• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

লাইসেন্স প্রক্রিয়া জটিল তাই দালালই ভালো: ভুক্তভোগী (ভিডিও)

রাফিয়া চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন
|  ০৬ আগস্ট ২০১৮, ২১:৫৯ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৬
মিরপুর ১৩ তে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, বিআরটিএ’র অফিসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বেলাল(ছদ্মনাম) সাহেব। একটা লার্নার লাইসেন্স নেবেন। লাইন দেখেই দাঁড়িয়ে গেলেন কিন্তু কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কিছু না বুঝতে পেরে পরে হেল্প ডেস্কের লাইনে এসে দাঁড়ান। সেখান থেকে একজন একটা ফর্ম দিলেন, প্রশ্ন করলাম কী করব? কিন্তু কিছুই বুঝিয়ে দিলেন না এবং রুক্ষ ভাষায় বললেন, যান ফিলাপ করে নিয়ে আসেন।

নিজে থেকে যা বুঝলেন তা দিয়েই ফরম পূরণ করে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ালেন। এরমধ্যে দুই-একজন দালাল আসলো। তারা বললো- ‘আপনি লাইনে দাঁড়ায়ে থেকে কোনও কাজ করতে পারবেন না। আমাদের কাছে দেন দুই ঘণ্টায় কাজ হয়ে যাবে।’ তিনি তাদের কথা পাত্তা দিলেন না, লাইনেই দাঁড়িয়ে থাকলেন। খুব ধীরগতিতে কাজ হচ্ছিল, মাত্র দুটি বুথে টাকা জমা নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শোনা গেল বিদ্যুৎ চলে গেছে, কাজ বন্ধ। কম্পিউটারে এন্ট্রি দিতে পারছেন না। এরপর তিনি দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ায়ে থাকলেন। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। এদিকে উনার অফিস থেকে বারবার ফোন আসছে। শেষপর্যন্ত নিরুপায় হয়ে চিৎকার শুরু করলেন- ‘দালাল কই, দালাল কই? দালাল দিয়েই কাজ করাব। এইসব লোকজন চান না যে আমরা সঠিক উপায়ে লাইসেন্স করি, তারাই দালালদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য করেন’ সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন দালাল এসে হাজির। তাদের কাছে কাগজ দিয়ে দিলেন। আর তারা সঙ্গে সঙ্গেই বললো- ‘আগামীকাল লাইসেন্স পেয়ে যাবেন।’

বেলাল(ছদ্মনাম) সাহেব মৎস্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক। নিজের ব্যক্তিগত মোটরবাইকের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে এসে আরটিভি অনলাইনকে এই ভোগান্তির কথা বলেন।

গত কদিন হঠাৎ নবায়ন ও নতুন লাইসেন্সের আবেদন বেড়ে যাওয়ায় সোমবার সরেজমিনে দেখা যায় এই পরিস্থিতি।

তিনি আরও বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই কোনও দালালের মাধ্যমে কাজ করাতে চাইনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে দালালের কাছে যেতে হলো। কারণ এখানকার সিস্টেম উন্নত না। যে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিমুহূর্তে রাজস্ব আয় হচ্ছে সেখানে বিদ্যুৎ না থাকলে কাজ বন্ধ থাকবে কেন? বিকল্প ব্যবস্থা রাখবে, জেনারেটর রাখবে। এইভাবে দালালের দৌরাত্ম্য কমানো যাবে না।

এছাড়া নিয়ম মেনে যদি লাইসেন্স করি, তাহলে প্রথমে লার্নার লাইসেন্স দেয়া হবে তিন মাসের মেয়াদে। পরে আবার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিতে হবে। কবে লাইসেন্স পাব তার কোনও ঠিক নাই। আর দালালদের দিলে কোনও চিন্তাই নাই! একটু বেশি টাকা দিলেই সব কাজ হয়ে যায়- বললেন তিনি।

তবে এদিন সকাল থেকে ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এর অফিসের আশেপাশের এলাকায় মোবাইল কোর্ট চলছিল এবং লাইসেন্সের দালালি করার সময় মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে চারজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা। বাকি দুইজনকে সাত ও ১৫ দিনের জেল দেয়া হয়েছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির ফিটনেস দেখার কারণে মানুষ কিছুটা হলেও সচেতন হয়েছে। গত দুই দিন ধরে বিআরটিএ’র অফিসে গাড়ির ফিটনেস এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন বেড়ে গেছে বলে জানালেন লাইসেন্স ও ফিটনেস শাখার সহকারী পরিচালক আলি হাসান মিলন।

তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন- লাইসেন্সের আবেদন দুই প্রকার, মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়ন এবং নতুন লাইসেন্সের আবেদন। আগে প্রতিদিন ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন হতো ৯০ থেকে ১০০টা কিন্তু এখন সেটা ২০০টিরও বেশি। আগে নতুন লাইসেন্সের আবেদন হতো ২০৭ থেকে ২১০টা কিন্তু গত দুই দিনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ থেকে ২৯০টা।

আর সব রকম যানবাহনের ফিটনেসের আবেদন হতো ৮০০ থেকে ৯০০টি কিন্তু এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০০ থেকে ১৪০০টি।

কিন্তু গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন বলে জানালেন রেজিস্ট্রেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক ফারহানুল ইসলাম। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন- গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারটা ভিন্ন। গাড়ি যখন কেনা হয় তখনই বেশিরভাগ ক্রেতা শোরুম থেকে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেন। তাই নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া রাস্তায় নামার কোনও সুযোগ নেই। এজন্য গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের চাপ কিছুটা কম।

আরও পড়ুন :

আরসি/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়