• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
|  ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৫৯ | আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:০৮
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইওে পাওনা টাকা চাওয়ায় সুমন (৩৫) নামের এক ঝুট ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 
শনিবার রাতে নিহত সুমনের মা কিসমত বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় চারজনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন। 

আসামীরা হলেন, বিপ্লব, শায়লা, সোহেল মণ্ডল ও মাসুদ। 

গেলো শুক্রবার রাতে সুমনের গায়ে আগুন দেয়ার পর গতকাল শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

নিহত সুমন সদর উপজেলার পশ্চিম মাসদাইর বেকারির মোড় এলাকার আবদুল জলিলের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।

নিহত সুমনের পরিবারের স্বজনরা জানান, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী বিপ্লব ও সোহেল মণ্ডল গত কয়েক মাস আগে সুমনের কাছ থেকে সত্তর হাজার করে দুইজনে এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা ধার নেয়। এক মাস পরে এ টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তারা সুমনকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। 

শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টায় বিপ্লব টাকা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে সুমনকে তাদের বাসায় ডেকে নেয়। সুমন সেখানে যাওয়ার পর বিপ্লবের স্ত্রী শায়লা, সোহেল মণ্ডল, হোটেল মাসুদ মিলে সুমনকে জাপটে ধরে রাখে। এরপর বিপ্লব সুমনের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সুমনের আর্ত চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সুমন সেখানে আগুনে পোড়ানোর পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। 

মৃত্যুর আগে হত্যাকারীদের নাম বলে যায় সুমন। তার শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে ঝলসে যায়। ভোর পাঁচটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমনের মৃত্যু হয়। 

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিপ্লব, তার স্ত্রী শায়লা, সোহেল মণ্ডল ও হোটেল মাসুদ পলাতক রয়েছে। 

নিহত সুমন ঝুটের ব্যবসা করতো। তার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সিয়াম নামের আট বছরের একটি ছেলে রয়েছে তাদের। চার ভাই বোনের মধ্যে সুমন ছিল সবার বড়।

আরও পড়ুন :

এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়