• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের শিকার মাজেদা জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
|  ২৯ জুন ২০১৮, ২১:১৩ | আপডেট : ৩০ জুন ২০১৮, ১০:৫২
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ইটাপোতা গ্রামে অসুস্থ কলিম উদ্দিনের কন্যা মাজেদা বেগম। মাজেদা ঢাকায় গিয়েছিলেন এক পুলিশ সার্জেন্টের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে। ভাগ্যবদলের জন্য কাজ করতে যাওয়া মাজেদা বেগম ফিরেছেন নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে। সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে গত তিনদিন ধরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।

জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগে সদর উপজেলার সমাজসেবা দপ্তরের এক কর্মী মঞ্জুয়ারা বেগম তার নিকটাত্মীয়, ঢাকায় কর্মরত এক পুলিশ সার্জেন্টের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে পাঠান মাজেদাকে। এর পর থেকেই ওই বাসায় গৃহকর্তার স্ত্রী নিয়মিত মাজেদার উপর নির্যাতন চালান। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর এমনকি মসলা বাটার পাথর দিয়ে তার দাঁতে আঘাত করে দাঁত ভেঙে দেন। নির্মম নির্যাতনের শিকার মাজেদা এক পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত শনিবার তাকে লালমনিরহাটগামী একটি বাসে তুলে দেয়া হয়। খবর পেয়ে সমাজসেবা দপ্তরের কর্মী মঞ্জুয়ারা বেগম তাকে লালমনিরহাট বাস টার্মিনাল থেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি মোগলহাটের ইটাপোতা গ্রামে পাঠিয়ে দেন। গ্রামবাসী মাজেদা বেগমকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু
--------------------------------------------------------

কিন্তু তার পরিবারের দারিদ্র্যতার কারণে যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে তার শরীরে আঘাত ও নির্যাতনের ক্ষত দেখা যায়। মাজেদা মারাত্মক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। মাজেদা জানান, পুলিশ কর্তার স্ত্রী মৌসুমী বেগম তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করতেন। পুলিশ সার্জেন্ট হাবিব তার স্ত্রীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে মৌসুমী বেগম তার স্বামীকেও মারধর করতেন।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানা প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কিংবা কোনও মামলা না নিয়ে সমাজসেবা দপ্তরের কর্মী মঞ্জুয়ারা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার রাতে মামলা নেয় থানা পুলিশ।

মাজেদা বেগমকে ঢাকায় মঞ্জুয়ারা বেগমের আত্মীয় পুলিশ সার্জেন্ট আহসান হাবিবের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে পাঠানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার ঘটনায় দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সমাজসেবা দপ্তরের কর্মী মঞ্জুয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের খবরে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, মাজেদা বেগমের সারা শরীরে অনেক ক্ষত রয়েছে। সে শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। আঘাতে তার দাঁত ভেঙে গেছে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহসান হাবিব বাবু জানান, তার শরীরে অনেক ছ্যাঁকা দেয়ার চিহ্ন এবং ক্ষত রয়েছে। তার চিকিৎসার কোনও সমস্যা হচ্ছে না।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল লালমনিরহাট নয় বিধায় এভাবে মামলাটি নেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগতভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ সার্জেন্ট আহসান হাবিবের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন :

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়