logo
  • ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

মেসির কারণে গার্দিওলার ৭৭১২ কোটি টাকার লোকসান!

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২০ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৩৯ | আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৫২
লিওনেল মেসি ও পেপ গার্দিওলা ফাইল ছবি

পেপ গার্দিওলা। আজকের বার্সেলোনার উত্থানের মূল কারিগর বলা হয়ে থাকে যাকে। কিন্তু তিনিই কিনা ২০১৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা তুলে ধরতে পারেননি। অথচ বার্সেলোনার চার বছরের ক্যারিয়ারে দুইবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছেন। এসব কিছুই ঠিক। কিন্তু এর সঙ্গে মেসির যোগসাজোশ কী? আসুন ঘেটে দেখি গার্দিওলা এই সাত বছরে কেনো একবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে পারেননি।

২০০৭ সালে বার্সেলোনার বি দল দিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করা গার্দিওলা ফ্রাঙ্করাইকার্ডের পর বার্সেলোনা মূল দলের দায়িত্ব পান এক বছর পরই। এরপরই মূলত তার হাত ধরে বার্সেলোনার উত্থান। এরপর চার বছর কাটান বার্সা শিবিরে। এ সময়ের মধ্যে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ মোট ১৪টি শিরোপা ঘরে তোলেন এ স্প্যানিশ কোচ। যার কারণে তাকে বার্সেলোনার সবচেয়ে সফল কোচের খ্যাতি এনে দেয়। এ সময় তার হাতে ছিল মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তার মত তরুণ খেলোয়াড়। যারা তার কল্পনাকে মাঠে নেমে বাস্তবায়ন করত। তার অগ্রভাগে বাধ্য ছাত্রের মতো দায়িত্ব পালন করতেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। যিনি কিনা লা মাসিয়া থেকেই উঠে এসেছেন। 

এরপর ২০১৩ সালে জার্মানির বুন্দেসলিগার সফল দল বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্ব কাঁধে নেন। এখানে তিন বছর কাটান তিনি। কিন্তু বায়ার্নকে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা এনে দিতে পারেননি। অথচ বায়ার্নে নতুন খেলোয়াড় ক্রয়ের জন্য তিনি খরচ করেন মোট ২০৪.৫ মিলিয়ন ইউরো। যার ফল পুরোপুরি জিরো। তিন বছরই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় তার দল বায়ার্নকে। যদিও বায়ার্ন বুন্দেসলিগার সফলতম একটি দল। কিন্তু তিনি তাদের কাঙ্খিত চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা তুলে দিতে পারেননি।

 

বিমর্ষ ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলা

বুন্দেসলিগা ছেড়ে তিনি চলে আসেন ইংলিশ লিগে। ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেন ম্যানচেস্টার সিটির। ম্যানসিটির আমিরাতি মালিক শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান শুরুতেই টাকার ভাণ্ডার খুলে দেন। ব্যাপারটা এমন যত টাকা লাগে ঢালো, বিনিময়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ এনে দাও! অধিকার পেয়ে গার্দিওলাও খরচ করেছেন দেদারছে। ম্যানসিটিতে তিন বছরেই নতুন খেলোয়াড় ক্রয়ের পেছনে খরচ করেছেন ৬০৭.৫ মিলিয়ন ইউরো।

প্রথম বছরেই খেলোয়াড় ক্রয়ে খরচ করেন ২১৩ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু এমবাপ্পের ঝলকে শেষ ষোলো থেকে সেবার বিদায় নিতে হয় সিটিকে। পরের বছরে খরচের মাত্রাটা আরও বাড়িয়ে দেন পেপ। এবার তার খরচ ৩১৭.৫ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু শেষ আটেই ছিটকে পড়তে হয় স্বদেশি ক্লাব লিভারপুলের কাছে হেরে। আর চলতি মৌসুমে খরচ করেছেন ৭৭ মিলিয়ন ইউরো। এবারও কোয়ার্টার থেকে বিদায়। নেপথ্যে আরেক স্বদেশি ক্লাব টটেনহ্যাম।

দুই ক্লাবের হয়ে ছয় বছরে মোট ৮১২ মিলিয়ন ইউরো! বাংলাদেশি মুদ্রায় যার অঙ্ক দাঁড়ায় ৭৭১২ কোটি ৬৫ লাখ ৯ হাজার ২৬ টাকা! কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করেও বারবার ব্যর্থতার পর ইউরোপ জুড়ে প্রশ্ন একটাই, ঠিক কত টাকা খরচ করলে চ্যাম্পিয়নস লিগ ধরতে পারবেন গার্দিওলা?

ডাচ কিংবদন্তী রুড গুলিথ

কেউ এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পারলেও উত্তর কিন্তু দিয়েছেন ডাচ কিংবদন্তী রুড গুলিত। ডাচ কিংবদন্তির স্পষ্ট ভাষ্য, মেসিকে ছাড়া গার্দিওলা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারবেন না। 

বিইন স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ৫৬ বছর বয়সী গুলিথ বলেন, গার্দিওলা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারছে না। কারণ, তার হাতে এখন একজন মেসি নেই। মেসির না থাকাটাই গার্দিওলার সাফল্যের পথে বড় পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বায়ার্নের হয়ে সে চেষ্টা করেছে। প্রতিবার কাছাকাছিও পৌঁছেছে। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সফল হননি। জার্মান বুন্দেসলিগার শিরোপা জেতা বায়ার্নের জন্য বড় কোনো অর্জন নয়। কারণ, বায়ার্ন প্রায় প্রতি বছরই লিগ জেতে।

এরপরই বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গে জুটি বেঁধে গার্দিওলার সাফল্য প্রাপ্তির বিষয়টি টেনে এনে বলেন, বার্সেলোনা যখন কঠিন ম্যাচে মুখোমুখি হতো বা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ত, মেসি পার করে নিতেন। গার্দিওলার সময়ে বার্সেলোনার অনেক অনেক ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মেসি। ডাচ কিংবদন্তী যে পেপকে না চিনেই একথা বলেছেন তাও নয়। তিনি ৪৮ বছর বয়সী গার্দিওলাকে ব্যক্তিগতভাবেই চেনেন। নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় গার্দিওলার প্যাসন এবং নিবেদনও জানা। সেই জানা থেকেই বলছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে গার্দিওলার মেসিকে লাগবে! মানে চ্যাম্পিয়নস লিগ সাফল্য পেতে হয় মেসিকে কিনতে হবে, নয়তো গার্দিওলাকেই ফিরে আসতে হবে বার্সেলোনায়!

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়