• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

আসছে ফ্লোরেন্স, যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৫১ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১৩

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী হারিকেন ফ্লোরেন্স দেশটির দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কয়েক দশকের মধ্যে এই শক্তিশালী হারিকেনটি আগামি বৃহস্পতিবার উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় আঘাত হানবে। ইতোমধ্যে উত্তর ক্যারোলাইনা, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। খবর বিবিসি, সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্টের।

এদিকে উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনা এবং ভার্জিনিয়ার জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা সেখান থেকে সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ ক্যারোলাইনার ১৮৭ মাইল দীর্ঘ উপকূল সংলগ্ন সব বাসিন্দাদেরও সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরেন্স এখন ক্যাটাগরি চারের হারিকেনে পরিণত হয়েছে। তারা জানাচ্ছে, ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার বাতাসের সঙ্গে এই ঝড়টি শক্তি অর্জন করছে।

সোমবার সকালের উত্তর ক্যারোলাইনা থেকে প্রায় দক্ষিণপূর্বে অবস্থানের সময় এটি দুই ক্যাটাগরির ঝড় ছিল। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, আটলান্টিক মহাসাগরের গরম পানি থেকে শক্তি সঞ্চয় করা এই ঝড়টি পাঁচ ক্যাটাগরি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এর আগে ১৯৮৯ সালে উত্তর ক্যারোলাইনায় চার ক্যাটাগরির ঘূর্ণিঝড় হুগো আঘাত হেনেছিল। ওইসময় অঙ্গরাজ্যের সাতশ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিসহ ৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।

জাতীয় হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, ফ্লোরেন্সের কারণে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তারা বলছেন, হারিকেনের সঙ্গে ভারী বর্ষণ এবং উপকূলীয় এলাকায় ও মূল ভূখণ্ডে বন্যা হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আটলান্টিকের ঝড়গুলো খুবই বিপজ্জনক। এই ঝড়গুলোর আঘাতের সীমার মধ্যে যারা রয়েছে তাদের অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে চলার উৎসাহ দিচ্ছি। কেন্দ্রীয় সরকার পুরো বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।

অনেক দোকানে এরইমধ্যে পানির মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম শেষ হয়ে গেছে

এরইমধ্যে দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় মঙ্গলবার সরকারি অফিস এবং ২৬ কাউন্টির সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় ভবনগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র এবং স্কুলবাসগুলোকে পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হবে।

ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়কে সামনে রেখে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় এইসব অঙ্গরাজ্যের মানুষজনকে পানি, জেনারেটর ও গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লাইন দিয়ে কিনতে দেখা গেছে। কিছু সুপারশপ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের দোকানে পানি শেষ হয়ে গেছে।

তবে হারিকেন ফ্লোরেন্স ছাড়াও আটলান্টিক মহাসাগরের আরও কয়েকটি ছোট ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হচ্ছে। হারিকেন আইজাক, হারিকেন হেলেন এবং ক্রান্তীয় ঝড় অলিভিয়া’র ব্যাপারেও পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন আবহাওয়া অফিস।

আরও পড়ুন  :

এ/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়