logo
  • ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
evaly

ফিরে দেখা ঘটনাবহুল ১৯৯৬ বিশ্বকাপ

অনলাইন ডেস্ক
|  ৩১ মার্চ ২০১৯, ১৩:০৫ | আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ১৪:২৯
১৯৯৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ভারতীয় দর্শকদের তাণ্ডব থামাকে ব্যস্ত সময় পার করছে কলকাতা পুলিশ।
বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকদিন আগেই জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বোমা হামলা চালিয়ে ৯০ জনকে হত্যা করে তামিল বিদ্রোহীরা। এমন অবস্থায় ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হওয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল লঙ্কানদের কাছে।

১৯৯৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মোট ১২টি দল। গ্রুপ ‘এ’তে ছিল শ্রীলঙ্কা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেদারল্যান্ডস। 

‘এ’ গ্রুপের সূচি অনুযায়ী শ্রীলঙ্কার একটি বাদে প্রতিটি ম্যাচ ঘরের মাঠে খেলার কথা ছিল। যদিও নিরাপত্তার অজুহাতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বোতে খেলতে অস্বৃকীতি জানায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ওয়াকওভার পায় অর্জুনা রানাতুঙ্গার দল।

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা

গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে শিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় পেলেও তৃতীয় ম্যাচে প্রেমাদাসায় ফের ওয়াকওভার পায় লঙ্কানরা। এতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চলে আসে দলটি। 

ভারতের বিপক্ষের দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় খেলতে গিয়ে ছয় উইকেটের দাপুটে জয়ের পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় সনাথ জয়সুরিয়া-চামিন্দা ভাসদের।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে ক্যান্ডির আসগিরিয়া স্টেডিয়ামে কেনিয়াকে ১৪৪ রানে বিধ্বস্ত করে শীর্ষে থেকেই পরের রাউন্ডে পাড়ি জমায় দলটি।

পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দেয় লঙ্কান শিবির। 

ইডেন গার্ডেনসের গ্যালারিতে দর্শকদের আগুন

গ্রুপ পর্বের নাটকীয় ঘটনার পর এবার সেমি ফাইনালে পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় নাটকটি অপেক্ষা করছিল। 

কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৫১  রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে ৩৪.১ ওভারে মাত্র ১২০ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। স্বাগতিকদের এমন পারফরমেন্সে গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা তাণ্ডব চালানো শুরু করে। গ্যালারিতে আগুন লাগানোর পাশাপাশি মাঠে বোতল ছুঁড়তে থাকে। এমন অবস্থায় খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিতে শ্রীলঙ্কাকে জয়ী ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি ক্লাইভ লয়েড। এতে প্রথমবারের মতো ফাইনালে পৌঁছে যায় দলটি। 

 

ফাইনাল ম্যাচে অরিবিন্দ ডি সিলভা

বিশ্বকাপের ষষ্ঠতম আসরের ফাইনাল আয়োজিত হয় পাকিস্তানে লাহোরে। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের প্রতিপক্ষ ছিল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪১ রান সংগ্রহ করে অজিরা। অন্যদিকে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে ৪৬.২ বলে ২৪৫ রান তুলে নেয় রানাতুঙ্গার দল। এতে প্রথমবারের মতো বিশ্বসেরা খেতাব পায় শ্রীলঙ্কা। 

দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে ম্যাচ সেরা হন অরিবিন্দ ডি সিলভা। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ পারফরমেন্স করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন সনাথ জয়সুরিয়া।

ওয়াই/পি

evaly
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়