Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

টেবিল টেনিস তারকা সাদিয়ার উঠে আসার গল্প

সাদিয়া রহমান মৌ

নড়াইলের মেয়ে সাদিয়া রহমান মৌ। যিনি এখন সারাদেশে টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। এ বছরের ৫ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস-এ সারা দেশের মধ্যে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাদিয়া রহমান। পেয়েছেন তিনটি স্বর্ণপদক। একক, দ্বৈত ও দলগত পর্যায়ে হয়েছেন চ্যাম্পিয়নও।

এটাই তার প্রথম কৃতিত্ব নয়। ২০১৭ সালে জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় নারী দ্বৈত ও নারী দলগত পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সাদিয়া রহমান। ২০১৬ সালে ভারতে ও ২০১৯ সালে নেপালে সাউথ এশিয়ান গেমসে মৌ ব্রোঞ্জ পদক পায়। এছাড়া ভারত, চীন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ছাড়াও খেলাধুলায় আরও অনেক দেশ ভ্রমণ করেছে মৌ।

এর আগে যুব গেমসে একক, দ্বৈত ও দলগত পর্যায়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মৌ। জুনিয়র ন্যাশনাল খেলায় একক ও দ্বৈত পর্যায়ে রয়েছে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব। স্কুল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চারবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে মৌ এর। পুরস্কার নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেও। তবে তার এই পথচলা সহজ ছিল না।

নড়াইল শহরে মৌদের বাসায় কথা হয় তার সঙ্গে। ভাড়া বাসায় থাকে সে। এই ভাড়া বাসায় সে বড় হয়েছে। মাত্র ষোলো বছর বয়সেই বিভিন্ন পদক এনে আলমারি ভর্তি করে ফেলেছে সে। একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মৌ খেলে বড়দের টুর্নামেন্ট। বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসও ছিল বড়দের টুর্নামেন্ট। টেবিল টেনিস তারকা মৌ আবাহনী ও আনসার বাহিনীর খেলোয়াড়। ২০১৫ সাল থেকে সে বড়দের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে আসছে। হালকা গড়নের মেয়েটি পড়াশুনায় খুবই ভালো।

মৌয়ের মিশন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে স্বর্ণপদক পাওয়া। টেবিল টেনিসে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। কিন্তু ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও তার রয়েছে দুঃচিন্তা। ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো নয় টেবিল টেনিস। এ খেলায় স্বচ্ছলতা নেই। তবে তার দাবি ওই দুটি খেলার মতো টেবিল টেনিসেও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত। তাহলে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানসিক চাপ থাকবে না। নড়াইলে ইনডোর স্টেডিয়াম না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেন মৌ।

নবম বাংলাদেশ গেমসে মৌ খালাতো বোন সোনামকে হারিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলেন। আনন্দে তার কান্না চলে আসে। সোনামও চারবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। বিজয়ের চূড়ান্ত ঘোষণায় জড়িয়ে ধরে বোনকে।

মৌ এর মা শাহনাজ পারভীন বলেন, মেয়ে খেলাধুলা করে যা পায় তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। আনসার থেকে পায় মাসে ১২ হাজার টাকা। ২০২০ সালে আবাহনীর সঙ্গে এক বছরের জন্য চুক্তি হয়েছিল দেড় লাখ টাকায়। বাসাভাড়া দিতে হয় ছয় হাজার টাকা। বাকি টাকা দিয়ে চলতে হয় মা-মেয়েকে। আবার খেলার পেছনে আছে বাড়তি খরচ। মেয়েকে একা ছাড়েন না মা। সঙ্গে থাকেন সব সময়। তাই বাড়তি যাতায়াত খরচ সহ আছে আবাসন খরচও। বাংলাদেশ গেমসের সময়ে ঢাকায় এক মাস ভাড়া বাসায় থাকতে হয়েছে মৌ কে।

শাহনাজ পারভীনের কণ্ঠ জড়িয়ে আসছিল এসব কথা বলার সময়। তিনি বলেন, আমি এক সময় বাইরে বের হতে ভয় পেতাম। অথচ এখন কি না করতে হচ্ছে। জীবনে এমন সংগ্রাম করতে হবে কখনো ভাবিনি।

মৌ এর দাদা বাড়ি বাগেরহাটে। ২০১৮ সালে মৌয়ের বাবা ছয় বছর শয্যাশায়ী থেকে মারা যান। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী হিসেবে নড়াইল জেলায় চাকরি করতেন। মৌ এর নানা বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোলা গ্রামে। দুই বোনের মধ্যে মৌ ছোট। বড় বোনোর বিয়ে হয়েছে। সেও এক সময় টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।

জেএইচ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS