• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

পঞ্চগড়ে পরিবহন শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি চাঁদাবাজি, অবরোধ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
|  ০৪ জুলাই ২০১৮, ২০:৩০ | আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৮, ২০:৩৭
পঞ্চগড়ে শ্রমিক কল্যাণের নামে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দুটি গ্রুপ পৃথকভাবে মহাসড়কে বেপরোয়া চাঁদা আদায় করছে। এতে স্থানীয় ও বাইরে থেকে আসা পরিবহন শ্রমিক ও চালকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুর থেকে ঢাকা-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় অবরোধও করে শ্রমিকরা।

এ নিয়ে জেলার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের একাধিক সংগঠন মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। যে কোনও সময় শহরে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। শ্রমিক ও মালিকদের চাঁদা তোলা নিয়ে এই দ্বন্দ্বে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীসহ পথচারীরা। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা চলছে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
--------------------------------------------------------

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পঞ্চগড়ে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্বের পর পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সাতটি সংগঠন একত্রিত হয়ে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও সংগ্রাম কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করে। সম্প্রতি তারা যৌথভাবে শহরের খোলাপাড়া এলাকায় শ্রমিক কল্যাণের নামে ট্রাক প্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় শুরু করে। এদিকে মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জের ধরে এই চাঁদা উত্তোলনের প্রতিবাদ করে জেলা ট্রাক ও ট্যাংকলড়ি কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি নামে আরেকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দফায় দফায় আলোচনা হলেও কোন সুরাহা না হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে জেলা শহরের শিংপাড়া এলাকায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে ট্রাক থামিয়ে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় শুরু করে ওই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এতে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে বিকেলে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও সংগ্রাম কমিটি অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মাইকিং বের করে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন রুটে পরিবহন ধর্মঘট চলছিল।

এদিকে যশোর থেকে পাথর নিতে আসা ট্রাকচালক রশিদুল ইসলাম বলেন, ভাই আমরা যেখানেই যাই সেখানেই চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে মার (লাঞ্ছিত) পর্যন্ত খেতে হয়। পঞ্চগড়ে এসে দুই জায়গায় চাঁদা দিতে হলো।

পঞ্চগড় মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন শ্রমিক কল্যাণের নামে চাঁদা আদায় করে শ্রমিকদের কল্যাণেই ব্যয় করে আসছি। বয়স্ক শ্রমিকদের ভাতা, ঈদ বোনাস, দুঃস্থ শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, শ্রমিকদের মেয়ের বিয়েসহ মৃত্যুজনিত কারণে এই অর্থ ব্যয় করা হয়। কিন্তু একটি সংগঠন হঠাৎ করে মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি করছে। অবিলম্বে তা বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

আরেক সংগঠন জেলা ট্রাক ও ট্যাংকলড়ি কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবিএম সারোয়ার হোসেন বলেন, আমরা হলাম এখানকার পুরান ট্রাক মালিক সমিতি। এর আগে আমরা একটি শ্রমিক সংগঠনসহ দুই সংগঠন মিলে কল্যাণের জন্য ট্রাক প্রতি ৬০ টাকা নিতাম। ইদানিং তারা হঠাৎ করে একটি ট্রাক্টর সমিতিকে ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন এনে কল্যাণের নামে চাঁদা আদায় শুরু করেছে। সেখানে মাত্র ১০-১২ জন ট্রাক শ্রমিক রয়েছেন বাকিরা সবাই ট্রাক্টর মালিক। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। আমরা এখানে আগেও নিতাম এখনও নিচ্ছি।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন রায় বলেন, পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের দুটি গ্রুপের মধ্যে শ্রমিক কল্যাণের নামে টাকা উত্তোলন নিয়ে যেন অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা না ঘটে, এজন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। উভয়পক্ষের নেতাদের সাথে কথা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরাও তৎপর রয়েছি। আশা করি শিগগিরই সংকট কেটে যাবে।

আরও পড়ুন :

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়