• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ৮ কার্তিক ১৪২৫

এখন কী অবস্থায় আছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জেদ্দা টাওয়ার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৫:২০ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৭:২৪

মরুভূমির বুক চিরে গড়ে উঠছে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা বিল্ডিং জেদ্দা টাওয়ার। ২০২০ সালে তিন হাজার ২৮০ ফুট (এক হাজার মিটার) উঁচু টাওয়ারটির উদ্বোধন করা হলে এটি দুবাইয়ের ২৩৬ ফুট (৭২ মিটার) বুর্জ খলিফাকেও ছাড়িয়ে যাবে। জেদ্দা টাওয়ার নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৪০ কোটি ডলার। খবর সিএনএনের।

২০১৭ সালে টাওয়ারটির উচ্চতা ছিল ২৫২ মিটার (৮২৬ ফুট)। তবে সুউচ্চ এই টাওয়ারটি জেদ্দা অর্থনৈতিক শহরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে। এই অর্থনৈতিক শহরে ৫৭ মিলিয়ন স্কয়ার ফুটের ওপর একটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্রজেক্ট রয়েছে, যেখান ঘর, হোটেল ও অফিসসহ পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণ থাকবে।

কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ চড়াই উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০১৩ সালে জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি দীর্ঘায়িত হয়। এই প্রকল্পের দুই উল্লেখযোগ্য অর্থদাতা সৌদি প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালাল ও জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিন লাদেন গ্রুপের চেয়ারম্যান বকর বিন লাদেনকে ২০১৭ সালের নভেম্বরে দুর্নীতির দায়ে আটক করা হয়।

এই সুউচ্চ টাওয়ারের ডেভলপার জেদ্দা ইকোনোমিক কোম্পানি অবশ্য জানিয়েছে, ২০২০ সালে সময়মতোই এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। আল-ওয়ালিদের কোম্পানি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, আর বিন লাদেন গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জেদ্দা টাওয়ার এখন চারদিকে মরুভূমি দিয়ে ঘেরা, কিন্তু যখন এটির নির্মাণ শেষ হবে তখন এটি জেদ্দা অর্থনৈতিক শহর উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে।

জেদ্দা ইকোনোমিক কোম্পানির সিইও মৌনিব হাম্মদ বলেছেন, ২০২০ সাল থেকে আমরা এখানে টাওয়ার, শপিং মল এবং আরও অনেক প্রজেক্ট দেখতে পাবো। ২৬ মিলিয়ন স্কয়ার ফুট জায়গার ওপর নির্মিত এই টাওয়ারটি ২৫২ তলা। এটিতে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পর্যবেক্ষণ ডেকও থাকবে। যা ভূমি থেকে দুই হাজার ১৭৮ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এছাড়া টাওয়ারটিতে পাঁচ হাজার ৩৮২ ফুট একটি আউটডোর প্লাটফর্ম রয়েছে।

জেদ্দা টাওয়ারে একটি ফাইভ-স্টার ফোর সিজনস হোটেল এবং ৯৭ অধিভুক্ত সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টসহ সাতটি ডুপ্লেক্স রয়েছে। অফিসের জন্য সাতটি ফ্লোর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর চার তলা বরাদ্দ থাকবে আবাসনের জন্য, যেখানে ৩২৫টি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে।

টাওয়ারের এলিভেটর রেকর্ড উচ্চতা দুই হাজার ১৬৫ ফুট (৬৬০ মিটার) পর্যন্ত উঠবে। অন্যদিকে ডাবল-ডেকার লিফটগুলো ঘণ্টায় ১২ দশমিক ৫ মাইল গতিতে দর্শণার্থীদের লেভেল-১ থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ ডেকে নিয়ে যাবে।

জেদ্দা টাওয়ারের কাজ চলছে

জেদ্দা ইকোনোমিক কোম্পানির চিফ ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিশাম জোমাহ বলেন, আপনি যখন টাওয়ারে পা রাখবেন, তখন আপনি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০ মিটার উঁচুতে অবস্থান করছেন। তাই বিল্ডিংয়ের প্রতিটি ফ্লোর আপনাকে ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেবে।

ডেভেলপারদের বিশ্বাস জেদ্দা টাওয়ার এই এলাকার জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হবে। কেননা এই শহরটিকে ঐতিহ্যগতভাবেই দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জোমাহ বলেন, এই টাওয়ার হওয়ার আগে, মানুষ এখানে বসবাসের বিবেচনা করতো না। কিন্তু আমরা একটি স্বাধীন শহর তৈরি করছি, যাতে আপনি এখানেই সব কিছু পেয়ে যান।  এটা জেদ্দার মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে দেবে।

এদিকে জেদ্দা টাওয়ার সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০-র সঙ্গে পুরোপুরি মিল খেয়ে যায়। কেননা সরকারি ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এনে বৈচিত্র্যপূর্ণ অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে চায় রিয়াদ।

জেদ্দা ইকোনোমিক কোম্পানির সিইও মৌনিব হাম্মদ বলেন, মিশরীয়রা পিরামিড নির্মাণ করেছিল। মধ্যযুগের ফ্রান্সে তারা বড় বড় ক্যাথিড্রাল ও চার্চ নির্মাণ করেছিল। আধুনিক যুগে তারা নিউ ইয়র্ক, শিকাগো নির্মাণ করেছে।

তাই এটি শক্তিমত্তা ও নির্মাণশৈলীর প্রতীক। প্রতিটি শহর যেমন অর্থ, ক্ষমতার পর শক্তিমত্তা চায়।

তিনি বলেন, শক্তির জায়গা নিশ্চিত হলে আপনি কিছু একটা বানাতে চান, পৃথিবীতে কিছু রেখে যেতে চান। আর আজ জেদ্দা এমন ভবনের অধিকারী হবে যখন পরবর্তী প্রজন্মগুলো এটি নিয়ে আলোচনা করবে।

আরও পড়ুন : 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়