logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

‘আমার আকবর অনেক দূর যাবে’

জাহাঙ্গীর আলম বাদল, রংপুর
|  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:১৫ | আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:২৯
‘আমার আকবর অনেক দূর যাবে’
আকবর আলী
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক রংপুরের কৃতি সন্তান আকবর আলীর ব্যাটিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করায় গর্বিত রংপুরবাসী ও তার পরিবার।

টানা চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে তার নেতৃত্ব দলটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আকবর প্রতিটি খেলায় দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছে।

এর আগে আরও দুই ক্রিকেটার সোহরাওয়ার্দী শুভ ও নাসির হোসেন ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে রংপুরের।

রংপুর মহানগরীর পশ্চিম জুম্মা পাড়া হনুমা তলা গ্রামের ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোস্তফা ও শাহিদা বেগম দম্পতির চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছেলে আকবর আলী।

আকবরের ছোট বেলা থেকেই ঝোঁক ছিল ক্রিকেটের প্রতি। রংপুর জিলা স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন অসীম মেমোরিয়াল ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হয়ে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নেন আকবর।

তখন তার কোচ ছিলেন রংপুরের কীর্তিমান ক্রিকেট কোচ মিনান। বিকেএসপিতে ২শ’ জন আবেদনকারীর মধ্যে সে নির্বাচিত হয়ে সেখানে ভর্তি হয়। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করে সবার নজর কাড়েন আকবর আকবর আলীর অধিনায়কত্ব। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ছিলেন সহ-অধিনায়ক।

লেখাপড়ায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন আকবর। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া আকবর এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হোন ৪.৪২ নিয়ে।

আকবরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এমন সফলতায় উচ্ছ্বসিত তার শহর। রংপুর সিটি করপোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর হাসনা বানু জানান, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে রংপুরের কৃতি সন্তান আকবরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করায় আকবরের পরিবার প্রশংসায় ভাসছে। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসনসহ দলে দলে মানুষ আসছে তার বাড়িতে শুভেচ্ছা জানাতে।

বড় ভাই মুরাদ হোসেনের হাত ধরেই ক্রিকেটে আসা আকবরের। মুরাদ ক্রিকেটার হতে না পারলেও চেয়েছিলেন আকবর হবেন ক্রিকেটার। আকবরের বড় ভাই মুরাদ হোসেন বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল দেশের হয়ে জাতীয় দলে খেলার। পারিবারিক সমস্যার কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। আমার ছোট ভাই আকবর আজ আমার সে স্বপ্ন পূরণ করেছে।

আকবরের বাবা মো. মোস্তফা জানান, বোনের মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে আকবরের এমন সফলতা। গত ২২ জানুয়ারি ওর বড় বোন খাদিজা বেগম মারা যায়। যমজ সন্তান প্রসব করলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। খেলায় মনোযোগ ব্যাহত হতে পারে বলে আমরা তাকে জানাতে চাইনি। আমি বিশ্বাস করি, আমার আকবর অনেক দূর যাবে।

বোনের মৃত্যু সংবাদ চেপে রাখতে চাইলেও জেনে যায় আকবর। জানার পর ফোনে বাবাকে বলেন, আমার বোনের মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যাব। তোমরা দোয়া করো যেন বাংলাদেশ দল এবার বিশ্বকাপ জয় করে দেশে ফিরতে পারে।

এমআর/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • খেলা এর সর্বশেষ
  • খেলা এর পাঠক প্রিয়