logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

‘ম্যারাডোনার উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে না মেসি’

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৪ | আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৭
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি

পেলে নাকি ম্যারাডোনা কে সেরা? এ তর্ক কয়েক শতাব্দী ধরেই চলে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করে এ তর্কে বাধ সাধেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তারা নিজেদের ফুটবল কারিশমায় বিশ্বকে এমনভাবে মোহিত করেছেন যে ফুটবলপ্রেমীরা ভুলতে বসেছে পেলে-ম্যারাডোনার মধ্যে কে সেরা।

মেসি-রোনালদো বর্তমান সময়ের ফুটবল বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। তবে মেসি একটু আলাদা। কারণ তিনি আবার ফুটবল ঈশ্বর দিয়াগো ম্যারাডোনার স্বদেশী। যার কারণে তাকে নিয়ে আলোচনাও বেশি। তার খেলার ধরণ দেখে অনেকে তাকে ম্যারাডোনার পরের আসনে বসিয়েছেন। আবার অনেকে ম্যারাডোনার চেয়েও বড় বানিয়েছেন। কিন্তু মেসির যা অর্জন তা ক্লাব ফুটবলে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কোথায় যেনো হারিয়ে যান মেসি। ক্লাব ফুটবলের ক্ষিপ্রতার আর দেখা মিলে না। 

ক্লাব ফুটবলের সব রেকর্ড তার পায়ে এসে চুম্বন করলেও আকাশী-নীল জার্সি গায়ে তেমন কোনও সাফল্য এনে দিতে পারেননি দেশকে। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের ফুটবলে অনুর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে স্বর্ণ জয় তার স্মরণীয় একটি অর্জন । 

১৯৮৬ বিশ্বকাপে ট্রফি জয়ের পর উল্লাসরত ম্যারাডোনা ও তার সতীর্থ হেক্টর এনরিকে

মেসির খেলা দেখে অনেকেই মনে করেন পেলে-ম্যারাডোনাকে ছাপিয়ে গেছেন খুদে জাদুকর। আসলে কী তাই? বিশ্বকাপ ফুটবলকে মানদণ্ড ধরা হলে উত্তর হবে, ‘কোনোভাবেই না’। কারণ পেলে জিতেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। আর ম্যারাডোনা একা একবার বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তার দেশকে। আরেকবার তুলেছিলেন ফাইনালে। 

সে হিসেবে মেসির অর্জন কি? একবার শুধুমাত্র বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজ দেশকে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর কোপা আমেরিকার ফাইনালে দুইবার দলকে নিলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। 

আর এ কারণেই মেসি কখনোই ম্যারাডোনার সমান হতে পারবে না বলে দাবি করলেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনার সাবেক মিডফিল্ডার হেক্টর এনরিকে। 

বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার নিজের মতামতের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার সর্বকালের একটি সেরা একাদশ দাঁড় করাতে গিয়েই বিতর্কে জড়ান মেসি এবং ম্যারাডোনা নিয়ে। যেখানে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের আসন দিয়েছেন ম্যারাডোনাকেই।

হেক্টর এনরিকে আটাক ফুটবোলেরিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জাতীয় দলে মেসি খুবই কঠিন একটি সময় পেয়েছে। আমি আশা করি, আগামী বিশ্বকাপে আমরা যা আশা করি, সেই সৌভাগ্য হয়তো তিনি পাবেন। কিন্তু, আমি বলতে চাই মেসি কখনোই ম্যারাডোনার সমান হতে পারবে না।’

ম্যারাডোনা ও তার সতীর্থ হেক্টর এনরিকে

নিজের সতীর্থকে সেরা আসনে বসিয়ে ৫৬ বছর বয়সী আর্জেন্টিনার সাবেক এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, এখন তো নয়, মেসি ভবিষ্যতেও কোনো দিন ম্যারাডোনার উচ্চতায় পৌঁছতে পারবেন না! এমনকি মেসি যদি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপও জেতান, তারপরও তিনি ম্যারাডোনার মানে পৌঁছতে পারবেন না বলেই রায় দিয়েছেন হেক্টর এনরিকে।

হেক্টর এনরিকে মেসিকে সেরা না মানলেও কিছুদিন আগেই সাবেক-বর্তমান মিলিয়ে বিশ্বের ১৭ জন কোচ-খেলোয়াড়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কা। তাতে ১৭ জনের ১০ জনেই সেরা বলে রায় দিয়েছিলেন মেসিকে। ৭ জন বলেছিলেন ম্যারাডোনার নাম।

হেক্টর এনরিকে আর্জেন্টিনার হয়ে মাত্র ১১টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভারপ্লেটের কিংবদন্তি তিনি। আর মাত্র দেশের জার্সিতে ১১ ম্যাচ খেলেই হেক্টর প্রতিনিধিত্ব করেছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ও ১৯৮৯ সালের কোপা আমেরিকায়। ফলে জাতীয় দলের হয়ে অল্প কয়টা ম্যাচ খেললেও তার গর্ব করে বলার মতো অনেক কিছুই আছে।

জাতীয় দলের হয়ে ১২৯টি ম্যাচ এবং দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (৬৫টি) গড়েও মেসির সেই গর্ব নেই। ফলে হেক্টর এনরিকের কথাকে তো আলাদা গুরুত্ব দিতেই হয়।

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়