logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

স্টোকসকে কাঁদিয়ে ব্র্যাথওয়েটের উল্লাসের দিন

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৫১ | আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:২১
৩ এপ্রিল ২০১৬। বিশ্ব ক্রিকেটে এই দিনটিকে অবশ্যই ভুলতে চাইবে ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ড। বিশেষ করে বলতে হবে বেন স্টোকসের নামটি। ইংলিশ দলের আর কেউ না হউক অন্তত তিনি চাইবেন এই দিনটি যেন তার স্বপ্নের মধ্যেও না আসে। আসুন পাঠকরা যেনে নেই এদিন এমন কী ঘটেছিল যে বেন স্টোকস কেঁদেছিলেন আর তার পাশেই উল্লাস করছিলেন  কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। 

ঘটনাটি ঘটেছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরে। ফাইনালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে মুখোমুখি হয়েছিল আসরে দুই সেরা দল ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইংল্যান্ড সমর্থকরা যখন ধরে নিয়েছিল যে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের দ্বিতীয় শিরোপা তাদের ঘরেই উঠতে যাচ্ছে তখনই অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে জয়ের নায়ক বনে যান অচেনা ব্র্যাথওয়েট। 

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল ১৯ রানের। উইন্ডিজদের হাতে তখনও চার উইকেট। মাঠে অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস ও ব্র্যাথওয়েট। বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত স্টোকস। যিনি তার প্রথম দুই ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়েছিলেন। অপরপ্রান্তে তাকে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ব্র্যাথওয়েট। যার সংগ্রহ তখন মাত্র ১০ রান। 

প্রথম বলেই বেন স্টোকসকে লেগ সাইড দিয়ে ছক্কা। দ্বিতীয় বলে লং অন দিয়ে আরেকটা বিশাল ছক্কা। রানের ব্যবধান কমে এসে দাঁড়াল ৪ বলে ৭-এ। তৃতীয় বলে আবারও ছক্কা। এবার লং অফের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা। তাতেই জয় নিশ্চিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বাকি আর এক রান। বল বাকি তিনটি। কিন্তু কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের ওপর যেন তখন অসুর ভর করেছে। সুতরাং, এক রান নিয়ে হাত নষ্ট করার কী প্রয়োজন। চতুর্থ বলেও তাই বিশাল এক ছক্কা। ব্র্যাথওয়েটের শেষ ছক্কা গ্যালারিতে আছড়ে পড়ার আগেই দে-ছুট স্যামি-গেইলদের। মাঠের মধ্যেই বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন ক্যরিবীয়রা। 

অথচ এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টসে জিতে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইংল্যান্ডকে। অধিনায়ক জো রুটের ৩৬ বলে ৫৪ ও বাটলারের ২২ বলে ৩৬ রানের ইনিংসে ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৫ রান দাঁড় করায় ইংলিশরা। ক্যারিবীয়দের হয়ে ব্র্যাভো ও ব্র্যাথওয়েট ৩টি করে উইকেট লাভ করেন। 

শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রানে চার্লস, গেইল, সিমন্সকে হারিয়ে ফেলে দ্বীপ অঞ্চলের দেশটি। পরে ব্র্যাভোকে নিয়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন স্যামুয়েলস। ব্র্যাভোকে দলীয় ৮৬ রানে বিদায় করে ইংলিশদের ম্যাচে ফেরান রশিদ। এরপর দলীয় ১০৪ ও ১০৭ রানে রাসেল ও অধিনায়ক স্যামিকে ফিরিয়ে ইংলিশদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখান উইলি। এরপরই ম্যাচে নাটকীয় মোড়। মাঠে নেমে স্যামুয়েলসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ব্র্যাথওয়েট। সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৫৪ রানের জুটি গড়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলে মাঠ ছাড়েন স্যামুয়েলস-ব্র্যাথওয়েট জুটি। 

স্যামুয়েলস ৬৬ বলে ৯ চার ও ২ ছয়ে ৮৫ রান ও ব্র্যাথওয়েট ১০ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। দলের ভঙ্গুর অবস্থায় দুর্দান্ত অর্ধশতক করা স্যামুয়েলস প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার ও পুরো টুর্নামেন্টের ব্যাটিংয়ে অসাধারণ পারফর্ম করায় ভারতের বিরাট কোহলি প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার লাভ করেন। 

এএ /জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • খেলা এর সর্বশেষ
  • খেলা এর পাঠক প্রিয়