ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

‘চাকরিবাজার থেকে বড় অংকের টাকা নিয়ে যাচ্ছে ভারত’ (ভিডিও)

শাহীনুর রহমান

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:৫৫ পিএম

প্রবৃদ্ধি হলেও সেই তুলনায় দেশে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। ফলে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, দেশের প্রায় ২৭ লাখ বেকার রয়েছে। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। বিশ্বব্যাংকও বলেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে গেলে এই কর্মসংস্থানকেই গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের চাকরিবাজার ও বেকারত্ব নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানের আইসক্রিম কোম্পানি ইগলুর প্রধান নির্বাহী (সিইও) জিএম কামরুল হাসানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানিয়েছেন তার জীবনের নানা অভিজ্ঞতাও। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরটিভি অনলাইনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শাহীনুর রহমান।

শুরুতে আপনার ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানতে চাই…

জিএম কামরুল হাসান: নেসলেতে কাজের মধ্য দিয়ে আমার ক্যারিয়ার শুরু। কোম্পানিটিতে আমি প্রায় ১২ বছর ছিলাম। সেখানে বিভিন্ন পজিশনে থেকে কাজ করেছি। আমি রহিম আফরোজে কাজ করেছি, এরপর নিউজিল্যান্ড ডেইরিতে ছিলাম ৫ বছর। সেখান থেকে আমি সিঙ্গাপুরে কোম্পানিটির গ্লোবাল স্টাফ হিসেবে কাজ করি। প্রাণ গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার- সিএমও ছিলাম। সব মিলে প্রায় অর্ধ ডজন কোম্পানিতে কাজ করেছি। দাপিয়ে বেড়িয়েছি ফিল্ড, সেলস, মার্কেটিং, করপোরেট ট্রেনিং সবখানেই। এরপর ইগলুতে। প্রায় ৩ বছর আগে কোম্পানিটির দায়িত্ব নিয়েছি।

আপনার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা কোথায়, কি বিষয়ে?

জিএম কামরুল হাসান: আমার বেড়ে ওঠা নেত্রকোনায়। সেখানে এসএসসি পড়ার পর ঢাকায় চলে আসি। ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করার পর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো-কেমিস্ট্রিতে ভর্তি হই। সেখানে অনার্স শেষ হওয়ার পর পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছি। এরপর ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেছি।

কিন্তু বায়ো-কেমিস্ট্রিতে পড়ে কেন মার্কেটিং, সেখান থেকে কিভাবে এতদূর?

জিএম কামরুল হাসান: কেউ এমবিএ করলেই মার্কেটিংয়ে ভালো করবে এমনটি আশা করা ঠিক নয়। আমার বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন থেকেই এ সেক্টরে এসেছি। আমি মনে করি, মার্কেটিং হচ্ছে একটা কমন সেন্স। মার্কেটিং করতে হলে কোনও মার্কেটিং ডিগ্রির দরকার হয় না। এক সময় বাংলাদেশে মার্কেটিংয়ে এমবিএ ছিল না, পৃথিবীতেই এমবিএ ছিল না। কিন্তু তখনও তো মার্কেটিং হয়েছে; বিজনেস হয়েছে। আমাদের কোম্পানির এমডি কিন্তু এমবিএ করে আসেননি। কিন্তু তিনি তো ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। সুতরাং বিজনেসটা মূলত কমন সেন্স। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ব্যবসা যদি আপনি বাড়াতে চান তবে সেখানে আপনার সম্পৃক্ততা কতটুকু, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটিং থেকেই সেটা শিখতে হয়। কাস্টমার কি জানে, কি বোঝে, কি নিতে পারে, সেটা জানাই মার্কেটিং। এটা একটা প্রাকটিসও বটে। তবে শিক্ষার গুরুত্ব আছে। কিন্তু থিওরির জায়গায় থিওরি। সেটা যদি প্রাকটিক্যালি না হয়, তবে তার ভ্যালু নেই।

