• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

‘তিনি আমাদের মেঘে ঢাকা তারা’

বিনোদন ডেস্ক
|  ২৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৩৯ | আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৪৪
ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবী। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আজ শুক্রবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বরেণ্য এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে। তাকে নিয়ে লিখেছেন ‘মহানায়ক’ ধারাবাহিক সিরিয়ালের চিত্রনাট্যকার কল্লোল লাহিড়ী। ‘কলকাতা২৪’- এটি প্রকাশিত হয়েছে।

‘একটা ফোনে সকালটা পাল্টে যায়। একটা ফোনে মনটা খারাপ হয়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি। সৌমেন বললো স্যার, সুপ্রিয়া দেবী আর নেই। এই যে নেই হয়ে যাওয়াটা আসলে এক স্মৃতির রসদ জোগায় কুয়াশার সকালে।

এই কুয়াশার মধ্যে আমরা আজ যাকে হারালাম তাকে তো আমরা হারিয়ে এসেছিলাম শিলং এর সেই কুয়াশার মধ্যে ষাটের দশকে। তবে সেই হারানো ছিল এক মেয়ের বাংলা সিনেমায় গর্বের সাথে ফিরে আসার দিন। সুপ্রিয়া দেবী সেদিনের সেই বাংলা ছবির বসন্তে এক নতুন উতল হাওয়া।

সেই যে মেয়েটা চটি ফটাস ফটাস করতে করতে এক উদ্বাস্তু কলোনীর মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেত। সেই যে মেয়েটা নিজের সব স্বাদ-আহ্লাদ সব কিছু বিসর্জন দিয়ে বাড়ির সবাইকে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। বাহির বাড়ির একটা কোণে অন্ধকার ঘরে যার মুখ থেকে নির্গত হত রক্ত। যে মারা গেলে আর কেউ মনে রাখলো না, সেই মেয়েটা খুব আদরের হয়ে উঠলো সাদা পর্দায় এসে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: সুমিত-শাকিলার রোমান্টিক রসায়ন
--------------------------------------------------------

সেই একা মেয়ে নীতা তখন গৌরীদানে বাঙালীর আপনজন। তার সেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকানো, বড় বড় চোখের সুপ্রিয়া এক অন্যমাত্রা পেল বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে। সবাই আমরা নীতাকে চিনলাম সুপ্রিয়ার আদলে। আমরা অনসূয়াকে ভালোবাসলাম আজ জ্যোৎস্না রাতের আবহে। তার দুই বাংলার প্রেমিক মনের পরিচয়ে বাংলার নাটকের প্রেক্ষাপটে।

‘মেঘে ঢাকা তারা’ আর ‘কোমল গান্ধারের’ নীতা ও অনসূয়া এক প্রতিভূ হয়ে উঠলো বিশ্ব সিনেমার আঙ্গিকতায়। কিন্তু যিনি এই ছায়াছবির চরিত্রে অভিনয় করলেন। তার জীবনটাও কি ছিল না উৎপাটিত? তাকেও কি মৃত্যু উপত্যকা পেরিয়ে সুদূর বার্মা ছেড়ে চলে আসতে হয়নি।

অভিনয়ে আগ্রহ ছিল বরাবর। ফ্রক পড়েন যখন তখন হাতে খড়ি হয়ে গেছে বসু পরিবারে। একটা ছোট্ট চরিত্রে। সেই ১৯৫২ সালে এবং উত্তমকুমারের সাথেই। তারপর অনেক দিনের ব্যবধান। এরই মধ্যে বিয়ে। প্রথম সন্তান। তারপর আবার ফিরে আসা ছবিতে।

একের পর এক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয়। উইকিপিডিয়া বলছে প্রায় চল্লিশটির মতো চলচ্চিত্র। এছাড়া আছে টিভি সিরিয়াল, নাটক, থিয়েটার, অনেক কিছু। বিশাল ব্যাপ্তি তার কর্মযজ্ঞ ঘিরে। তার প্রাপ্তির ঝুলিতে আছে বিএফজে, পদ্মবিভূষণ, পদ্মশ্রী এবং ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের মতো স্বীকৃতি।

আজ সকালে তার মৃত্যু বাংলা ছবির ইতিহাসের এক অধ্যায়ের শেষ করলো। যে অধ্যায় লেখা আছে সব উজ্জ্বল ছবির স্মৃতিতে। যদিও সুপ্রিয়া দেবীকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে কম। মুখ ফিরিয়ে থেকেছে মূল্যায়ণ। সেই দিক থেকে মনে হয় তিনি সত্যি আমাদের বাংলা ছবির মেঘে ঢাকা তারা।

আরও পড়ুন:

 

পিআর/এম

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়