
সারাবছরই কমবেশি পর্যটকের আনাগোনা থাকে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে। গত মাসের শেষের দিকে টানা ছুটির কারণে লোকজনের আনাগোনা বেড়েছিল। রমজানের আগে পর্যটকের আনাগোনা বাড়ায় বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা।
ধারণা করা হয়েছিল রমজানের আগ পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু হঠাৎ পাহাড়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় তাদের সে আশায় যেন ছাই পড়লো।
রোববার সরেজমিনে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুতে গিয়ে কথা হয় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সঙ্গে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধু কিংবা কেউ এসেছেন অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে। কারো কারো পরিকল্পনা ছিল রাঙামাটি হয়ে সাজেক কিংবা বান্দরবানে ঘুরতে যাবেন। কিন্তু হঠাৎ হরতালের মত কর্মসূচী ঘোষণা হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব পর্যটক। অনেকটা হতাশ হয়েই তাই ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।
ঢাকা থেকে রাঙামাটিতে আসা মিশকাত জাহান বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি ফার্মে জব করি, পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনদিনে জন্য শনিবার বিকেলে রাঙামাটি এসেছি। ভাবলাম তিনদিন রাঙামাটিতেই কাটাবো। কিন্তু হঠাৎ হরতালের কথা শুনে চলে যেতে হচ্ছে আগেভাগেই। মনটা খারাপ হয়ে গেল।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : বরিশালে এগিয়ে মেয়েরা
--------------------------------------------------------
দিনাজপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী রফিকুজ্জামান বলেন, কিছু ব্যবসায়ী বন্ধু মিলে ঘুরতে এসেছিলাম তিন পার্বত্য জেলায়। রোববার সাজেক যাওয়ার প্ল্যান ছিল। কিন্তু হরতালের কারণে আর যাওয়া হলো না। তাই ফিরে যাচ্ছি সবাই।
খুলনা বাগেরহাট থেকে সস্ত্রীক হানিমুনে আসা জিয়াউর হক বলেন, বিয়ে করেছি একমাস হলো। নববধূকে নিয়ে হানিমুনে আসলাম রাঙামাটিতে। সাজেকসহ তিন পার্বত্য জেলায় সপ্তাহ খানেক বেড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ হরতালের কথা শুনে রাতেই ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছি। নববধূকে নিয়ে প্রথম ট্যুরেই এমনটা হবে ভাবিনি।

সিলেটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুদিনের বার্ষিক সফর হিসেবে রোববার সকালেই রাঙামাটি আসেন। প্রতিষ্ঠানের জিএম শামসুজ্জামান হায়দার জানান, সকালে রাঙামাটি এসেই জানতে পারলাম কাল সোমবার থেকে হরতাল। তাই তড়িঘড়ি করে ফিরে যেতে হচ্ছে। সবার মনটাই খারাপ হয়ে গেল।
একই আক্ষেপ পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের। হোটেল নাদিশার ম্যানেজার মো. জাহেদ জানান, রমজানের আগে কিছু লোকজন আসা শুরু করেছিল। সোমবার ও মঙ্গলবার দুটি গ্রুপের বুকিং ছিল আমার এখানে। কিন্তু হঠাৎ হরতালের কর্মসূচী ঘোষণা হওয়ায় সে দুটো বুকিং বাতিল করেছেন তারা।
হোটেল হিল প্রিন্স’র ব্যবস্থাপক নেছার আহমেদ বলেন, কয়েকটা রুম বুকিং ছিল। কিন্তু হঠাৎ হরতালের কারণে প্রায় সবাই রুম ছেড়ে দিয়েছে।
পর্যটন বোট ঘাট ইজারাদার রমজান আলী বলেন, রাঙামাটিতে হঠাৎ হরতালের মত কর্মসূচী ঘোষণা হওয়ায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। কিছু পর্যটক আসছিল। হরতালের কারণে সেই ব্যবসায় আবার ভাটা পড়ল। তা আর হল না। দুদিন অলস বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের মোটেলের রুম প্রায় সময় বুকিং থাকে। সোমবার-মঙ্গলবার হরতালের ঘোষণার কারণে কিছু অগ্রিম বুকিং বাতিল হয়েছে। আর কিছু গেস্ট ইতোমধ্যে বুকিং বাতিল করে চলে গেছেন। এরকম হরতাল-অবরোধের কর্মসূচীর কারণে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়তে হয়।
আরও পড়ুন :
এসএস



