logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

  ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫৩
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:১৪

দোষটা নিজের কাঁধে নিলেন সাকিব

দোষটা নিজের কাঁধে নিলেন সাকিব
সাকিব আল হাসান
চট্টগ্রাম টেস্টে কেমন খেলেছে বাংলাদেশ? যেমনটা খেললে একটা দল পরাজিত হয় তেমনটাই খেলেছে বাংলাদেশ। এটাই তো সোজা হিসেব। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ ১১৪ ম্যাচের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দল। তাই বলে এই দলের সবাই কি আর ১১৪ ম্যাচ খেলেছে? যারা খেলেছে তারাও যে কটা টেস্ট ম্যাচ খেলেছে তার ধারে কাছেও নেই আফগানিস্তান। মাত্র দুটো টেস্ট ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিল বাংলাদেশে।

এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশি সমর্থকেরা হয়তো ভেবেছিল, কী আর হবে। মানে, বাংলাদেশ অনায়াসে হারিয়ে দেবে আফগানদের। এমনটা খেলোয়াড়েরাও ভেবেছে নিশ্চয়। ভাবনায় আসারই কথা।

কিন্তু কী হয়েছে শেষ পর্যন্ত। যা কিছু হয়েছে সেটা খুব দ্রুতই ভুলে যেতে চাইবেন সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়েরাও। এ যেমন ম্যাচ শেষে দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেই দিলেন- আমরা চাইবো এই ম্যাচটা যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যেতে।

কিন্তু এমন একটা ম্যাচের দুঃস্মৃতি দ্রুত কী করে ভুলবেন সাকিবরা! চাইলেও কি সম্ভব? টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস ঘাটলেই তো জ্বলজ্বল করে ভেসে উঠবে এই ম্যাচের ‘আফগান রূপকথা’।

কী ছিল না এই ম্যাচে। শতকের ইনিংস, ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়া, এক অর্ধশতসহ দুই ইনিংসে দশ উইকেট নেয়া। কিন্তু এর সবই যে আফগানিস্তানের দখলে।

কী পেল বাংলাদেশ? এই টেস্টকে একশ নম্বরে কত দিবেন সাকিব? সাকিবের উত্তরটা ছিল, ‘জিরো’।

ব্যাটে-বলে সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে ছাপিয়ে গেছে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ দল আফগানিস্তান। এই দলের অধিনায়কও ছিলেন টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে নাম লেখানো রশিদ খান। টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন অনেক আগেই। বাকি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ১১ উইকেট আর এক ইনিংসে অর্ধশত রান করে তারই জানান দিয়ে দিলেন হয়তো।

পাঁচ দিনের ম্যাচে তিন দিন খেলা হয়েছে ঠিকঠাক। দুই দিনের বেশি ভাগ সময়ই গেছে বৃষ্টির পেটে। যদিও এই ম্যাচে তৃতীয় দিনের শেষ সেশন থেকেই জয়ের আভাস পেয়ে গেছে সফরকারীরা। এরপর বাকি দুই দিনের বৃষ্টিতে স্বস্তি খুঁজেছিল বাংলাদেশ।

পঞ্চম দিনে এসে শেষ সেশনে ১ ঘণ্টা দশ মিনেটের জন্য খেলা শুরু হয়েই যত ঝামেলা। মাত্র ১১১টা বল কোনোরকম পার করে দিলেই ম্যাচটা ড্র হয়ে যেত।

সে হিসেব করেই ব্যাট করতে নেমেছিলেন সাকিব আর সৌম্য। কিন্তু উইকেটে এসেই প্রথম বলে জহীর খানের বলে উইকেট রক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাঝঘরে ফেরেন সাকিব।

এরপর আর সৌম্য, মিরাজ, তাইজুলরা মিলে বাঁচাতে পারেননি ম্যাচটা। ততক্ষণে লেখা হয়ে গেছে আফগান রূপকথা।

প্রথম বলে উইকেট দিয়ে আসায় ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। এর জন্য সাকিব অবশ্য নিজেকেই দুষছেন।

'মেনে নেওয়া অবশ্যই কষ্টের। ৪ উইকেট নিয়ে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট টিকে থাকতে হতো। আমি শুধু আমারটাই বলতে পারি। প্রথম বলে আউট হয়ে দলের কাজটা কঠিন করে ফেলেছি। দায়িত্ব আমার কাঁধেই পড়ি। প্রথম বলে কাট-শট না খেললেও হতো। না খেলার মতোই বল ছিল। তবু শট খেলে ফেলেছি। সেখানে দল চাপে পড়ে গেছে। যেহেতু আমি উইকেটে ছিলাম, মূল ভূমিকাটাই পালন করা উচিত ছিল। সেটি করতে পারলে ড্রেসিংরুম আরও স্বচ্ছন্দ থাকত। তাতে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যেত, ড্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। চাইছিলাম প্রথম বলটা ভালোভাবে সামলাতে। আসলে আমারই দোষ।'

এমআর/সি

RTV Drama
RTVPLUS