
ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিকসে যিনি পারদর্শী তাকেই প্রকৃত অলরাউন্ডার বলা যায়। তেমনি একজন চামেলি খাতুন। বাংলাদেশের জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের হয়ে ১৯৯৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মাঠ মাতিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত আছেন তিনি।
২০১০ সালে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের রানার্সআপ হওয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন চামেলি। রাজশাহীর দরগাপাড়ার ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ বাসায় ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সাবেক এই টাইগ্রেস ক্রিকেটার এখন বিছানায় কাতরাচ্ছেন। প্রতি মুহূর্তে মেরুদণ্ডের ব্যথায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
প্রায় ৮ বছর আগে জিম করার সময় লিগামেন্ট ছিড়ে যায় চামেলির। মেরুদণ্ডের দুপাশে থাকা নরম ডিস্কগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাচ্ছে তাঁর শরীরের বাম-পাশ।
বাবা, মা, ও চার ভাই বোনের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হওয়ায় হচ্ছে না পরিপূর্ণ চিকিৎসা। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন তিনি। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুস্তাফিজ, রুবেলসহ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এগিয়ে এসেছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে দেশে চিকিৎসা করাতে চাইলেও চামেলি ও তার পরিবার চায় বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করাতে। সেই প্রেক্ষিতে প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন চামেলির।
এবার তার আবেদনে সাড়া দিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
এ প্রসঙ্গে চামেলি বলেন, লিটন স্যার (খায়রুজ্জামান লিটন) এসেছেন, তিনি আমাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এজন্য আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও বিসিবিকে সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে চামেলি বলেন, ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেকেই আমার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই হাবিবুল বাশারকে। আজকে তার মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে (সংবাদমাধ্যম) পেয়েছি।
জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের এই অলরাউন্ডার আরও বলেন, আমি নিজেকে এখনও সেরা খেলোয়াড় মনে করি। এত কষ্টের মধ্যে আমি ঘুড়ে দাঁড়াতে চাই। প্রমাণ করতে চাই আমি চামেলি, চামেলির জায়াগতেই আছি।
এ বিষয়ে রাজশাহীর মেয়র লিটন বলেছেন, আমার মনে হয়েছে রাজশাহীর কীর্তি সন্তান হিসেবে চামেলির পাশে দাঁড়ানো অমাদের কর্তব্য। তার চিকিৎসার জন্য যতটুকু প্রয়োজন আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করব। তাদের পরিবারের জন্য বাস ভবন নির্মাণের নগরের স্বচ্ছল বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করব।
আরও পড়ুন :
এস/ওয়াই




