logo
  • ঢাকা শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬

বিশ্বকাপ মঞ্চের সেরাদের সেরারা

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২২ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০৮ | আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:০৪
ছবি- সংগৃহীত

১৯৭৫ সাল থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু। এরপর থেকে এ পর্যন্ত এগারোটি আসর হয়ে গেছে। আগামী ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবে এ টুর্নামেন্টের দ্বাদশ আসর। প্রতিবছরই পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ পারফর্মেন্স করায় সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফি তুলে দেয়া হয়। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সেরা খেলোয়াড়কে নির্বাচন করা শুরু হয় ১৯৯২ সালে পঞ্চম আসর থেকে। এরপর থেকে নিয়মিত হয়ে আসছে। এর আগের চারটি আসরে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা হতো না। 

আসুন দেখে নিবো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পঞ্চম আসর থেকে দ্বাদশ আসরের আগ পর্যন্ত কারা হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়।

১৯৯২ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মার্টিন ক্রো

১৯৯২ বিশ্বকাপ: মার্টিন ক্রো (নিউজিল্যান্ড)

পঞ্চম আসরে মার্টিন ক্রোর নেতৃত্বে বিশ্বকাপে খেলতে যায় নিউজিল্যান্ড। সামনে থেকে দলকে দুর্দান্ত সাপোর্ট দেন কিউই অধিনায়ক। যার ফল ওই আসরে সেমিফাইনালে যায় তারা। কিন্তু সেমি থেকেই তাদের বিদায় নিতে হয় পাকিস্তানের কাছে হেরে। দলের পরাজয়ের ম্যাচেও করেছিলেন ৮৩ বলে ৩ ছয় ও ৭ চারে ৯১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। কিন্তু পাকিস্তান সে ম্যাচ ৪ উইকেটে জয় পেয়ে ফাইনালে চলে যায়। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপও ঘরে তোলে এশিয়ার দেশটি। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ৪৫৬ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান মার্টিন ক্রো। 

১৯৯৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান সানাথ জয়াসুরিয়া

১৯৯৬ বিশ্বকাপ: সানাথ জয়াসুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)

ষষ্ঠ আসরে অর্জুনা রানাতুঙ্গার হাত ধরে বিশ্বকাপ ঘরে তোলে এশিয়ার আরেক পরাশক্তি শ্রীলঙ্কা। ফাইনালে তারা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়। অরবিন্দ ডি সিলভার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে সাত উইকেটে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তোলে লঙ্কানরা। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ২২১ রান আর বল হাতে ৭ উইকেট নিয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন শ্রীলঙ্কার সানাথ জয়াসুরিয়া।

১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার ল্যান্স ক্লুজনার

১৯৯৯ বিশ্বকাপ: ল্যান্স ক্লুজনার (দক্ষিণ আফ্রিকা)

এই বিশ্বকাপটি দক্ষিণ আফ্রিকানরা সবসময় ভুলে থাকতে চাইবে। কারণ প্রথমবারের মতো ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার পরও স্নায়ুর চাপে পড়ে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। এরপর থেকেই মূলত চোকার অপবাদটি তাদের গায়ে লেগে যায়। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলে সেমিফাইনালে উঠে প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি তারা। শেষ পাঁচ বলে জয় পেতে তাদের দরকার ছিল এক রান। হাতে ছিল এক উইকেট। স্ট্রাইকে ছিলেন তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অলরাউন্ডার ব্যাটসম্যান ল্যান্স ক্লুজনার। কিন্তু স্নায়ুর চাপে পড়ে রান নিতে গিয়ে ম্যাচটি ড্র হয়ে যায়। কিন্তু লিগে প্রথম দেখায় জয়লাভ করায় এগিয়ে থেকে ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ঘরে তোলে। টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাট হাতে ২৮১ রান ও বল হাতে ১৭ উইকেট নিয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যান্স ক্লুজনার।

২০০৩ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ভারতের ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার

২০০৩ বিশ্বকাপ: শচীন টেন্ডুলকার (ভারত)

এটি ছিল বিশ্বকাপের অষ্টম আসর। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে উঠে ১৯৮৩’র বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত। কিন্তু ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হিসেবেই ঘরে ফিরতে হয় গাঙ্গুলী-টেন্ডুলকারদের। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল ভারত। টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাট হাতে ৬৭৫ রান করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ভারতের ওপেনার শচীন টেন্ডুলকার।

২০০৭ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রাথ

২০০৭ বিশ্বকাপ: গ্লেন ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া)

বিশ্বকাপের নবম আসরের স্বাগতিক ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে ১৯৯৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ব্যাটিং তাণ্ডবে ২৮১ রানের লক্ষ্য পায় শ্রীলঙ্কা। মাঝে বৃষ্টি আঘাত হানলে ৩৬ ওভারে ২৬৯ রানের লক্ষ্য দেয়া হয় এশিয়ার দেশটিকে। কিন্তু ৮ উইকেট হারিয়ে লঙ্কানরা ২১৫ রানই করতে সক্ষম হয়। অস্ট্রেলিয়া বৃষ্টি আইনে জয় পায় ৫৩ রানের। সেই সঙ্গে হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে তারা। পুরো টুর্নামেন্টে ২৬ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা।

২০১১ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ভারতের ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিং

২০১১ বিশ্বকাপ: যুবরাজ সিং (ভারত)
 
দশম আসরের স্বাগতিক হয় ভারত। এ আসরেই বাজিমাত করে তারা। ১৯৮৩ বিশ্বকাপের পর মহেন্দ্র সিং ধোনীর অধিনায়কত্বে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলে তারা। মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে জয়াবর্ধনের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ২৭৪ রান করে শ্রীলঙ্কা। পক্ষান্তরে গৌতম গাম্ভীরের ৯৭ ও অধিনায়ক ধোনীর অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংসের কল্যাণে ৬ উইকেটে জয়লাভ করে ভারত। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ৩৬২ রান ও বল হাতে ১৫ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন চ্যাম্পিয়ন ভারতের যুবরাজ সিং। 

২০১৫ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার বোলার মিশেল স্টার্ক

২০১৫ বিশ্বকাপ: মিশেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া)
 
হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পর খেই হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়া একাদশ আসরের শিরোপা ঘরে তোলে। এ আসরের স্বাগতিকও ছিল অস্ট্রেলিয়া। দিবারাত্রির ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৮৩ রানে আটকে যায় কিউইরা। জবাবে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। টুর্নামেন্টে ২২ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন অস্ট্রেলিয়ার মিশেল স্টার্ক।

এএ/পি

evaly
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়