logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬
evaly

৯ মার্চ ফিরে আসুক বারবার

মেহেদী হাসান, আরটিভি অনলাইন
|  ০৯ মার্চ ২০১৯, ২০:১৭ | আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ১৯:৩৭
৪৭তম ওভারের দ্বিতীয় বল, তাসকিন আহমেদের বলে ক্রিস ওকসের দেয়া ক্যাচ ফেলে দিলেন তামিম ইকবাল! গোটা দেশ স্তব্ধ এমন দৃশ্যে। শুধু তামিম-তাসকিন নয় বাকি নয় জনের চেহারাও নিমিষে বিমর্ষ হয়ে গেল। কি মর্মান্তিক ঘটনাই না ঘটে গেল মূহূর্তে।

২০১৫ বিশ্বকাপ, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এখন পর্যন্ত সেরা একটি আসর। এর আগেও চারটা বিশ্বকাপ খেলেছিল টাইগাররা। এই চার বিশ্বকাপেও পাকিস্তান, ভারতের মতো বিশ্বকাপ জয়ী দলগুলোকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপ ছিল আলাদা। কেন না, সেরা দল নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল টাইগাররা।

৯ মার্চ ২০১৫, অ্যাডিলেড ওভালে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে হারলে ইংলিশরা ছিটকে যাবে বিশ্বকাপ থেকে। জয় পেলে বাংলাদেশ খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। কি কঠিন সমীকরণ।

এমন কঠিন সমীকরণ মাথায় নিয়ে স্ট্রাইক প্রান্তে তামিম ইকবাল আর নন-স্ট্রাইক প্রান্তে ইমরুল কায়েস। কি দূর্ভাগ্য! ইনিংসের প্রথম ওভারেই জেমস অ্যান্ডারসনের বলে ক্রিস জর্ডানের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ২ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ইমরুল।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ক্যাচ তুলে দেন আরেক ওপেনার তামিম। তিনিও সেই অ্যান্ডারসনের কাছেই থেমে গেলেন ২ রানে।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে উইকেটের লাগাম ধরেন সৌম্য সরকার আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এই জুটি থেকে আসে ৮৬ রান। দলীয় ৯৪ রানে সৌম্য ৪০ রানের মাথায় ক্যাচ তুলে দেন উইকেটের পেছনে জর্ডানের বলে।

সাকিব আল হাসান আসলেন আর সাজঘরে ফেরেন ২ রান করে মঈন আলীর বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লার সঙ্গে থিতু হবার চেষ্টা মুশফিকুর রহিমের। মাহমুদুল্লাহ-মুশফিকের জুটিটা জমে উঠল। ইংলিশ বোলারদের তুলো ধুনো করে মাহমুদুল্লাহ তুলে নিলেন শতক।

১৩৮ বলে ১০৩ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে যখন মাহমুদুল্লাহ বিদায় নেন তখন মুশফিকের সঙ্গে জুটি ১৪১ রানের। দলীয় রান দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৪০।

মাহমুদুল্লার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মুশফিকও তুলে নেন অর্ধশতক। রিয়াদের ফেরার সময় মুশফিকের রান ৮০। এরপর আর ৯ রান যোগ করে মুশি ফেরেন ৮৯ রান করে।

শেষদিকে সাব্বির রহমানের ১৪, অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজার ৬ আর আরাফাত সানীর ৩ রানে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৫ রান।

ইংলিশদের হয়ে ২টি করে উইকেট পান জেমি অ্যান্ডারসন ও ক্রিস জর্ডান। ১ উইকেট করে নেন স্টুয়ার্ট ব্রড ও মঈন আলী।

লক্ষ্য যতই হোক, প্রতিপক্ষ যখন বাংলাদেশ তখন কিছুটা নির্ভারই দেখা গেল ইংলিশদের। যদিও ২০১১ সালের বিশ্বকাপেও এই বাংলাদেশের কাছেই হারতে হয়েছিল ক্রিকেটের জনকদের।

উদ্বোধনী জুটিতে ৪৩ রান। দুই ইংলিশ ওপেনার ভালোই সামলাচ্ছিলেন রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি মুর্তজাদের। কিন্তু ইয়ান বেলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ফেরেন মঈন আলী। ২১ বলে ১৯ রানের মাথায় সৌম্যর থ্রোতে রান আউট করেন মুশফিক।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিটা একটু লম্বা। বেল আর অ্যালেক্স হেলস মিলে গড়লেন ৫৪ রানের জুটি।

হেলস-বেলের জুটি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলা দেয়া থেকে উদ্ধার করেন টাইগার অধিনায়ক নিজেই। হেলসকে ২৭ রানে ফিরিয়ে আবারও ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ।

ততক্ষণে পূর্ণ হয়ে গেছে বেলের অর্ধশতক। এরপর জো রুটকে নিয়ে এই জুটিতে করেন ২৪ রান।

২৬.১ ওভারের সময় রুবেলের করা বলে ব্যক্তিগত ৬৩ রানের মাথায় মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন বেল।

এরপর ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করেন রুবেল। জেমস টেইলরকে ১ রানে ফেরান তাসকিন। খানিক পরে ৩৫.৪ ওভারের সময় মাশরাফির আঘাত। রুটকে ২৯ রানেই থামান টাইগার দলপতি।

ম্যাচটা যখন টাইগারদের নিয়ন্ত্রণে, তখন বিপত্তি বাঁধাল জস বাটলার আর ক্রিস ওকস। ৭৫ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে নোঙ্গর ফেলার অপেক্ষা।

অর্ধশতক হাঁকিয়ে ভয়ানক হয়ে উঠা বাটলারকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। মাত্র ৫২ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন ডানহাতি ব্যাটার।

ক্রিস ওকস তখনও দলকে জেতানোর আশা ছাড়েননি। মাঝে ক্রিস জর্ডান ফেরেন রান আউট হয়ে শূন্য রানে। এরপর ফের স্টুয়ার্ট ব্রডকে নিয়ে ২২ রানের জুটি ওকসের।

এর মাঝে ইনিংসের ৪৭তম ওভারে তাসকিনের দ্বিতীয় বলে লং অনে ওকসের ক্যাচ ফেলে দেন তামিম ইকবাল। এ যেন জয়টাই হাত থেকে ফেলে দিলেন তামিম।

কিন্তু সেটি আর হতে দেননি রুবেল হোসেন। পরের ওভারের তৃতীয় বলে স্ট্রাইকে থাকা অ্যান্ডারসনকে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ডান-হাতি এই বোলার। এতে তামিমের হাত থেকে পড়ে যাওয়া ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

২৬০ রানেই থেমে যায় ইংলিশদের ইনিংস। ১৫ রানের জয় নিয়ে সে কি উদযাপন টাইগারদের। ভুলবার সাধ্য কার। এমন ‘৯ মার্চ’ বারবার ফিরে আসুক টাইগারদের ঘাঁটিতে।

এমআর/ওয়াই

evaly
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়