• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

৯/১১ হামলার ১৭ বছর পরও তেজ হারায়নি আল-কায়েদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:০৮ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:২৮

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন মুলুকে বিমান নিয়ে হামলা চালায় আল-কায়েদা জঙ্গিরা। ওই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদার হামলার জবাবে জঙ্গি গ্রুপকে নির্মূল করার প্রতিজ্ঞা করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। কিন্তু ওই ঘটনার ১৭ বছর পর আল-কায়েদা এখন আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। খবর লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসের।

সমালোচকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির কারণেই আল-কায়েদা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের পরিচালক রিটা কাটজ বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা এটা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে আল-কায়েদা কিছু ব্যক্তির সমষ্টির চেয়েও বেশি। তিনি বলেন, এটা একটা আদর্শ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং নেতাদের হত্যা এবং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে বোমা ফেলে এই আদর্শকে ধ্বংস করা যাবে না।

আগের চেয়ে এখন আরও বেশি যোদ্ধা রয়েছে এই গ্রুপের। সিরিয়া এবং ইয়েমেনেই কেবল ২০ হাজারের বেশি আল-কায়েদা জঙ্গি রয়েছে। এছাড়া উত্তর আফ্রিকা, সিরিয়া, ইরাক, এশিয়ার কিছু অংশে এবং আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় এখনও নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে গ্রুপটি।

আর নিজেদের কৌশলও পরিবর্তন করেছে আল-কায়েদা। ইসলামিক স্টেটের মতো নৃশংস হামলা বা প্রচারণা বাদ দিয়ে কিছুটা নরম কৌশল অবলম্বন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত সুন্নি প্রধান দেশগুলোতে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে তারা।

ইরাক

আল-কায়েদার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধে জয়ের পর ইরাকি সেনাবাহিনী বাতিল করে দেয় তারা। এর ফলে প্রশিক্ষণ থাকা হাজার হাজার সেনাসদস্য চাকরি হারান।

একসময় ইরাকে আল-কায়েদার জন্ম নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে সিরিয়ার যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থানে সেখানে শক্ত করে তারা।

ইয়েমেন

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার আগে থেকেও ইয়েমেনে সক্রিয় আল-কায়েদা। ২০০০ সালের অক্টোবরে এডেন বন্দরে ইউএস ডেস্ট্রয়ার কোল যুদ্ধজাহাজে বোমা হামলা চালায় তারা।

টুইন টাওয়ারে আল-কায়েদার হামলার পর ২০০২ সালে ইয়েমেনে জঙ্গি গ্রুপটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরই পরম্পরায় ২০০৯ সালে আল কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি)’র জন্ম হয়।

২০১৪ সালে ইরানের সমর্থিত শিয়া গ্রুপ হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহৎ বন্দর মুকাল্লা দখল করে নেয় আল-কায়েদা।

সোমালিয়া

১৯৯১ সালে সোমালিয়া সরকারের পতন হলে শরিয়াহ ভিত্তিক ইসলামিক কোর্ট ইউনিয়নের উত্থান ঘটে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরোধীদের সমর্থন দিলে এই গ্রুপটি যুব শাখা শাবাব স্বাধীন প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু করে। এসময় তারা সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

২০১২ সালে শাবাব নিজেদের আল-কায়েদার সহযোগী হিসেবে ঘোষণা দেয়। এর ফলে বিদেশি যোদ্ধারা এই গ্রুপে যোগ দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপটির হামলা চালিয়ে এটির নেতাকে হত্যা করলেও সোমালিয়ার গ্রাম্য এলাকায় শক্ত অবস্থানেই আছে আল-শাবাব।

সিরিয়া

২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের একটি সরকারি ভবনে হামলা চালায় আল নুসরা ফ্রন্ট। এরমধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখা আল নুসরা ফ্রন্টের সূচনা ঘটে।

এদিকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের মধ্যে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী নিজেদের পক্ষে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা। এমনকি ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে মতাদর্শিক পার্থক্য থাকার কারণে বেসামরিক ব্যক্তিদের সমর্থনও পায় তারা।

ওই গ্রুপটি আলবেনিয়া এবং চীনের বিদেশি যোদ্ধাসহ প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার যোদ্ধা রয়েছে।

লিবিয়া

আনুষ্ঠানিকভাবে লিবিয়ায় কোনও আল-কায়েদা গ্রুপ নেই। এর শাখা লিবিয়ান ইসলামিক ফাইটিং গ্রুপকে ২০১১ সালে বাতিল করে দেয়া হয়।

বেশ কয়েক বছর তাদের দিকে কোনও ফোকাস না থাকায় লিবিয়ায় পুনরায় সংঘবদ্ধ হয় আল-কায়েদা।

আরও পড়ুন  :

এ/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়