logo
  • ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

সেদিন টিম হোটেলে সবাই কেঁদেছিল: সুনীল যোশি

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৯:০৫ | আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৯:১৪
সুনীল যোশি
অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া, পরিবারের কাছে ফেরা, আবারও দেশের হয়ে লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নেয়া। তামিম-মাহমুদুল্লাহরা অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন সেদিন। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে আল নূর মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ৪ বাংলাদেশিসহ নিহত হয়েছেন ৫০ জন।

bestelectronics
গত ১৫ মার্চ, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা জুমার নামাজ পড়তেই রওয়ানা হয়েছিল ওই মসজিদের উদ্দেশে। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলন থাকায় কিছুক্ষণ দেরি হয় মসজিদে যেতে।

এই কিছুক্ষণ দেরি হওয়া সময়ের ভেতরই ঘটে যায় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। মসজিদের গেটে গিয়ে তামিমরা দেখল রক্তাক্ত মানুষের লাশ পড়ে আছে। অচেনা এক নারী বাংলাদেশ দলের বাসের কাছে এসে নিষেধ করল তারা যেন না যায় মসজিদে। এরপরই মসজিদের পাশে হ্যাগল পার্ক দিয়ে কোনমতে হ্যাগলি ওভালের মাঠে গিয়ে আশ্রয় নেয় সবাই।

পরের দিন ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি। এমন ঘটনার পর দুই বোর্ডের সম্মতিতে বাতিল হয় ম্যাচটি। যে কারণে ১৭ মার্চ ফিরে আসে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা।

দল ফিরলেও কোচিং স্টাফের অনেকে রওয়ানা করেন নিজ দেশের উদ্দেশে। তেমনই দলের স্পিন বোলিং কোচ সুনীল যোশির গন্তব্য হয় নিজ দেশ ভারতে।

সেখানে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ তে দেয়া সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন সেদিনের বর্ণনা।

যোশির সোজা কথা, তামিমরা সেদিন যে ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল তার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে কয়টা দিন।
তামিমরা মসজিদের উদ্দেশে রওয়ানা করলেও ওই সময়টায় টিম হোটেলেই ছিলেন যোশি। ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকায় পরে যাবেন বলেই টিম বাসে উঠেননি তিনি।

‘আমি তখন হোটেলেই ছিলাম। হঠাৎ টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট ফোন করে জানালো, হোটেলেই থাকতে। বাইরে গোলাগুলি হচ্ছে তাই বের যেন না হই। পরে যা শুনলাম তাতো সবারই জানা।’

তামিমদের বেঁচে ফেরায় ভাগ্য আর অপরিচিত ওই নারীকে কৃতিত্ব দেন ৪৮ বছর বয়সী এই ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার।

‘ভাগ্য যদি ভালোই না হতো তা হলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সংবাদ সম্মেলনও শেষ হয়ে যেত নির্দিষ্ট সময়ে। একে তো দেরি হয়েছে কিছুক্ষণ, তার উপর মসজিদের গেটে এক অপরিচিত নারী এসে মসজিদে যেতে নিষেধ না করলে ঘটে যেতে পারতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা।’

হ্যাগলি ওভালের ড্রেসিং রুমে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থেকে হোটেল ফেরার পর স্বাভাবিক দেখা যায়নি কাউকে। সবাই কেঁদেছে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে। এমনটাই তার দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন যোশি।

‘ছেলেরা রাস্তার পাশে এত লাশ পড়ে থাকতে দেখে নিজেদের স্বাভাবিক রাখতে পারেনি। হোটেলে ফিরে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে কেঁদেছে। সেদিন রাতে একা ঘুমায়নি কেউ। কয়েকজন মিলে একটা রুমে থেকেছিল।’

এমআর/ এসএস

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়