logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

সোলারি এগিয়ে থাকলেও জিদানেই আস্থা

অরণ্য গফুর
|  ২০ মে ২০১৯, ১৬:৫৭
জিনেদিন জিদান ও সান্তিয়াগো সোলারি || ছবি- সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ; সবচেয়ে এলিট ক্লাবের খেতাবও দখলে তার। মহাদেশীয় আসর- উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ ১৩টা শিরোপা জিতে অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে মাদ্রিদ জায়ান্টরা। আর স্প্যানিশ লা লিগাতেও ৩৩ ট্রফিতে সবার ওপরে অবস্থান লস-ব্লাঙ্কোসদের। ট্রফি ছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের কোনো মৌসুম অতিবাহিত হবে, এটা যেন কল্পনাই করতে পারেন না দলটির সমর্থকরা। 
নিজেদের এই এলিটপনা ধরে রাখতে সেরা খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়ে আসছে রিয়াল মাদ্রিদ। ডি স্টেফানো থেকে শুরু করে হালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বহন করেছেন লস-ব্লাঙ্কোসদের পতাকা।

bestelectronics
সাফল্য পেতে শুধু খেলোয়াড় না, দরকার হয় মানসম্পন্ন কোচও। সেখানেও সবাইকে টেক্কা দিয়ে আসছে রিয়াল মাদ্রিদ। 
কিন্তু ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে এসে সব যেন ছন্ন ছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের। লিগ শেষ করেছে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে। 

চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা থেকে ১৯ আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন বেল-বেনজামারা। কোপা দেল রে-র সেমিফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হেরে বিদায়। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আয়াক্সের তারুণ্যের কাছে ধরাশায়ী হয়, র‌্যামোস-ক্রুসদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ রিয়াল। 
অবস্থা বদলাতে এ মৌসুমে তিনজন কোচের দ্বারস্থ হয় রিয়াল মাদ্রিদ। 

বিশ্বকাপের আগে স্পেন দল থেকে হুলেন লোপতেগুইকে ভিড়িয়ে সমালোচনার জন্ম দেয় মাদ্রিদের জায়ান্টরা। কিন্তু শুরুতেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয় ব্লাঙ্কোস সমর্থকদের। লিগে ১০ ম্যাচ মাত্র ১৪ পয়েন্ট অর্জনে সমর্থ হন স্প্যানিশ কোচ। যা শতাংশের বিচারে ৪৬.৬৬। 
তাকে সরিয়ে ‘বি’ দলের দায়িত্বে থাকা সান্তিয়াগো সোলারিকে ভারঅর্পণ করেন রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে দলকে ভালই গুছিয়ে এনেছিলেন তরুণ এ আর্জেন্টাইন কোচ। কিন্তু এল-ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার কাছে টানা দুই হারে তাঁর ওপর নাখোস হয় রিয়াল সমর্থকরা। তবে তাঁর জন্য আঘাত হয়ে আসে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আয়াক্সের কাছে হেরে বিদায় নেয়াটা। তাই এ আর্জেন্টাইকেও বিদায় করে দেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। 

সোলারির অধীনে ৩২টি ম্যাচ খেলে রিয়াল মাদ্রিদ। এর মধ্যে ২২ জয়, দুটি ড্র ও আটটি হার। জয়ের হার ৬৮.৭৫ শতাংশ। লা লিগাতে সফলতার হার আরও বেশি। ৭২.৫৪ শতাংশ পয়েন্ট অর্জন করতে সমর্থ হন সোলারি। 

শেষ দিকে আবার দায়িত্ব দেয়া হয় জিনেদিন জিদানকে। কিন্তু এবার আর ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি ফ্রেঞ্চ ফুটবল কিংবদন্তী। ৩৩ পয়েন্টের মধ্যে ১৭ পয়েন্ট আনতে সমর্থ হন জিদান। যা শতকরা ৫১.৫১ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি লিগে প্রথম থেকে জিদান দলের কোচ হিসেবে থাকলে মৌসুম শেষে তাদের অবস্থান হতো অষ্টম স্থানে।

অর্থাৎ সাফল্যে বেশ এগিয়ে সোলারি। কিন্তু সেটাও তার জন্য যথেষ্ট হয়নি। একটা ভাঙা দলকে গুছিয়ে আনার পরও, শিরোপা না পাওয়ার কারণে বলির পাঠা বানানো হয়েছে সোলারিকে। 

ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে জিদান কি পারবেন আগামী মৌসুমে সাফল্যের আনন্দে ভাসতে? নাকি টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের রেকর্ড নিয়েই শান্তনা গুণতে হবে বিদায়ের অপেক্ষায় থেকে।

এজি/ওয়াই

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়