• ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

দুর্দান্ত ফ্রি কিকে ৬০০ গোলের এলিট ক্লাবে মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০২ মে ২০১৯, ১২:২৯ | আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ১৩:১১
ছবি- সংগৃহীত
ক্লাব ফুটবলের সকল খেতাব তার পায়ে এসে লুটোপুটি খেয়েছে। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে কেনও যেনো প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকেন। নিজেকে হাতড়ে বেড়ান পুরো মাঠ জুড়ে। তার এ পথচলার শুরু ব্রাজিলিয়ান গ্রেটের হাত ধরে। যার অবদানের কথা সুযোগ পেলেই স্মরণ করেন বর্তমান সময়ের ফুটবল বিস্ময় বার্সেলোনা ও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। 

২০০৫ সালের ১ মে ক্যাম্প ন্যূয়ে বার্সেলোনার বিপক্ষে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে মাঠে নেমেছিল স্পেনের খুব ছোট দল আলবাসেত। সেবারই তারা সবশেষ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিল, এখন খেলছে দ্বিতীয় বিভাগে। সেই মৌসুমটা তারা গর্বভরেও মনে রাখতে পারে। কারণ আজকের কিংবদন্তী লিওনেল মেসি তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটা করেন আলবাসেতের বিপক্ষে। 

তবে ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি বিখ্যাত হয়ে থাকবে অন্য কারণে। গোলটি যে হয়েছিল রোনালদিনহো-মেসির যুগলবন্দীতে। মেসি তার ক্যারিয়ারে ব্রাজিল কিংবদন্তির অবদান কখনো ভুলতে পারবেন না। শুরুর দিনগুলোতে রোনি আগলে রেখেছিলেন মেসিকে। ওই ম্যাচের প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। এরপর ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে গোলও পেয়ে যান। কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। 

হয়ত এ কারণেই রোনি হয়ত মেসির মন রাখতে তাকে দিয়ে গোল করানোর প্রতিজ্ঞা করেন। আর সুযোগও পেয়ে যান। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বল মাথা ছুঁয়ে মাটিতে নামিয়ে মেসি বল বাড়ান রোনির দিকে। রোনি বল পেয়ে চিপ করে হাওয়ায় ভাসিয়ে পাঠিয়ে দেন ততক্ষণে বক্সের বাঁয়ে ঢুকে পড়া মেসিকে। একবার পড়ে ড্রপ খেয়ে ভেসে ওঠা বলে বাঁ পায়ের ভলিতে মেসি পাঠিয়ে দেন জালে। ক্যারিয়ারে প্রথম গোল করে এবং গোলে অবদান রেখে রোনালদিনহো ১৭ বছর বয়সী মেসিকে কাঁধে নিয়ে গোল উদযাপন করেন।

বার্সেলোনার হয়ে নিজের প্রথম গোল পাওয়ার ১৪তম বার্ষিকীতে এসে ৬’শ গোলের দেখা পান আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। ন্যু ক্যাম্পে বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে দুর্দান্ত ঝলক দেখান মেসি। দলের হয়ে করেন জোড়া গোল। মেসির করা দ্বিতীয় গোলটিই ছিল মাইলফলকে পৌঁছানোর গোল। যা অনেকদিন মনে রাখবে লিভারপুল ও বর্তমান কোচ ক্লপ। 

৬৮৩তম ম্যাচে এসে ৬শ’ গোলের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেন বার্সা সুপারস্টার। অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি তার গোল ০.৮৮। ৫৯৮ গোল নিয়ে গতরাতে অলরেডসদের বিপক্ষে নামেন মেসি। দরকার ছিল আর দুইটি। ম্যাচে কাঙ্খিত ওই দুই গোলই করেন তিনি। যার মধ্যে একটি আবার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে। আর এ গোলটি চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসির ১২তম, আর আসর সর্বোচ্চও।

বর্তমানে খেলে যাচ্ছেন এমন ফুটবলারদের মধ্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর ছয়’শ গোলের দেখা পাওয়া দ্বিতীয় খেলোয়াড় মেসি। তবে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে রোনালদোর চেয়ে ১১৮ ম্যাচ কম খেলার পাশাপাশি তিন বছর সময় কম লাগিয়েছেন এলএমটেন। আর সব মিলিয়ে ক্লাব পর্যায়ে ন্যূনতম ছয়’শ গোল করা সপ্তম খেলোয়াড় মেসি।

ফ্রি কিকের গোলটি নিয়ে ম্যাচ শেষে মেসির উক্তি, ভীষণ সৌভাগ্যবান বলেই গোল করার ফাঁকটা পেয়েছি। এটা ছিল দারুণ মুহূর্ত।

এলিট ক্লাবে প্রবেশের রাতে কাকতালীয়ভাবে মিলে যায় প্রথম গোল পাওয়া দিনে তারিখের সঙ্গে। ক্যারিয়ারের প্রথম গোল পাওয়ান দিন ছিল ১মে, গতরাতে এলিট ক্লাবে প্রবেশের সময়ও তারিখ ছিল ১ মে।

এদিন আরেক কীর্তি গড়েন ব্লাউগ্রানাদের প্রাণভোমরা। শেষ গোলটি দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের দলের বিপক্ষে ২৬ গোল করেন তিনি। ইংলিশ লিগের দলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে এত গোল আর কোনো ফুটবলারের নেই। আর ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় সব মিলিয়ে ৩২ দলের বিপক্ষে গোল করলেন তিনি। মেসির চেয়ে বেশি ৩৩ দলের বিপক্ষে গোল আছে কেবল রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ড রাউলের।

এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ফ্রি কিক থেকে আটটি গোল করেছেন মেসি - যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগের (ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন আর ইতালি) যেকোনো খেলোয়াড়ের ফ্রি কিক থেকে করা গোলের সংখ্যার দ্বিগুণ।

এএ/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়