | আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৮, ২২:৩১
জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত সব রাষ্ট্রের কাব্যগ্রন্থকে এক জায়গায় সংগ্রহ করতে ও বিশ্বের কবিতা প্রেমীদের গবেষণার জন্যই কবিতাকুঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানালেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি নির্মলেন্দু গুণ।

২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলা শহরের মগড়া নদীর পারে সরকারের কাছ থেকে ৮ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এই কবিতাকুঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এ বিষয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, প্রাথমিকভাবে কবিতাকুঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছ থেকে ৫০ টাকার বিনিময়ে ৮ শতাংশ জমি লিজ নেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য কোনও অনুদান পাইনি বা কোনও অনুদান আশা করি না।

তিনি বলেন, ফেসবুকে কবিতাকুঞ্জ নিয়ে আমার স্বপ্নের কথা জানালে ভক্ত, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এগিয়ে এসেছেন। এখনও তাদের দেয়া অনুদানেই চলছে কবিতাকুঞ্জ।

নির্মলেন্দু গুণ বলেন, সারা পৃথিবীর কাব্য প্রেমিকদের আমি এই কবিতাকুঞ্জে স্বাগত জানাই। সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে যত কাব্যগ্রন্থ রচিত হয়েছে এখানে সব সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বে এখনও কেউ নেয়নি। 

যারা কাব্য নিয়ে আলোচনা করতে, গবেষণা করতে চান তারা এখানে বিশ্বের যেকোনও ভাষার কবিতা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা করতে পারবেন।

কবি বলেন, অন্যান্য ভাষার মধ্যে নানা কারণেই ইংরেজি সাহিত্য আমাদের এখানে প্রভাব বিস্তার করেছে। তাই বাংলা সাহিত্যের পর অন্য ভাষার মধ্যে ইংরেজি সাহিত্যের সংগ্রহই এখানে বেশি।

এছাড়া জার্মান, ইতালি, ফ্রান্স, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, চীনা, হিন্দি, উর্দু, ফারসিসহ ৫৫টি ভাষার কাব্য সাহিত্য ইতোমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে আমার ইচ্ছা আছে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত যেসব রাষ্ট্র আছে তার প্রতিটি রাষ্ট্রের ভাষার বই এখানে সংগ্রহ করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ওয়েবসাইটে কবিতা সংগ্রহের সমস্ত তথ্য দেয়া থাকবে। তাতে দেখা যাবে যেকোনও রাষ্ট্রের কবিতাপ্রেমী যখন বাংলাদেশে আসবে তখন একটি বারের জন্য হলেও কবিতাকুঞ্জ পরিদর্শন করবেন। আর বিদেশিরা যখন দেখবে যে, তাদের দেশের ভাষার কবিতা এখানে আছে তখন স্বাভাবিকভাবেই সে আনন্দিত হবে।

কবি দাবি করেন, পৃথিবীতে কোথাও সমস্ত ভাষার কবিতা সংগ্রহের কোনও উদ্যোগ কেউ নিয়েছেন এমন নজির নেই। সেই হিসেবে কবিতাকুঞ্জ বিশ্বে এক অন্যন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে।

আমি চাই কবিতার মাধ্যমে সমস্ত বিশ্বকে একটি বিন্দুতে নিয়ে আসতে। জাতিসংঘ যেমন তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একটি জায়গায় নিতে চায়। আমিও চাই কবিতাকে কেন্দ্র করে যেন সমস্ত বিশ্ব একটি বিন্দুতে একত্রিত হয়। এটিই আমার স্বপ্ন।

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়