logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

  ২৬ এপ্রিল ২০২০, ১৮:১০
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ১১:৩৩

জার্সি নম্বর ১০ থেকে কয়েদি নম্বর ১৯৪

ronaldinho
রোনালদিনহো
প্যারাগুয়েতে প্রমোশনাল ইভেন্টে যোগ দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রোনালাদিনহো। জাল পাসপোর্ট রাখার অভিযোগে জেলে থাকতে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তিকে। মার্চে একটি হোটেল থেকে ভাই রবার্তো অ্যাসিসসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপর স্থানীয় আদালত তাদের ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি মিলেছে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকার। তবে শর্ত দেয়া হয়ে আদালতের পক্ষ থেকে। আপাতত স্থানীয় একটি হোটেলে গৃহবন্দি হিসেবে থাকতে হচ্ছে তাকে। 

রোনালদিনহোকে তারকা হতে দেখেছেন নব্বইয়ের দশকে অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার কার্লোস গামারা। নিজ দেশে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা যখন কারাবন্দী ঠিক তখন ছুঁটে গিয়েছিলেন প্যারাগুয়ের এই কিংবদন্তি।

রাজধানী আসুনসিয়নের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে একদিন সকালে হাজির জন গামারা। যেখানে সাম্বা তারকার কয়েদি নম্বর ছিল ১৯৪।

বেনফিকা, করিন্থিয়ানস, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের মতো দলের হয়ে খেলা এই সেন্টার ব্যাক বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। যেভাবে শিশুরা তার সঙ্গে ছবি তুলতে চাচ্ছিল, অটোগ্রাফ নিতে চাচ্ছিল। আমরা সবাই জানি তিনি বিশ্ব তারকা। তবে তিনি কারাবন্দী এটা আমাকে অবাক করেছিল।

৬ মার্চ ভাইয়ের সঙ্গে যখন আটক হন রোনালদিনহো এর পর থেকেই কারাগার এলাকায় ভক্তরা ভিড় করতো, এক নজর প্রিয় ফুটবলারকে দেখার জন্য।

কারাগারের দায়িত্বে থাকা ব্লাস ভেরাস অবশ্য ভক্তদের জন্য ‘রোনালদিনহো মিনি ট্যুর’ নামে একটি অনুষ্ঠানও আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেটি আয়োজন করা হয়নি।

ব্লাস ভেরাস বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সেটি আর করা সম্ভব হয়নি। জানি এটা লজ্জার। আমার মনে হয় ছোট শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে অবশ্যই তার ভালো লাগত।

মোট ৩২ দিন বন্দি অবস্থায় থাকা এই মিডফিল্ডার ২১ মার্চ নিজের ৪০তম জন্মদিন কারাগারেই পালন করেন। যেখানে তার আইনজীবি কেক নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন।

ব্যক্তি জীবনে রোনালদিনহো খুবই সাধারণ। বলতে গেলে ফুটবল ছাড়া অন্য সব কিছুতেই তার ধারণা কম।

২০০০ অলিম্পিকে ব্রাজিল অলিম্পিক দলে ছিলেন তিনি। ক্যামেরনের বিপক্ষে যখন দল হেরে যায় গোল্ডেন গোল সমর্পকেও তার ধারণা ছিল না। পরের বছর প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে যোগদেন। তার বড় ভাই রবার্তো অ্যাসিসের হাত ধরেই ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর পুরো ক্যারিয়ারে রোনালদিনহোর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তার ভাই।

২০০২ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। পরের বছর বার্সেলোনায় যোগ দেন রোনালদিনহো। এরপর তো আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০০৫ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন বার্সা ও ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরা এই তারকা। এসময় ভাই অ্যাসিসকেই নিজের আইডল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ক্যারিয়ার শেষ হবার পরও ফুটবল সংক্রান্ত সব কিছুই দেখভাল করতেন বড় ভাই। রোনালদিনহো যে জীবনের পুরোটা সময় ফুটবলেই মনোযোগ দিয়েছেন সেটাই তার প্রমাণ।

যে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করে প্যারাগুয়েতে গিয়েছিলেন তারাই রোনালদিনহো ও তার ভাইকে স্মারক হিসেবে দেশটির পাসপোর্ট দিয়েছিলেন। সঙ্গে থাকা অনেক কাগজের মধ্যে প্যারাগুয়ের পাসপোর্টটিও ছিল সেটা জানতেন না রোনালদিনহো। আদালতে এটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন রোনালদিনহোর আইনজীবী।

মামলা শেষ হওয়ার আগেই রোনালদিনহো ও তার ভাই পালিয়ে যেতে পারেন এমন শঙ্কা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ১.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার মুচলেকা হিসেবে জমা দিয়েছেন রোনালদিনহো।বর্তমানে দুই ভাই প্যারাগুয়েতে অবস্থান করছেন।

কয়েকবছর আগে ব্রাজিলের আদালত রোনালদিনহোর পাসপোর্ট জব্দ করেছিল। অনুমতি ছাড়া একটি চিনি কল স্থাপন করায় তাকে বিশাল অঙ্ক জরিমানা করা হয়। যদিও তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই পরিমাণ অর্থ না থাকায় পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেয় সরকার। সেটির কারণও ছিল তার ভাই।

ব্যক্তি রোনালদো যে অপরাধী নন সেটি পরিষ্কার। বারবারই ভাইয়ের জন্য আদালতে চক্কর কাটাতে হয়েছে ফুটবল জাদুকরকে।

এমন লজ্জায় রোনালদিনহোর মতো ফুটবলাররা পড়ুক সেটি চান না ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি বলেন, ‘রোনালদিনহোর সঙ্গে যা হয়েছে তা অবশ্যই কাম্য নয়। তিনি কোনও অপরাধী নন। কাজের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।’

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী বলেন, ‘তার সবচেয়ে বড় দোষটি হচ্ছে তিনি একজন তারকা। তিনি আমার বন্ধু। আমি চাই দ্রুত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসুক।’

ওয়াই

RTVPLUS