logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

মনে পড়ে সেদিনের কথা?

মেহেদী হাসান, আরটিভি অনলাইন
|  ১১ মার্চ ২০১৯, ২২:০০
বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংলিশদের প্রথমবারের মতো হারানোর গৌরবময় দিনের কথা এত দ্রুত ভুলে যাবার কথা নয় কারও। শেষদিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর শফিউল ইসলামের জয়ের নায়ক বনে যাওয়ার দিন টা যে ২০১১ সালের আজকের দিন।

টাইগারদের ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ, বাড়তি উন্মাদনা। দীর্ঘ নয় বছর পরও যেন স্মৃতির পাতা থেকে বিন্দুমাত্র মুচে যায়নি ম্যাচটা। মুচে যাবেই বা কেন, দিন টা যে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অনন্য অর্জনের একটা দিন।

২০১১ সালের বিশ্বকাপ। ভারত, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথ আয়োজক হয়েছিল বাংলাদেশও। সেই সুবাধে টাইগারদের সবকটা ম্যাচ ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

১১ মার্চ ২০১১, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘বি’ এর খেলায় মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। টস জিতে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ইংলিশদের।

বাংলাদেশ একাদশে ছিলেন তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, জুনাইদ সিদ্দিকী, রাকিবুল হাসান, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (উইকেট রক্ষক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাঈম ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক ও শফিউল ইসলাম।

টাইগারদের তরুণ একটা দলের বিপরীতে প্রতিপক্ষ দলে তখন অ্যান্ড্রু স্ট্রস, ম্যাট প্রিয়র, জনাথন ট্রট, ইয়ান বেল, এইয়ন মরগ্যান, রাবি বোপারা, গ্রায়েম সোয়ান, পল কলিংউড, ট্রেন্ট ব্রেজন্যান, আজমল শাহাজাদ, জেমি এন্ডারসনদের মতো অভিজ্ঞদের নিয়ে সাজানো একটা দল।

ভাবা যায়, টস জিতে আগে ব্যাট করতে পাঠানোর কথা! কিন্তু দিনটা বাংলাদেশের বলেই কি না বালুর বাধের মতো ভেঙে পড়ে ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনআপ।

দুই উদ্বোধনীর জুটি ভাঙে মেট প্রিয়রের বিদায়ে। ইনিংসের সপ্তম ওভারে আব্দুর রাজ্জাকের বলে মুশফিকের কাছে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

তার দুই ওভার পর আরেক উদ্বোধনী অ্যান্ড্রু স্ট্রসকে বিদায় করেন নাঈম ইসলাম। ইংলিশ অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৮ রান।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে এসে জনাথন ট্রট ধীর গতিতে ব্যাটিং করে তুলে নেন অর্ধশতক। মাঝে ঈয়ান বেল ২৩ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন মাহমুদুল্লার বলে ক্যাচ দিয়ে।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে ট্রট আর মরগ্যানের ১০৯ রানের জুটি। ট্রট দেখেশুনে খেললেও মরগ্যান রান তুলছিলেন দ্রুত। তাকে ৬৩ রানে থামান নাঈম ইসলাম। ডিফ ফাইন লেগ অঞ্চল দিয়ে মারতে যেয়ে ক্যাচ দেন ইমরুল কায়েসের হাতে। দলীয় রান তখন ১৬.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬২ রান।

এর খানিক পরেই সাকিবের বলি হন ট্রট। ব্যক্তিগত ৬৭ রানের মাথায় জুনাইদ সিদ্দিকীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর বাকি ছয় ব্যাটসম্যানের কেউই পার করতে পারেনি কুড়ি রানের কোটা। তাতে ৪৯.৪ ওভারে ২২৫ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

টাইগারদের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছিলেন নাঈম ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, সাকিব আল হাসান ও ১টি করে উইকেট নেন শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন আর মাহমুদুল্লাহ।

২২৬ রানের লক্ষ্য তখনও বাংলাদেশের জন্য কম নয়। যদি বিপক্ষ দল হয় ইংল্যান্ডের মতো তারকা আর অভিজ্ঞতায় ঠাঁসা দল, তাহলে তো আরও কঠিন।

শুরুতে দুই উদ্বোধনীর ব্যাটে আসে ৫২ রান। তামিম-ইমরুলের মিলে শুরুটা দুর্দান্ত বাংলাদেশের। ৩৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তামিম। টিম ব্রেজনেনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই বাঁহাতি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেকে আসে মাত্র ১৮ রান। ১২ বলে ১২ রান করে জুনাইদ সিদ্দিকী ফেরেন রান আউট হয়ে।

এরপর রাকিবুল হাসান উইকেটে আসলেন আর গেলেন। রানের খাতায় যোগ করতে পারেননি কোনও রান। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ৩ উইকেটে ৭৩।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে সাকিব জুটি গড়লেন ইমরুলের সঙ্গে। দুজনে মিলে যোগ করেন ৮২ রান। এর মাঝে ইমরুল তুলে নেন অর্ধশতক। আর ১০ রান যোগ করে এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান বিদায় নেন রান আউটের ফাঁদে পড়ে।

দলীয় ১৬২ রানে সাকিবের বিদায় ৩২ রানে সোয়ানের বলে বোল্ড হয়ে। মুশফিকের ৬ রানে বিদায় তখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা। সঙ্গে নাঈম হাসান শূন্য রান আর আব্দুর রাজ্জাক ১ রানে!

এরপরই যেন নতুন করে শুরু করেন মাহমুদুল্লাহ আর শফিউল ইসলাম। একজন বোলার হয়ে যেভাবে ব্যাটিং করেছিলেন এই ডানহাতি পেসার তাতে নতুন করে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে গোটা বাংলাদেশ।

আব্দুর রাজ্জাকের বিদায়ের পর বাংলাদেশের দরকার তখন ৯ ওভার ২ বলে ৫৬ রান।

মাথা ঠাণ্ডা রেখে একের পর এক জায়গা পরিবর্তন আর চার-ছয়ের ঝড় তুলে মাত্র ৮ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ-শফিউলের জুটি থেকে আসে ৫৮ রান। শফিউল করেন চারটি চার আর এক ছয়ে মিলে ২৪ বলে ২৪ রান। মাহমুদুল্লাহ করেন ৪২ বলে ২৪ রান।

২ উইকেটে টাইগারদের সে কি দুর্দান্ত জয়। সে রাতে উৎসবে মেতেছিল গোটা দেশ। আরেকটা বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দরজায়। এমন আরেকটা জয়ের আশা করাই যায় ইংলিশদের বিপক্ষে তাদের মাটিতেই।

এমআর/

evaly
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়