• ঢাকা শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬

কিভাবে খেলতে হয়, বাবার কাছে শিখেছি: সাদমান

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:০২
এলেন, দেখলেন, জয় করলেন কথাটি আজ হারে হারে উপলব্ধি করলেন বাংলাদেশের তরুণ ওপেনার সাদমান ইসলাম। শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাদা পোশাকে অভিষেক হয় চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটারের।

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান টস জিতে ব্যাটিং নিলে ম্যাচের প্রথম বলটা মোকাবেলা করতে হয় ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে।

western প্রথম দেখলে কেউ হয়তো ভাবতে পারবে না যে আজই অভিষেক হয়েছে সাদমানের। যাকে বলে একেবারে ‘সলিড ব্যাটিং স্টান্স’, দারুণ ডিফেন্স, ফ্রন্ট ফুট-ব্যাক ফুটের ব্যবহার সবই ছিল দেখার মতো। পুরো টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে তুলে ১৯৯ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন এই বামহাতি ব্যাটসম্যান। দিন শেষে ৫ উইকেটে ২৫৯ রান নিয়ে দলও রয়েছে ভালো অবস্থায়। প্রথমদিনের সেরা খেলোয়াড়ও তিনি। তাই দলের প্রতিনিধি হয়ে যে সংবাদ সম্মেলনে দেখা যাবে তা অনুমেয় ছিল।

ব্যাটিংয়ে নার্ভাস না দেখা গেলেও ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় দলের হয়ে সংবাদ সম্মেলনেও ঠিকই নার্ভাস ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন পরিবেশ, সংবাদ সম্মেলন, একটু তো নার্ভাস থাকবোই। কিন্তু ঠিক আছে। কথা তো বলতেই হবে।’

ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে পা রাখার সবচেয়ে বড় অবদান তারা বাবার উল্লেখ করে সাদমান বলেন, ‘বাবার হাত ধরেই ক্রিকেটের জন্য তৈরি হয়েছি। আব্বু সব সময় ক্রিকেটে সহযোগিতা করেছেন। আমি সব সময় ক্যাম্পে যেতাম। অনূর্ধ্ব ১৫-১৭ ক্যাম্পে আমাকে নিয়ে যেতেন। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। তখন থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল খেলোয়াড় হবো। কিভাবে খেলতে হয়, কিভাবে লাইফ সেট করতে হয় ক্রিকেটারদের, ওগুলো এখনও আমাকে বাবা বলে।’

সাদমান যে বাংলাদেশ দলে থিতু হতে এসেছেন তা বোঝা গেল তার কথাতেই। অভিষেক ম্যাচে ৭৬ রান করেও সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরির চাওয়া তো সবারই থাকে। ওরকম কোনও হতাশা নেই। দলের জন্য যতটুকু দেওয়ার দরকার ছিল, আমি সেরকম ব্যাটিং করতে চেষ্টা করেছি। হয়তো পুরোটা পারিনি।’

ব্যাটিংয়ের সময় সাকিব-সৌম্যকে সঙ্গে পেয়েছিলেন সাদমান। পরিণতদের কাছ থেকে ক্রিজে ব্যাটিং অভিজ্ঞতা জানাতে তিনি বলেন, ‘উনারা তো আমার থেকে অনেক অভিজ্ঞ। আমাকে সব সময় বলেছেন, তুমি যেভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটিং করো, তুমি সে রকম ভাবেই খেলো’।

প্রথম দিন শেষে দল ভালো অবস্থায় আছে বলে মনে করেন দেশের ৯৪তম এই টেস্ট খেলুড়ে। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অবস্থা আজকে অনেক ভালো। আগামীকাল আমাদের পুরো দিন বাকি আছে। চেষ্টা করবো আমাদের দলের যে পরিকল্পনা, সে অনুযায়ী খেলতে। আশা করি কাল আল্লাহ আরও ভালো কিছু করে দেবেন।’

ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সাকিব-মাহমুদুল্লাহ জুটি বাংলাদেশকে কতদূর নিতে পারে তা হয়তো আগামীকালের জন্যই তোলা থাক। তবে ব্যাটসম্যান সাদমান নিজেকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়।

এস/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়