আমি যখন কাজ করতে শুরু করলাম, তখন ভাবলাম আমাকে আরও ভালো করতে হবে। নিজকে বড় করার মানসিকতা, হেরে না যাওয়ার মানসিকতা থেকেই আমি কাজ করেছি। এটা অনেক দীর্ঘ পথ। চলার পথে মাঝে মাঝে আমার আপ-ডাউন হয়েছে। যখন আমি ডাউন হয়েছি তখন আবার ঘুরে দাঁড়াবার প্রত্যয় নিয়েছি। আরেকজন পারলে তুমি কেন পারবা না? এটা সবসময় আমার নিজকে মোটিভেট করেছে। মূল বিষয় হচ্ছে আপনি শিখতে চান কিনা? আমি যদি মনে করি আমি সবটা বুঝি, তাহলে আমি ডেড। লার্নিংটা যেকারও জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমি মনে করি, ক্যারিয়ার হচ্ছে একটা টেস্ট প্রোসেস। মার্কেটিংয়ে সফল হতে গেলে আপনাকে ফিল্ডে পড়ে থাকতে হবে; লেগে থাকতে হবে; জানার আগ্রহ থাকতে হবে। এগুলোই আজ আমাকে সিইও বানিয়েছে।

দেশে এখন প্রায় ২৭ লাখ বেকার। এই বেকারত্ব কিভাবে দূর করা সম্ভব?

জিএম কামরুল হাসান: আমাদের দেশে এই মুহূর্তে ৩৫ শতাংশের বেশি যুবক বেকার। এটা মোট জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশ। প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখন গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে। সরকারি চাকরি এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পদ তো মাত্র ২৩০০ থেকে ২৫০০। সবাই এখন ওটার পেছনে দৌঁড়াচ্ছে। তরুণরা আসলে এই চাকরির পেছনে কেন দৌঁড়াচ্ছে সেটা আমি জানি না।

তবে এটা বলবো শুধু সরকারের একার পক্ষে কখনই উন্নয়ন করা সম্ভব নয়, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এক্ষেত্রে জরুরি। বেকারত্ব দূরীকরণে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে এগিয়ে আসতে হবে। আগে আমাদের নিজেদের মানসিকতা ঠিক করতে হবে।

কিন্তু প্রাইভেট খাত তো এখন এগিয়ে যাচ্ছে। তাহলে কি ধরনের মানসিকতার কথা বলছেন?

জিএম কামরুল হাসান: একটা বিষয় অবাক করার মতো- বাংলাদেশের শ্রমবাজার থেকে ভারত বড় অংকের একটি রাজস্ব নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শ্রমবাজারে ৫ লাখের বেশি ভারতীয় এখন কাজ করছে। গার্মেন্টস থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে তারা বিভিন্ন পজিশনে আছে। এমনকি অনেক দেশি কোম্পানিও মনে করে ভারত থেকে আমাদের লোক নিয়োগ দিতে হবে। এটা করপোরেট খাতে সবচেয়ে বড় মাইন্ড সেটআপ সমস্যা। কিন্তু আমাদের দেশ থেকে আপনি ভারতে চাকরি করতে যান সেখানে অনেক ফরমালিটি মেইনটেইন করতে হবে। আমাদের কোম্পানিগুলো যারা ইন্ডিয়ানদের নিয়ে আসছে, তারা নামে বেনামে বাংলাদেশ ব্যুরো থেকে অনুমতি নিয়ে তাদের কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। দেশপ্রেমের ঘাটতিই এখানে বড় সমস্যা।

আমরা মনে করি, ভালো ইংরেজি বলতে পারলেই তাদের বাংলাদেশে চাকরি দেয়া যাবে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা আমাদের দেশের ছেলেদের তৈরি করবো। আমার দেশের ছেলেদের ডেভেলপ করবো। আমার দেশের ছেলেরা যদি ডেভেলপ হতে শুরু করে তবে আজ না হোক, ৫ বছর পর এখান থেকে কর্মসংস্থান হতে শুরু হবে।

যখনই আপনি কোম্পানিতে একজন বিদেশি নিয়োগ দিচ্ছেন তখন কিন্তু তার দেশপ্রেম কাজ করে না, সে ওই কোম্পানি চাকরি করবে, টাকা পাবে এরপর চলে যাবে। আমার দেশের ছেলেরা যখন কাজ করবে তখন কিন্তু তারা দেশপ্রেমের কথা, কোম্পানির কথা চিন্তা করবে। সুতরাং এই মাইন্ড সেটআপ সমস্যাটা আমাদের করপোরেট মহলে রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করছে। চাকরিতে ঢুকেও সমস্যা আছে।

সেটা কোন ধরনের?

জিএম কামরুল হাসান: দেশে যাদের কর্মসংস্থান হচ্ছে তারা রাতারাতি বড় হতে চায়। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যখন গ্যাপ হয়, তখন কিন্তু তাদের হতাশা বেড়ে যায়- এটাও বেকারত্বকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এক্ষেত্রে করণীয় কী?

জিএম কামরুল হাসান: চাকরিতে পদের কথা ভুলে গিয়ে কাজকে সম্মান দিতে হবে। আপনি কাজ করা শুরু করুন পজিশন আপনাকে ফলো করবে। অনেক ক্ষেত্রে কিন্তু এখন পরিবর্তন আসছে। ছেলেরা এখন আর বাইকে করে ভাড়া খাটতে ইতস্তুত হয় না। একসময় সবাই জবের জন্য ছুটতো। এখন কিন্তু অনেকেই নিজে কিছু করছে। নিজেকে গ্রো করতে গিয়ে আর ৫টা ছেলেকে নিয়োগ দিচ্ছে। এটা ভবিষ্যতে দেশের জন্য অনেক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

চাকরিপ্রার্থী অধিকাংশই এখন মার্কেটিংয়ের দিকে ছুটছেন। যেমন একজন অ্যাকাউন্টসে পড়লো তিনিও সেলসে ঢুকছেন আবার অন্য বিষয়ে পড়েও সেলসে যাচ্ছেন। নতুনরা কীভাবে ক্যারিয়ার চয়েস করবেন। এক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

জিএম কামরুল হাসান: আমাদের শ্রমবাজারের সবখানেই এখনও ওই জায়গা তৈরি হয়নি। যেমন, বাবা-মা ছেলেকে কি বানাতে চায়, সেটাই মুখ্য হয়ে ওঠে। যখন সেটা না হয়, তখন ওই ছেলে নিজের মতো করে পড়াশোনা করে। তখন ইচ্ছেটা থাকে গ্র্যাজুয়েট হওয়া। প্র্যাকটিক্যাল ভিউতে এখনও ক্যারিয়ার চয়েজের জায়গা তৈরি হয়নি।

তবে সমাধান আছে। এজন্য কারিকুলামে পরিবর্তন আনতে হবে। একটা এমবিএ বা বিবিএ প্রোগামে শুধু দুই বা এক মাসের ইন্টার্নশিপ দিলেই হবে না। কারণ এতে ওই শিক্ষার্থী প্র্যাকটিক্যালি কিছু শিখতে পারে না। শুধু ভালো সিজিপিএ থাকলেই সে কর্মক্ষেত্রে ভালো করবে সেটা বলা যাবে না। এজন্য ৪ বছরের পড়াশোনায় অন্তত এক বছর কোনও না কোনও কোম্পানির অধীনে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা থাকতে হবে। শিক্ষা কারিকুলামে এটা বাধ্যতামূলক করতে হবে। যখনই এটা হবে তখন যে কেউ নির্দিষ্ট খাতেই ক্যারিয়ার গড়তে পারবে। সরকারকেও বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

