মানসিকতা বদলের লড়াই সৌম্যর

প্রকাশ | ২৮ মার্চ ২০১৯, ২২:২৭

স্পোর্টস ডেস্ক
ফাইল ছবি

ক্রাইস্টচার্চের বীভৎস স্মৃতি ভুলতে দেশে এসেই নেমে পড়েছেন ব্যাটে-বলে বাইশ গজে। নিউজিল্যান্ড সফরে একটা টেস্ট সেঞ্চুরি ছাড়া বলার মতো কিছুই দেখাতে পারেননি সৌম্য সরকার। এটাও তো কম বীভৎস নয়! তবে সৌম্য শুরু করতে চান নতুনভাবে।

সৌম্যর দলে থাকা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই টাইগার ক্রিকেটের ভক্তদের। গত কয়েকটি সিরিজে গুটি কয়েক ম্যাচ ছাড়া যেন ত্রিশ রানের কোটা থেকে বেরোতেই পারছেন না এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এর কারণ কি? সৌম্যর সহজ স্বীকারোত্ত্বি, কারণটা মানসিকতায়।

নিজের দিনে প্রতিপক্ষকে একাই উড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন এই তরুণ ক্রিকেটার, কিন্তু কোথায় যেন দুর্বলতা ধরা দেয় বারবার। এর থেকে বের হবার লড়াইটা বিশ্বকাপের বিমান ধরার আগেই শেষ করতে চান তিনি।

চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও সৌম্যর ব্যাটে রান নেই। এর মাঝে বিসিবি প্রধান একরকম ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের দলে সৌম্যর থাকার বিষয়।

বিসিবি প্রধানের সঙ্গে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজার মানসিকতা বদলের কথাটা একটু যোগ করে যদি সৌম্য চান তবে ঠিকই পরিবর্তন করতে পারেন নিজেকে। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, আপাতত তার কাজ মানসিকতা পরিবর্তনের।

সৌম্য এই পরিবর্তনের একটা বড় সুযোগ মানছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে।

‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা চলছে। যে কয়টা ম্যাচ পাব, চেষ্টা করব লম্বা সময় ব্যাটিং করার। যেটা হোক, বল বেশি খেলি বা রান বেশি করি, মাঝখানে (উইকেটে) যে পরিস্থিতি থাকে, সেটি নিয়ে একটু বেশিক্ষণ চিন্তা করা, ওর ভেতরেই। আর দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলা গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি এভাবে খেলতে থাকি, সেসব তাহলে আমার মধ্যে বেশি গড়ে উঠবে।’

বেশ লম্বা সময় ধরেই সৌম্য একটা যায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছেন। ভালোভাবেই ইনিংস শুরু করলেও ৩০ বা ৪০ রানের ভেতরই আটকে যায় ইনিংস। এই সমস্যা থেকেও বের হবার পথ খুঁজছেন তিনি।

‘শুধু আমি না। ঘাটতি থাকে সবার ভেতরই থাকে কিছু না কিছু। আমার কাছে ম্যাচ প্রস্তুতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গে, উইকেটে থাকার সময় পরিকল্পনা অনেক ভালো থাকতে হবে। আমি যে ৩০-৪০ রানের ভেতর আউট হয়ে যাচ্ছি, ম্যাচের পরিস্থিতিতে কিভাবে ওই জায়গা থেকে বের হওয়া যায়। বাইরে থেকে চিন্তা না করে আমি যদি ওই সময় অন্যভাবে খেলি। এই ধরনের পরিকল্পনা করছি।’

গত বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মাত্র একটা ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা দিয়ে। তাতেও কি দুর্দান্ত ছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে তো পাকাপোক্ত হয়েই যাবেন যদি দলে সুযোগ হয়। আছে বাড়তি চাপ। গতবার জুনিয়র থাকলেও এবার ভার নিতে হবে দলের। তবে কি ভাবনা?

‘গত বিশ্বকাপে একেবারেই নতুন ছিলাম। এবার যদি সুযোগ পাই, পরিকল্পনা একটু ভিন্ন থাকবে। তখন জুনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে যেভাবে মুক্ত মনে খেলেছি, এখন হয়তো অতটা মুক্তভাবে খেলা যাবে না। একটু চাপ থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যতটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে বিশ্বকাপে সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। যে বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলেছি, ওখানে যে সাহস নিয়ে খেলেছি, সেটা ধরে রাখার চেষ্টা থাকবে।’

এমআর/