• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ৪ মাঘ ১৪২৫

কেমন ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়?

সাইফ শুভ, আরটিভি অনলাইন
|  ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৭ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৫
১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে সূচনা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন দিগন্তের। মালয়েশিয়া অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে তৎকালীন ক্রিকেটের পরাশক্তি কেনিয়াকে পরাজিত করে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায় বাংলাদেশ। এর ঠিক দুই বছর পর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করে লাল-সবুজেরা।

প্রথমবার অংশ নিয়েই পরাক্রমশালী পাকিস্তান ও পরীক্ষিত স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেয় আকরাম খান- খালেদ মাহমুদ সুজনরা। এরপরের বছর  ২০০০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট পা রাখে ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত সংস্করণ টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায়।

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ৪০০ রান করে বিশ্ব ক্রিকেটকে এক আগমনী বার্তা দেয় টেস্টের নতুন সদস্যরা। দলপতি বুলবুল খেলেন ১৪৫ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেললেও দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতায় ম্যাচটিতে ৯ উইকেটে হারতে হয় ভারতের কাছে। সেদিন হারলেও ক্রিকেট পাগল এই জাতির মনে একটি আশার সঞ্চার হয়, হয়ত ক্রিকেট বিশ্বে ছড়ি ঘুড়িয়ে লাল-সবুজের পতাকাটা বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরবে টাইগাররা।

সেই আশা কিছুটা শঙ্কায় পরিণত হয় যখন পরবর্তী ৫ বছরে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় দূরে থাক বেশিরভাগ ম্যাচেই ইনিংস পরাজয় হতে হতো।

টেস্ট যেমন ধৈর্যের খেলা, ঠিক এই ফরম্যাটে সাফল্য পেতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে খেলোয়াড় ও সমর্থকদেরও। সেই ধৈর্যের অবসান ঘটে ঠিক পাঁচ বছর পর ২০০৫ সালে এসে।

সাদা পোশাকের ক্রিকেটে প্রথম জয়টি আসে ৩৪ ম্যাচ পর। বর্ণবাদ বিতর্কে জর্জরিত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসে কাঙ্ক্ষিত জয়টি। আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। ১০ জানুয়ারি, ২০০৫ সালে আজকের দিনে আসে বহু প্রতীক্ষার সেই জয়।

৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ম্যাচের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অধিনায়কের ৯৪ রান, রাজিন সালেহ'র ৮৯ ও নাফিস ইকবালের ৫৬ রানের সুবাধে ৪৮৮ রানের বড় স্কোর পায় ডেভ হোয়াইটমোরের শিষ্যরা।

জবাবটাও ভালো দিচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক তাদেন্দা তাইবুর ৯২ রানের ইনিংসের পর ৩১২ রানে অলআউইট হয় সফরকারীরা। বাংলাদেশের আসল কাজটা করেন মোহাম্মদ রফিক। ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ১৭৬ রানের লিড এনে দেন এই বামহাতি অর্থোডক্স।

দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই বাশারে সওয়ার হয় টাইগাররা। এবার অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৫৫ রান। ৯ উইকেটে ২০৪ রান করে প্রথমবারের মতো ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।

জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তবে এবার বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে আসেন আরেক বামহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। তার ৬ উইকেটে মাত্র ১৫৪ রানে অলআউট হয় আফ্রিকার দেশটি। ২২৬ রানের স্বস্তির জয় পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এই জয়ে প্রথমবারের মতো বাংলদেশের পতাকা নিয়ে 'ল্যাপ অব অনার' করে বাশার-মাশরাফিরা। এমন দৃশ্য দেখার জন্যই ৫ বছর অপেক্ষা করে বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেট সমর্থকরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ- ৪৮৮ ও ২০৪/৯ ডি

জিম্বাবুয়ে- ৩১২ ও ১৫৪

ফল: বাংলাদেশ ২২৬ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: এনামুল হক জুনিয়র।

এস/এমআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়