logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬
evaly

বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কদের খেরোখাতা

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৮ মে ২০১৯, ১৮:৩১ | আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ১৯:০৫
ফাইল ছবি
ক্রিকেটের ইতিহাসে মোট ১১টি বিশ্বকাপের আসর বসেছে। ১৯৭৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মঞ্চে পাঁচবার শিরোপার স্বাদ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুইবার করে বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া একবার করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক হিসেবে কাপ তুলে নিয়েছেন মোট ৯ জন ব্যক্তি। দুইজন ভাগ্যবান অধিনায়ক হিসেবে দুইবার করে ট্রফিটি নিজেদের করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা হচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড ও অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং। 

এক নজরে দেখে নেব বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কদের

ক্লাইভ লয়েড (১৯৭৫, ১৯৭৯)

১৯৬৬ সালে টেস্ট অভিষেক হয় ক্লাইভ লয়েডের। ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে খেলা বাম-হাতি এই ব্যাটসম্যান পরের বছর দলের অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন। 

১৯৭৫ সালের প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় ক্যারিবীয়রা। ওই আসরের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

১৯৭৯ সালে ঠিক একইভাবে কোনো ম্যাচ না হেরেই টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে ক্যারিবীয়রা। তবে এবার প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। মজার বিজয়টি হচ্ছে, লয়েড নেতৃত্বাধীন দলটি ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপেও ফাইনালে পৌঁছায়। যদিও শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল তাদের। ১৯৮৬ সালে অবসরের আগ পর্যন্ত জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখতে সক্ষম হয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

কপিল দেব (১৯৮৩)

ইমরান খান, ইয়ান বোথাম, রিচার্ড হার্ডলিদের সমসাময়িক পেস অলরাউন্ডার হয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেকে প্রকাশ করেন কপিল দেব। বিশ্বকাপের আগে সুনীল গাভাস্কারের জায়গায় অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান কপিল। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দুটি ম্যাচ হেরেও সেমিফাইলের গণ্ডি পার করে ফেলে ভারত।

ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে অপেক্ষা করছিল সে সময়কার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে ভারতীয়রা মাত্র ১৮৩ রানে গুটিয়ে গেলেও ক্যারিবীয়দের ১৪৩ রানে অলআউট করে দেয় তারা। এতে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় কপিলের দল।  ম্যাচটিতে অসাধারণ একটি ক্যাচ ধরেছিলেন অধিনায়ক নিজেই।

অ্যালান বর্ডার (১৯৮৭)

১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বাইরে আয়োজন করা হয় বিশ্বকাপের। এবারের আসরে সেমিফাইনালে পৌঁছায় দুই স্বাগতিক দল ভারত ও পাকিস্তান। ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় ইংল্যান্ড অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ের জায়গা দখল করে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত মাত্র সাত রানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংলিশদের হারিয়ে বিশ্বকাপ নিজেদের করে নেয় অজিরা। যা বিশ্বকাপ ফাইনালগুলোর মধ্যে সবচেয়ে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ ছিল।

মূলত অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বে এই শিরোপা জেতার বিষয়টিকে ‘অপ্রত্যাশিত বিশ্বকাপ জয়’ বলা হয়। কারণ সে সময়ে দলটির বিশ্বকাপ জয়ের মতো ক্ষমতা ছিল না বলে মনে করতেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। এর পরই ক্রিকেট বিশ্বের আরও শক্তিশালী হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। বাম-হাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বর্ডার নিজের ক্যারিয়ার শেষ করেন। অবসরে যাবার আগে টেস্ট -ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই দেশটির সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আর সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন।  

ইমরান খান (১৯৯৩)

সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার কে? এমন প্রশ্ন উঠলে যাদের নিয়ে আপনি বাজি ধরতে পারবেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন পাকিস্তানের ইমরান খান। ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজক হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের ওই আসরটি রাউন্ড-রবিন লিগ পদ্ধতিতে খেলা হয়। ইমরানের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো ফাইনালে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ভারতের পর দ্বিতীয় এশিয়ান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ নিজেদের ঘরে তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। 

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওই ম্যাচেই অবসরের সিদ্ধান্ত নেন ইমরান। ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে দুই ফরম্যাটে মিলিয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজারের বেশি রান আর ৫৪৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এই পেস অলরাউন্ডার।

অর্জুনা রানাতুঙ্গা (১৯৯৬)

১৯৭৫ থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আসছিল শ্রীলঙ্কা। যদিও আহামরি পারফরমেন্স ছিল না দলটির। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে যুগ্মভাবে আয়োজক হয় লঙ্কানরা। বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকদিন আগেই দেশটি সন্ত্রাসী হামালা চালানো হয়। এতে কয়েকটি দেশ গ্রুপ পর্বের খেলা থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত গ্রুপের গণ্ডি পেড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড আর সেমিফাইনালে ভারততে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় অর্জুনা রানাতুঙ্গার দল। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় নিয়ে তৃতীয় এশিয়ান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতে শ্রীলঙ্কা। ১৯৮৩ সালে ক্রিকেটে অভিষেকের পর রানাতুঙ্গা প্রায় ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ২০০০ সালে।

স্টিভ ওয়াহ (১৯৯৯)

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে মার্ক টেইলরের বদলে অস্ট্রেলিয়া দলের হাল ধরেন স্টিভ ওয়াহ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড গিয়ে দলকে ফাইনালকে হারিয়ে দেয় তার নেতৃত্বাধীন দলটি।

টম মুডির সঙ্গে দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপ জয় করার রেকর্ড গড়েন তিনি। ক্যারিয়ার শেষে ২০০২ সালে ১৭ সালের ইতি টানেন এই কিংবদন্তি।

রিকি পন্টিং (২০০৩, ২০০৭)

সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়াকে তৃতীয় বিশ্বকাপ উপহার দেন ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রিকি পন্টিং। দক্ষিণ আফ্রিকাতে আয়োজিত ওই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অপরাজিত হিসেবে ট্রফিটি জয় করতে সক্ষম হয় অজিরা।  ঠিক একইভাবে ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজে হওয়া বিশ্বকাপের শিরোপাটিতে নিজের নাম লেখান পন্টিং। ক্লাইভ লয়েডের পর তিনিই টানা দুইবার অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয় করতে সক্ষম হন।

এমএস ধোনি (২০১১)

দীর্ঘদিন পর এশিয়ায় আয়োজন করা হয় ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ভারত, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যুক্ত হয় এবার বাংলাদেশের নামও। এতে পুরো টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচে না হেরেই নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলতে সক্ষম হয় ভারত।

এমএস ধোনিও নিজেকে ভারতের ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে ফেলেন। বিশ্বকাপটি দেশটির ব্যাটিং জিনিয়াস শচিন টেন্ডুলকারকে উৎসর্গ করেন ধোনি।

মাইকেল ক্লার্ক (২০১৫)

অস্ট্রেলিয়াকে পঞ্চম শিরোপা তুলে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। তার অধীনে ২০১৫ সালে নিজেদের ঘরের মাঠের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়ে বিশ্ব শিরোপাটি জিতে নেয় অজিরা।

ফাইনালে ৭৪ রানের ইনিংস খেলার পর ট্রফি নিয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে বিদায় জানান ডান-হাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

ওয়াই/পি

evaly
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়