আরটিভি অনলাইনকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

জিএম কামরুল হাসান: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন :

এসআর/এম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইউএনডিপি-ওয়ালটন চুক্তি: পরিবেশবান্ধব ফ্রিজ তৈরি করছে ওয়ালটন
ফ্রিজে বিশ্ব জলবায়ু উষ্ণায়নের জন্য দায়ী এইচএফসি গ্যাসের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে ওয়ালটন। সেই লক্ষ্যে ফ্রিজ ও কম্প্রেসারে এইচএফসি ফেজ আউট প্রজেক্ট চালু করেছে তারা। এর আওতায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত ফ্রিজ ও এর কম্প্রেসারে বিশ্ব স্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি। ওয়ালটনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি। এ বিষয়ে শনিবার রাজধানীতে ওয়ালটনের করপোরেট অফিসের সম্মেলন কক্ষে ইউএনডিপি ও ওয়ালটনের মধ্যে ‘এইচএফসি ফেজ আউট প্রজেক্ট’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়ালটনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ এক বছর। বিশ্বে এইচএফসি গ্যাস ফেজ আউটে এই প্রকল্পেই প্রথম সহায়তা প্রদান করছে ইউএনডিপি। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আশরাফুল আলম এবং ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এর আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এর সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি খুরশিদ আলম ও শায়লা খান, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ মামুনুর রশীদ ও সংস্থাটির প্রাকিউরমেন্ট বিভাগের প্রধান মরিয়ম আকতার রিকতা, ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এস এম জাহিদ হাসান, মো. হুমায়ুন কবীর, প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আশরাফুল আম্বিয়া ও অন্যান্য কর্মকর্তা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এস এম আশরাফুল আলম বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি আমরা সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আর তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এক গ্রাম কেমিক্যালও ওয়ালটন ব্যবহার করে না। আমাদের টার্গেট বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটনকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ডের মর্যাদায় নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে পরিবশেবান্ধব ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ, এসিসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছি আমরা। প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আম্বিয়া জানান, কয়েক বছর আগেই ইউএনডিপির সহায়তায় অত্যন্ত সফলভাবে ফ্রিজে বায়ুমন্ডল তথা ওজোনস্তর ক্ষয়কারী এইচসিএফসি গ্যাসের ব্যবহার রোধ করেছে ওয়ালটন। পাশাপাশি, এইচএফসির ব্যবহার রোধের উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত প্রকল্প বাস্তবায়নে সফল হয়েছে ওয়ালটন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এবার ফ্রিজে এইচএফসির ব্যবহার সম্পূর্ণ রোধ করার প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে এইচএফসিমুক্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কম্প্রেসার উৎপাদনও শুরু করলো ওয়ালটন। সূত্রমতে, প্রকল্পটি চালুর ফলে বায়ুমন্ডলে বাৎসরিক প্রায় ২ দশমিক ৫৩ লাখ টন কার্বনডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ ১৮৯ টন এইচএফসি গ্যাসের নিঃসরণ রোধ করবে ওয়ালটন। এর মধ্য দিয়ে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে ওয়ালটন তথা বাংলাদেশ। এসআর
ইউএনডিপি-ওয়ালটন চুক্তি: পরিবেশবান্ধব ফ্রিজ তৈরি করছে ওয়ালটন
আজও ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন না গ্রাহকরা
নির্বাচনের কারণে ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ ছুটি শেষ হয়েছে। আজ সোমবার থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে অফিস আদালত। তবে ব্যাংক হলিডে থাকায় এদিন ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনও ধরনের লেনদেন হচ্ছে না। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন না। তবে প্রয়োজন হলে কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে অর্ধ বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। যে কারণে এ দিনটিকে ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়। এদিন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনও ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম করে না। এদিন বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেনও। এসআর
আজও ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন না গ্রাহকরা
বিকাশ-রকেটে টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা উঠছে বিকেল ৫টায়
বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, এমক্যাশ, শিওর ক্যাশের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মুঠোফোনে আর্থিক সেবায় লেনদেনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। আজ রোববার বিকেল ৫টার পর গ্রাহকরা আবারও আগের মতো টাকা লেনদেন, ক্যাশ আউট, মোবাইল ফোনে রিচার্জ করতে পারবেন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   তবে শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে আজ বিকেল ৫টা পযর্ন্ত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাঠানোর বিষয়ে শিথিলতা আনা হয়। সে অনুযায়ী গ্রাহকরা আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা শুধু পাঠাতে পারছেন। কোনও ক্যাশ আউট ও রিচার্জের সুযোগ নেই।   নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও ভোটার আকৃষ্ট করতে টাকা ছড়ানো বন্ধের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। কারণ নগদ টাকার পাশাপাশি অনেক সময় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুপারিশ ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসআর
বিকাশ-রকেটে টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা উঠছে বিকেল ৫টায়
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন নয়
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। তবে শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে রোববার তথা নির্বাচনের দিন বিকেল ৫টা পযর্ন্ত এই ২৪ ঘণ্টা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাঠানো যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৭ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ফলে শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, এমক্যাশ, শিওর ক্যাশের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মুঠোফোনে আর্থিক সেবা বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও ভোটার আকৃষ্ট করতে টাকা ছড়ানো বন্ধের জন্য এ নির্দেশনা দেয়া হয়। নগদ টাকার পাশাপাশি অনেক সময় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুপারিশ ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মতে, সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ২৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হলো। তবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হতে ২৯ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা লেনদেনের সুযোগ রেখে সীমিত আকারে এ সেবা চালু রাখা যেতে পারে বলে জানানো হয়। আরও পড়ুন : ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ বিকাশ-রকেট থেকে হচ্ছে না মোবাইল ফোনের রিচার্জও এসআর
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন নয়
ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৬তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ক্ষেত্রে বৃহত্তম দেশ হিসাবে উত্তরণ ঘটতে পারে। ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ২০৩০’ শীর্ষক এইচএসবিসি গ্লোবাল রিপোর্টে একথা বলা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) নিউজ বুলেটিনের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৮) সম্পাদকীয় শাখায় এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের বুলেটিনে বলা হয়, ‘ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে দেশটি (বাংলাদেশ) বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।’ এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং আর্থ-সামাজিক গতিশীলতার কারণে ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড ভ্যালু ইনডেক্স’-এ বাংলাদেশের অবস্থান ৩৯তম। লন্ডন ভিত্তিক ‘ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স’-এর ‘ন্যাশনাল ব্র্যান্ডস ২০১৮’ প্রতিবেদন অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইসিসিবি নিউজ বুলেটিনে বলা হয়, বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি চমৎকারভাবে ৬ শতাংশের অধিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরে রেখেছে এবং গত দু’বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বুলেটিন অনুসারে, টেকসই জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই), সরকারের বিনিয়োগ বান্ধব কার্যক্রম, ‘ওয়ান-স্টপ-সার্ভিস’ অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সাবলীল করেছে। পাশাপাশি, বেসরকারি ও সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের সুবিধার্থে সরকার অনেকগুলো ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (এসইজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমির সংকট দূর করার জন্য সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ১০০টির মধ্যে ৭৬টির জন্য জমি নির্ধারণ করেছে। আরও পড়ুন : বিকাশ-রকেট থেকে হচ্ছে না মোবাইল ফোনের রিচার্জও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার হবে এশিয়ায় নেতৃস্থানীয়: ডিএসই এমডি এসআর
ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদপত্রে সাইবার হামলা
আজ বিকেলে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন
বিকেলে ড. কামাল হোসেনের সংবাদ সম্মেলন
বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের জরুরি সংবাদ সম্মেলন